আচমকা ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রায় সকলেই পরিচিত। রাতে কিংবা ভোর হওয়ার মুখে অনেক সময়েই আচমকা ঘুম ভেঙে যায়। এ পাশ-ও পাশ করতে করতেই ফের ঘুমিয়ে পড়েন অনেকে। আবার কারও কিছুতেই দু'চোখের পাতা এক হয় না। ঘুমের মধ্যে কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঘুম ভাঙার পরই যাঁরা ঘুমিয়ে পড়েন, তাঁদের ঘুম যে ভেঙেছিল, সেটাই মনে থাকে না অনেক সময়। তবে কখনও রাতে প্রস্রাব করতে বা জল খেতে উঠলে, ভেঙে যাওয়া ঘুম চট করে আসতে চায় না।
চিকিৎসকেরা বলছেন, ঘুমের মধ্যে ঘুম ভেঙে যাওয়া, আবার কিছু ক্ষণেই ঘুমে ডুবে যাওয়া খুব সাধারণ বিষয়। ঘুম ভেঙে যাওয়ার পরে যদি ঘুম আসতে না চায়, ৮ থেকে ১, উল্টো ভাবে মনে মনে গুনতে হবে। তবে এই গোনাগুনির সময় কোনও ভাবেই ফোন বা আলো জ্বালিয়ে ঘড়ি দেখা যাবে না। আর প্রতিটি সংখ্যা গোনার সময় গভীর ভাবে শ্বাস নিতে হবে।
তবে এই পন্থা যদি ব্যর্থ হয়, উপায় আছে আরও। অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘরেই ধ্যান করুন। শুয়ে শুয়েও তা হতে পারে। একমনে কোনও বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। হালকা আলো জ্বালিয়ে কিছু পড়াশোনাও করা যেতে পারে। তবে মোবাইল নিয়ে ঘাঁটাঘাটি চলবে না কোনও মতেই।
ঘুম আসতে সাহায্য করে মেলাটোনিন নামক হরমোন। কিন্তু মোবাইলের ব্লু লাইট বা স্ক্রিনের আলো হরমোনের নিঃসরণে প্রভাব ফেলতে পারে, যা ঘুমের চক্র নষ্ট করতে পারে। সেই কারণে, মোবাইল দেখলে ঘুম আসতে দেরি হয়। তবে তা সত্ত্বেও যদি মোবাইল দেখতে ইচ্ছা হয়, একটু দূর থেকে দেখা যেতে পারে, যাতে চোখে আলো কম লাগে।
পাশাপাশি, নির্বিঘ্নে ঘুমের জন্য আরও কিছু পন্থা অনুসরণ করা যেতে পারে। হালকা গরম জলে স্নান করলে ঘুম ভাল হয়। ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত আধ ঘণ্টা আগে থেকে মোবাইল দূরে রাখা ভাল। এতে ঘুম আসা সহজ হয়। প্রতি দিন ঘুমোতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার সময় নির্দিষ্ট থাকলেও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম সম্ভব হতে পারে।