সাসপেন্ড, বিভাগীয় তদন্তের রিপোর্ট মন্ত্রককে

শুক্রবার রাতে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে সাসপেন্ড করে তাঁর বিরুদ্ধে ‘গুরুতর আচরণভঙ্গ’ (সিরিয়াস মিসকন্ডাক্ট) এবং নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে শৃঙ্খলাভঙ্গের পদক্ষেপ করতে বলেছে কমিশন।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৩৬

—প্রতীকী চিত্র।

পদ থেকে অপসারণ, সাসপেন্ড এবং বিভাগীয় তদন্তে আটকে রইল না শাস্তির খাঁড়া। রাজ্য বিধানসভার দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে এক পুলিশকর্তার সাসপেনশন ও বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে নথিবদ্ধ করার পথে হাঁটল নির্বাচন কমিশন। পুলিশ-প্রশাসনের কর্তাদের একাংশের মতে, এমন ‘কঠোর’ পদক্ষেপ অভূতপূর্ব। দ্বিতীয় দফার আগে কমিশনের এই মনোভাবকে আধিকারিকদের উদ্দেশে ‘বিশেষ’ বার্তা বলছে প্রশাসনের একাংশ।

শুক্রবার রাতে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে সাসপেন্ড করে তাঁর বিরুদ্ধে ‘গুরুতর আচরণভঙ্গ’ (সিরিয়াস মিসকন্ডাক্ট) এবং নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে শৃঙ্খলাভঙ্গের পদক্ষেপ করতে বলেছে কমিশন। এর পাশাপাশি কমিশনের নির্দেশ, এই সংক্রান্ত রিপোর্ট আইপিএস অফিসারদের ‘ক্যাডার নিয়ন্ত্রক’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠাতে হবে।

প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, তদন্তে ‘সিরিয়াস মিসকন্ডাক্ট’ প্রমাণিত হলে পদাবনতি, অপসারণ বা বরখাস্তের মতো কঠোর শাস্তির সুপারিশ হতে পারে। তদন্ত শেষে তেমন সুপারিশ করা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পদক্ষেপ করবে। গুরুতর শাস্তির সুপারিশ না হলেও বিষয়টি মন্ত্রকের কাছে নথিবদ্ধ থাকবে। সে ক্ষেত্রে ওই অফিসারের বাকি কর্মজীবনে পদোন্নতি-সহ নানা বিষয়ে সমস্যা হতে পারে। কমিশন সূত্রের বক্তব্য, বিধি অনুযায়ী, পর্যবেক্ষকেরা যে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির সঙ্গে কমিশনের নির্ধারিত জায়গায় কথা বলতে পারেন। তেমন একাধিক বৈঠকের ভিডিয়ো ‘অবৈধ’ ভাবে তোলানো হয়েছিল বলে ওই পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ। বিরোধী নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রুজু, তাঁদের প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগও আছে। ওই পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ঈশানী পালকেও সতর্ক করে কমিশন জানিয়েছে, নিচুতলার পুলিশকর্মী-আধিকারিকদের শৃঙ্খলা এবং নিয়ন্ত্রণে তাঁকেও সক্রিয় হতে হবে।

আধিকারিকদের অনেকের মতে, রাজ্য সফরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেছিলেন যে, কমিশন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করলে তা ভোটের পরেই মিটে যাবে না। কর্মজীবনে তা পাকাপাকি দাগ ফেলতে পারে। অতীতে ওই জেলাতেই বিজেপির তৎকালীন সভাপতি জে পি নড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনার পরে কয়েক জন পুলিশকর্তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ডেপুটেশনে নিতে চেয়েছিল। তবে শেষমেশ কঠোর পদক্ষেপ আর হয়নি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

police Election Commission

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy