E-Paper

সব বুথ স্পর্শকাতর ধরে নিয়েই প্রস্তুতি

বুথের গোত্র নির্ধারণ করা কমিশনের চিরাচরিত কাজ। তাতে সাধারণ, স্পর্শকাতর, উত্তেজনাপ্রবণ ইত্যাদি ভাগ থাকে বুথগুলি। কিন্তু বরাবর সেই পদ্ধতি চলে আসার পরেও ভোটের আগে, ভোটের সময়ে এবং পরের পরিস্থিতি নিয়ে আঙুল উঠে এসেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:০৮

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

আংশিক নয়, বরং সব ভোটকেন্দ্রকেই (বুথ) স্পর্শকাতর ধরে নিয়ে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে চাইছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, রাজ্যের প্রায় ৮১ হাজার বুথ এমন গোত্রের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ঠিকই, তার মধ্যে আবার একাংশকে অতি স্পর্শকাতর এবং অতি উত্তেজনাপ্রবণ হিসাবে বেছে নেওয়ার কাজ চলছে। অতীত ভোট-হিংসার ইতিহাস খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত হবে নিরাপত্তা পরিকল্পনা। সেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে জেলাসফর শুরু করেছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও), রাজ্যের বিশেষ এবং পুলিশ পর্যবেক্ষকেরা। তার পর চূড়ান্ত হবে বুথের গোত্র নির্ধারণের কাজ।

বুথের গোত্র নির্ধারণ করা কমিশনের চিরাচরিত কাজ। তাতে সাধারণ, স্পর্শকাতর, উত্তেজনাপ্রবণ ইত্যাদি ভাগ থাকে বুথগুলি। কিন্তু বরাবর সেই পদ্ধতি চলে আসার পরেও ভোটের আগে, ভোটের সময়ে এবং পরের পরিস্থিতি নিয়ে আঙুল উঠে এসেছে। কারণ, ভোটের হিংসা-অশান্তি ঠেকানো যায়নি। অভিজ্ঞ কর্তাদের বক্তব্য, এ বছরের ভোটের চরিত্র ভিন্ন। কারণ, এসআইআর পরবর্তী পরিস্থিতিতে এলোমেলো হয়ে গিয়েছে ভোটার-বিন্যাস। ফলে জেলায় জেলায় ক্ষমতা ধরে রাখা বা ক্ষমতায় আসার চেষ্টা কার্যত মরিয়া পর্যায়ে রয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় অশান্তি-গোলমালের খবর এসেছে। এই অবস্থায় ভোটারকে ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত ভয়হীন এবং প্রভাবমুক্ত পরিবেশে নিয়ে আসা বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সব বুথকে স্পর্শকাতর ধরেই নিরাপত্তা-কৌশল সাজাতে চাইছে কমিশন। এক কর্তার কথায়, “প্রতি বুথে ক্যামেরার নজরদারির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। অতি স্পর্শকাতর বা উত্তেজনাপ্রবণ বুথগুলিতে বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়বে। সঙ্গে বেশি থাকবে নজরদারিও।”

বিগত দিনের অভিযোগ—ক্যামেরা থাকলেও তা ঠিক ভাবে কাজ করত না। নজরদারি থাকত ঢিলেঢালা। এলাকায় এলাকায় আটকে দেওয়া হত ভোটারদের। বুথের ভিতরেও ভোটার, ভোটকর্মীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হত। কেন্দ্রীয় বাহিনী পর্যাপ্ত থাকলেও, তা ব্যবহার করতে দেখা যেত না সে ভাবে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সফরে এসে কমিশনের ফুল বেঞ্চ ইঙ্গিত দিয়েছিল, এ বারের ভোট হবে ব্যতিক্রমী। সেই সূত্রে সর্বাধিক জোর পড়েছে ভোট-নজরদারিতে। প্রতিটি বুথের ভিতর এবং বাইরে একটি করে ক্যামেরা থাকবে। যাতে ভোটকেন্দ্রের ভিতর (ভোটদান কক্ষ বাদে) এবং বাইরের পরিস্থিতি সর্বক্ষণ নজরে রাখা যায়। অতি স্পর্শকাতর বা উত্তেজনাপ্রবণ বুথগুলির ভিতরে একাধিক ক্যামেরার নজরদারি রাখা হচ্ছে। দায়বদ্ধ করা হয়েছে, সরকারি রিটার্নিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার, সেক্টর অফিসার, সাধারণ ও পুলিশ পর্যবেক্ষক থেকে জেলাশাসক পর্যন্ত সব আধিকারিককে।

প্রতি ১০টি বুথের জন্য একটি করে ক্যুইক রেসপন্স টিম বরাদ্দ থাকছে। সেই গাড়িগুলি ক্যামেরা এবং জিপিএস সুবিধাযুক্ত। ইতিমধ্যে প্রায় ৮১ হাজার বুথই কমিশনের কন্ট্রোল রুমের সার্ভারে যুক্ত হয়ে গিয়েছে ক্যামেরার নজরদারিতে। আপাতত ২৪০০ কোম্পানি করে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাবে একেকটি দফায়। অতি স্পর্শকাতর বা উত্তেজনাপ্রবণ বুথের সংখ্যাবৃদ্ধি হলে প্রয়োজনে বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়বে।

পরিস্থিতি এবং প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আগামী সপ্তাহে রাজ্যে আসতে পারেন সিনিয়র উপ নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী, অভিনব আগরওয়াল এবং এস বি জোশী। সূচি অপরিবর্তিত থাকলে সোমবার পশ্চিম বর্ধমান, মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমান ও হুগলি জেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে বুধবার তাঁরা বৈঠক করবেন মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিক, রাজ‍্যের পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Election Commission Vote

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy