E-Paper

পুনর্নির্বাচনের বিধি বদলাল কমিশন

কমিশন-কর্তাদের ব্যাখ্যা, আগে হিংসা-অশান্তি বা ভোটকেন্দ্রের গোলমালের বিস্তর অভিযোগ থাকলেও, পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সহজে নেওয়া হত না।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪৩
নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশন। ফাইল চিত্র।

ভোট-নিরাপত্তার প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। কিন্তু তার সবই নির্ভর করছে স্থানীয় স্তরে আধিকারিক-পুলিশের উপর। কমিশনের কড়াকড়ি সত্ত্বেও ভোটের দিন সব জায়গায় এই স্তরের আধিকারিকেরা সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন না করলে হিংসা-অশান্তি ঠেকানো মুশকিল। এই পরিস্থিতিতে শাস্তি এবং পুনর্নির্বাচন-সিদ্ধান্তের পরিধি বাড়াল নির্বাচন কমশন। জেলা-কর্তাদের বলে দেওয়া হয়েছে, ভোটারদের আটকানো, প্রভাবিত বা ভোটকেন্দ্রের মধ্যে বাধাসৃষ্টির যে কোনও ঘটনায় সেই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হবে সঙ্গে সঙ্গে। পদক্ষেপ হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধেও।

কমিশন-কর্তাদের ব্যাখ্যা, আগে হিংসা-অশান্তি বা ভোটকেন্দ্রের গোলমালের বিস্তর অভিযোগ থাকলেও, পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সহজে নেওয়া হত না। যদিও অতীতের ভোটে বার বার বিরোধীরা নানা জায়গায় প্রমাণ-সহ ভোটের প্রহসনের অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের জন্য কমিশনের দ্বারস্থ হতেন। এ বার সেই পরিস্থিতি বদলের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে কমিশন। জেলা-কর্তাদের বলে দেওয়া হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের পৌঁছতে না দেওয়া হলে, ভোটকেন্দ্রের দূরবর্তী এলাকাতেও তাঁদের বাধা দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রভাবিত করা ইত্যাদি হলেও, পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। বুথের ভিতরে যে বিশেষ ক্যামেরা বসানো থাকবে, তা যদি কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, করা হবে পুনর্নির্বাচন। ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ভোট-আধিকারিক, ভোটারদের প্রভাবিত করা, ভয় দেখানোর চেষ্টা হলেও একই পদক্ষেপ করা হবে। ফলে তেমন ক্ষেত্রে বিগত নির্বাচনগুলির তুলনায় পুনর্নির্বাচনের সংখ্যা যে বাড়তে পারে, তা অনুমান করাই যায়। এক কর্তার কথায়, “যেখানে গোলমালের ঘটনা ঘটবে, সেই এলাকাগুলি বেছে নিয়ে পুনর্নির্বাচনে আরও পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ফলে ভোট লুটের চেষ্টা রোখা হবে সে ভাবেই।”

এমনিতে ভোটকেন্দ্রের ভিতর এবং বাইরে সর্বক্ষণ ক্যামেরার নজরদারি রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি, ফ্লাইং স্কোয়াড, কুইক রেসপন্স টিম, স্ট্যাটিক সার্ভিল্যান্স টিম ইত্যাদি বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে সর্বক্ষণ থাকবে। কমিশনের সংশ্লিষ্ট নজরদারি-গাড়ির মাথায় সবদিক দেখার ক্যামেরা লাগানো থাকছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে কমিশনের কন্ট্রোলরুম থেকেই। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ-সহ এমন গাড়িগুলিতে থাকবে জিপিএস প্রযুক্তি। ফলে বোঝা যাবে, উপদ্রুত জায়গাগুলিতে আদৌ গাড়িগুলি ঘুরছে কি না। তা ছাড়া সেক্টর অফিসার, পর্যবেক্ষক, জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ অন্য আধিকারিকদেরও দায়বদ্ধ রাখছে কমিশন। ফলে এই সব নজরদারির ব্যবস্থার পরেও হিংসা-অশান্তি-ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের উপর দায় বর্তাবে। এ দিনই কমিশন একটি বার্তায় জানিয়েছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে ভোট প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে। ভোটারদের ভোটদানের সময়ে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে একাধিক পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Election Commission of India

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy