রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে পুলিশকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, রাজ্য পুলিশের তরফে বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। প্রতিটি থানায় পৌঁছে গিয়েছে তা। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রাজনৈতিক সংঘর্ষে যুক্ত কত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা আগামী রবিবারের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্টের আকারে জানাতে হবে। সেই কাজের জন্য রাজ্য পুলিশের তরফে একটি ইমেল আইডি দেওয়া হয়েছে। কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, ওই ইমেল আইডি-তে তা বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছে।
প্রায় প্রতিদিনই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে চলেছে। কোথাও পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে, তো কোথাও প্রার্থীর প্রচারেবাধা দেওয়া ঘিরে এই সব রাজনৈতিক সংঘর্ষ ঘটছে। পুলিশের হিসেব মতো ভোট ঘোষণার পরে, অর্থাৎ, ১৫ মার্চ থেকে থানাগুলিকে প্রতিদিনের আইনশৃঙ্খলা রিপোর্ট কমিশনকে পাঠাতে হচ্ছে। সেই রিপোর্টের হিসাব মতো, গত বুধবার পর্যন্ত এক মাসে রাজ্যে ৩০৩টি রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন মাত্র ১৪৯ জন অভিযুক্ত। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারির এই সংখ্যায় খুশি নন কমিশনের কর্তারা। সে কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশের কর্তাদেরও।
তার পরেই নড়ে বসেছেন পুলিশকর্তারা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় যুক্তদের গ্রেফতারের জন্য বিশেষ অভিযান চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা।
এ দিকে, জামিন-অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে, এমন অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ-পর্যবেক্ষকেরা বিভিন্ন থানায় পরিদর্শনে গিয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই মতো জামিন-অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা দুষ্কৃতীদের ধরার বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি, এ বার রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় যুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বা গ্রেফতারির উদ্দেশ্যে বিশেষ পুলিশি অভিযান চালাতে বলা হয়েছে।
লালবাজার সূত্রের খবর, কলকাতা পুলিশ এলাকায় রাজনৈতিকসংঘর্ষের ঘটনা সব থেকে বেশি ঘটেছে ভাঙড়ে। সেখানে যাতে ভয়হীন পরিবেশে ভোট করা যায়, তার ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন। এ দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে ভাঙড়ে যান কলকাতার নগরপাল অজয় নন্দ-সহ পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। ভাঙড়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা।
কিছু দিন আগে জনৈক ব্যক্তি পশ্চিমবঙ্গ এবং কলকাতা পুলিশ কল্যাণ পর্ষদের সঙ্গে যুক্ত পুলিশকর্মী এবং অফিসারদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ করেছিলেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় রাজ্য এবং কলকাতা পুলিশকে। সূত্রের খবর, এই সূত্রেই পশ্চিমবঙ্গ এবং কলকাতা পুলিশ কল্যাণ পর্ষদের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কল্যাণ পর্ষদে জরুরি কাজের দায়িত্বে যাঁরা নেই,তাঁদেরই ওই ডিউটিতে পাঠাতে পুলিশ ইউনিটের প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। তা মেনেই ইউনিট প্রধানেরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)