Advertisement

নবান্ন অভিযান

আরজি করের নির্যাতিতার মা-ই পানিহাটিতে লড়ছেন! আরও ১৯ কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি, বাকি রইল আরও ১৯

আরজি কর হাসপাতালে নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা-কেই পানিহাটি কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়ার টিকিট দিল বিজেপি। বুধবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের আরও ১৯টি কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে তারা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ২০:০২
BJP releases 3rd of candidates for West bengal assembly election 2026

পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন আরজি করে নির্যাতিতার মা-ই। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা-কেই পানিহাটি কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়ার টিকিট দিল বিজেপি। বুধবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের আরও ১৯টি কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে তারা। আরও ১৯টি কেন্দ্র বাকি রয়েছে।

বিজেপির তৃতীয় দফার তালিকায় উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু কেন্দ্রের নাম রয়েছে। কোচবিহার দক্ষিণে রথীন্দ্রনাথ বসুকে প্রার্থী করা হয়েছে। রায়গঞ্জের প্রার্থী হয়েছেন দীনেশ সরকার। এ ছাড়া, ইসলামপুরে চিরঞ্জিৎ রায়, হেমতাবাদে হরিপদ বর্মণ, ইংরেজ বাজারে অম্লান ভাদুড়িকে টিকিট দিয়েছে বিজেপি। নদিয়ার শান্তিপুর থেকে লড়বেন স্বপন দাস। হাওড়া মধ্য আসনে বিপ্লব মণ্ডল, উত্তরপাড়ায় দীপাঞ্জন চক্রবর্তী, সিঙ্গুরে অরূপকুমার দাস, চন্দননগরে দীপাঞ্জনকুমার গুহ, চুঁচুড়ায় সুবীর নাগ, হরিপালে মধুমিতা ঘোষ, তমলুকে হরেকৃষ্ণ বেরা, মেদিনীপুরে শঙ্কর গুছাইত, পূর্বস্থলী দক্ষিণে প্রাণকৃষ্ণ তপাদার টিকিট পেয়েছেন।

কাটোয়ায় বিজেপির টিকিটে লড়বেন কৃষ্ণ ঘোষ, সাঁইথিয়ায় লড়বেন কৃষ্ণকান্ত সাহা এবং নলহাটিতে বিজেপি প্রার্থী করেছে অনিল সিংহকে।

আরজি করে নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা যে বিজেপি প্রার্থী হচ্ছেন, তা আগেই আন্দাজ করা গিয়েছিল। তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন, বিজেপির টিকিটে লড়তে চান। তার পর সম্প্রতি তিনি এবং তাঁর স্বামী অর্থাৎ, নির্যাতিতার বাবা বিজেপিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ দেন। যদিও নির্যাতিতার মায়ের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি তালিকা প্রকাশের আগে দল নিশ্চিত করেনি। শুভেন্দু অধিকারীরা দাবি করছিলেন, প্রার্থিপদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় দিল্লি থেকেই। বুধবার সেই জল্পনার অবসান হল।

পানিহাটি কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটে লড়ছেন বিদায়ী বিধানসভার মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ। সিপিএম ওই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে কলতান দাশগুপ্তকে। এ ছাড়া, উত্তরপাড়ায় সাংসদ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। সিপিএমের প্রার্থী হয়েছেন মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তাঁদের বিরুদ্ধে বিজেপি টিকিট দিল প্রাক্তন এনএসজি কমান্ডো দীপাঞ্জনকে।

আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ফল জানা যাবে ৪ মে। ইতিমধ্যে তৃণমূল সব আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। সিপিএম দু’টি তালিকা প্রকাশ করেছে। বিজেপি তিনটি তালিকা প্রকাশের পরেও ১৯টি কেন্দ্র বাকি থাকল। কংগ্রেস এখনও কোনও প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করেনি।

সব রাজনৈতিক দলই পুরোদমে ভোটের প্রচার শুরু করে দিয়েছে। ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সেখানে বিরোধী দলনেতার লড়াই হবে। তবে ভবানীপুরের সঙ্গে নন্দীগ্রামেও শুভেন্দুকে প্রার্থী করেছে দল।

২০২৪ সালের অগস্টে আরজি করে রাতের ডিউটিতে কর্মরত এক চিকিৎসক-পড়ুয়াকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে আজীবন কারাবাসের শাস্তি দিয়েছে আদালত। তবে পুলিশ এবং সিবিআইয়ের তদন্তে একাধিক বার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার মা। দাবি, নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। প্রার্থিতালিকা প্রকাশ্যে আসার পর তিনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকেই পানিহাটিতে প্রচারে নামবেন। নির্যাতিতার মায়ের কথায়, ‘‘আমি প্রার্থী হয়েছি, এটা আমার কাছে যন্ত্রণার। আমি জিতলে পানিহাটিবাসী জিতবে। যারা প্রতিবাদ করতে ভুলে গিয়েছিল, আমি তাদের হয়ে প্রতিবাদ করব। পানিহাটির দুরবস্থা দূর করার চেষ্টা করব। মানুষের আরও সচেতন হওয়া দরকার। আমি মানুষের সেবা করতে পারলে মেয়েও খুশি হবে। দলের কর্মীরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। গোটা পশ্চিমবঙ্গে পদ্মফুল ফুটুক। তৃণমূলের মূল উপড়ে ফেলা হোক।’’

বিজেপির টিকিটে ভোটে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। বলেন, ‘‘পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়েই বলছি, আপনারা যেটা করলেন, তা দ্বিচারিতা। আরজি করে নির্যাতিতার মৃত্যুর প্রতিবাদ আমরাও করেছিলাম। কিন্তু আমরা বিকৃত প্রচারের বিরোধিতা করেছিলাম। সেই সময় কলকাতা পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীকে ধরে এনেছিল। আপনারাই সিবিআই তদন্ত চান। সেই সিবিআইয়ের তদন্তে দেখা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশ যাকে ধরেছিল, সেই দোষী। পরে আপনারা বলেছেন, সিবিআই বিচার দেয়নি। সিবিআই কাদের? বিজেপির। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক মিনিটও সময় দেননি আপনাদের। সেই বিজেপির প্রার্থী হলেন। গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। কিন্তু এটা দ্বিচারিতা। নিজেদের সম্মান নিজেরাই নষ্ট করছেন। আমরা মৃত্যুদণ্ড চেয়েছি। সিবিআই তা করাতে পারেনি। মেয়ের মৃত্যু নিয়ে নিজেরাই রাজনীতি করে ফেললেন।’’

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
BJP West Bengal Politics
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy