রাজ্যে প্রথম দফার ভোটে ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে কারা ভোট দিতে পারবেন, তার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকা অনুযায়ী, ওই ১৫২টি কেন্দ্রে মোট তিন কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৭১ জন ভোটার ভোট দিতে পারবেন। তাঁদের মধ্যে এক কোটি ৮৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ৪৯৬ জন পুরুষ এবং এক কোটি ৭৫ লক্ষ ৭৭ হাজার ২১০ জন মহিলা ভোটার। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ৪৬৫। প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়া শেষ হওয়ার পরে গত ৬ এপ্রিল মধ্যরাতে ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ়’ করে দেওয়া হয়েছে। বিধানসভা কেন্দ্রের বুথভিত্তিক সেই তালিকাই শনিবার প্রকাশ করেছে কমিশন।
তালিকা প্রকাশ হয়ে গেলেও ভোটারের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বিতর্ক ও প্রতিবাদ অবশ্য অব্যাহত। যোগ্য কোনও ভোটারের নাম বাদ রেখে যাতে নির্বাচন করা না হয়, সেই দাবি নিয়ে এ দিন ধর্মতলা থেকে শিপিং কর্পোরেশনে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর পর্যন্ত মিছিল করেছে বামফ্রন্ট, আইএসএফ ও সহযোগী দলগুলি। পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে এ দিনই নির্বাচনী সভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আহ্বান জানিয়েছেন, ‘‘এসআইআর-এর লাইন যত লম্বা হয়েছে, মানুষের মন তত শক্ত হয়েছে। তৃণমূলকে ভোট দেবেন। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁদেরই দায়িত্ব নিতে হবে, তিন জনের ভোট তৃণমূলের বাক্সে ফেলতে হবে।’’
প্রথম দফায় বিধানসভা ভোট হবে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, দার্জিলিং, দুই দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার ১৫২টি কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রগুলিতে ‘বিবেচনাধীন’ তালিকা থেকে যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) আওতাভুক্ত মোট ১৪ লক্ষ ২৮ হাজার ৭৭১ নাম বাদ গিয়েছে বিচারকদের বিচারে। তবে এর পরেও এই তালিকায় ফর্ম-৬ দাখিল করে কত নতুন নাম যুক্ত হয়েছে বা ফর্ম-৭’এর মাধ্যমে আর কত নাম বাদ পড়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশনের তরফে এখনও পাওয়া যায়নি। সেই তথ্য সামনে আসার আগে ভোটার যোগ-বিয়োগের সম্পূর্ণ চিত্র পরিষ্কার হচ্ছে না। এই পর্বে অনাবাসী ভোটার রয়েছেন ৪৩ জন, বিশেষ ভাবে সক্ষম ভোটার দু’লক্ষ ৫৩ হাজার ২৪৪। প্রথম দফায় ৮৫ বছরের বেশি বয়সের ভোটার দু’লক্ষ ৪ হাজার ৬১৮ এবং শতায়ু ভোটারের সংখ্যা ৪০২৫ জন।
কলকাতায় এ দিন সিইও দফতর পর্যন্ত মিছিলে ছিলেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, শ্রীদীপ ভট্টাচার্য, সিপিআইয়ের গৌতম রায়, আরএসপি-র মনোজ ভট্টাচার্য, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, ফরওয়ার্ড ব্লকের দেবব্রত রায় প্রমুখ। অন্যায় ভাবে ভোটারদের নাম কাটার প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশিই, নথির অভাব দেখিয়ে যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের জবান তুলে এনে ভিডিয়ো-বার্তা নিয়ে প্রচার শুরু করেছে সিপিএম। সেখানে নাম কাটা যাওয়া ভোটারেরা বলছেন, এমন নথি তাঁদের কাছে চাওয়া হয়েছে, যা বন্যায় বা নদী ভাঙনে তলিয়ে গিয়েছে। উদ্বাস্তু বা ঘরহারা মানুষের পক্ষে কমিশনের নির্ধারিত নথি জোগাড় করা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে। আবার এমন ভোটার আছেন, যাঁরা নথি জোগাড় করে জমা দিলেও তা আপলোড করার ক্ষেত্রে ‘প্রভাব’ খাটানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ও কমিশনের পাশাপাশি রাজ্য সরকারকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন এই অংশের মানুষ। এবং এঁদের বেশির ভাগই বলেছেন, তাঁরা বহু দিন ধরে এই রাজ্যের বাসিন্দা। তাঁরা অনুপ্রবেশকারী নন!
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)