উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে অশান্তির ঘটনায় পলাতকদের খুঁজে অবিলম্বে পুলিশকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন।
রবিবার রাত ১১টা নাগাদ জগদ্দলে তৃণমূল এবং বিজেপি প্রার্থীর মধ্যে অশান্তি হয়। বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান আহত হয়েছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে রিপোর্ট তলব করেছিল কমিশন।
কমিশন সূত্রে খবর, রাত ১১টা নাগাদ বিজেপি প্রার্থী জগদ্দল থানায় এফআইআর দায়ের করতে চান। ওই খবর পেয়ে তৃণমূলের প্রায় ২০০ জন সমর্থক থানায় গিয়ে উত্তেজনা তৈরি করেন। পরে তৃণমূল প্রার্থীও সেখানে উপস্থিত হন। তাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
থানার সামনে আবার দুই পক্ষ অশান্তিতে জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, বোমা, বন্দুক এবং ইট-পাটকেল ব্যবহার করা হয়েছে। ওই ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান গুরুতর ভাবে আহত হন।
আরও পড়ুন:
পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট থেকে বিশাল বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ইতিমধ্যেই চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতেরা হলেন কৌশিক দাস, সিকন্দার প্রসাদ, গোপাল রাউত এবং শ্যামদেব সাউ।
আরও কয়েক জন অভিযুক্ত পলাতক। কমিশনের নির্দেশ, পলাতকদের খুঁজে বার করে গ্রেফতার করতে হবে। এবং এলাকায় যাতে শান্তি বজায় থাকে, তা পুলিশকে নিশ্চিত করতে হবে।
রবিবার রাতে গন্ডগোলের সূত্রপাত হয় জগদ্দলের আটচলা বাগানে। ওই এলাকায় সন্ধ্যায় দুই দলের সংঘর্ষের খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং র্যাফ নামে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে জগদ্দল থানায় নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংহকে নিয়ে উপস্থিত হন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার তথা জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী রাজেশ। বিজেপির অভিযোগ, সেখানেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাদের উপর হামলা চালিয়েছে। তাঁদের উপর ইটবৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করেন অর্জুন। থানা থেকে বেরিয়ে রাজেশ আঙুল তোলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। তাঁর কথায়, ‘‘আমার বিরুদ্ধে বিদায়ী চিফ মিনিস্টার মানুষকে উস্কেছেন। বলেছেন, সকলে বদলা নেবেন কি না। একটা থানার ভিতরে আমাদের উপর হামলা করা হয়েছে। আইসি-রা পালিয়েছেন। গুন্ডারা এসে আমাদের লোকেদের পিটিয়েছে।’’
পাল্টা ভাটপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী অমিত গুপ্তের অভিযোগ, তাঁদের এক কর্মীকে মারধর করেছে বিজেপি। সেই সময় অভিযোগ জানাতে এলে অর্জুন এবং তাঁর অনুগামীরা তাঁদের উপর চড়াও হন। এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, দু'পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইটবৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। রাতেও পুলিশবাহিনী মোতায়েন ছিল ওই এলাকায়।