নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য কী কী করণীয়, তা নিয়ে এ বার রাজ্যের পুলিশকর্তাদের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। মোট ১৬ দফা নির্দেশিকা দিয়েছে কমিশন। এই নির্দেশিকার কথা ইতিমধ্যে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। চিঠি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের সকল পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং রিটার্নিং অফিসারদেরও।
ব্যালট, ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট যাতে নিরাপদে এক স্থান থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া যায়, তা-ও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কোনও রকম অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে সভা এবং বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণেরও নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। বলা হয়েছে, নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও অপরাধের অভিযোগ এলে, তা তদন্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ করতে হবে। প্রচারের খরচ, রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন এবং প্রার্থী বা দলগুলি নির্বাচনী আইন সঠিক ভাবে মানছে কি না, সে দিকেও নজর রাখার কথা বলা হয়েছে। পুলিশকর্মীদের নিরপক্ষ ভাবে কাজ করার কথাও বলেছে কমিশন।
আরও পড়ুন:
সিইও দফতর থেকে জানানো হয়েছে, প্রচারের সময়ে এবং ভোটের সময়ে পোলিং স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। কেউ যাতে ভোটারদের ভয় দেখাতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে। ভোটার, প্রার্থী এবং নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত অফিসারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটের সঙ্গে যুক্ত সংবেদনশীল উপকরণ এবং পরিকাঠামোর নিরাপত্তার কথাও বলা হয়েছে চিঠিতে। এই সময়ে রাস্তাঘাটে সাধারণ ভোটারদের চলাচলে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক ব্যবস্থার উপর নজরদারির নির্দেশও দিয়েছে কমিশন।
চিঠিতে সিইও মনোজ লিখেছেন, পোলিং স্টেশন গোছাতে নির্বাচনী আধিকারিকদের সাহায্য করতে হবে পুলিশকে। গণনার সময়ে যাতে নিরাপদ পরিবেশ বজায় থাকে, তা-ও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ পেলে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। আদর্শ আচরণবিধি যথাযথ ভাবে পালন হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। ভোটারদের মনোবল বৃদ্ধি করতে হবে। কমিশন আরও বলেছে, সংবেদনশীল ভোটকেন্দ্রগুলি ঘুরে দেখতে হবে এবং সুষ্ঠু ভোট প্রক্রিয়ার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। গণনাকেন্দ্রগুলিও পরিদর্শন করে সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলেছে কমিশন।