তামিলনাড়ুতে ভোটের পর্যবেক্ষক হিসাবে কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে যেতে নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু চিকিৎসার কারণে তিনি অব্যাহতি চেয়েছেন। সুপ্রতিম কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন। ভোট ঘোষণা হওয়ার পরে, নির্বাচন কমিশন তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়। তাঁকে সিআইডি-র অতিরিক্ত ডিজি পদে বদলি করা হয়েছিল। ঘটনাচক্রে, যে সিআইডির তথ্যের ভিত্তিতেই মালদহ কাণ্ডের ‘মূলচক্রী’ আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে ধরা হয় বলে শুক্রবার জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘মালদহের ঘটনায় যে ধরা পড়েছে সে পাগড়িধারী, টাকাধারী, বিজেপির দালাল। হাতেনাতে সিআইডি গ্রেফতার করেছে।’’
এ বার সুপ্রতিমকে তামিলনাড়ুতে পর্যবেক্ষক করে পাঠাল কমিশন। বুধবার এই নির্দেশিকা জারি করেছে কমিশন। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সুপ্রতিমকে তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলি, অম্বাসমুদ্রম, পালায়মকোট্টাই নাঙ্গুনেরি এবং রাধাপুরমে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হল। সূত্রের খবর, তামিলনাড়ুতে তাঁকে না পাঠানোর আর্জি জানিয়েছেন সুপ্রতিম। চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে অব্যাহতি চেয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ভোটঘোষণার পর পরই রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে রদবদল করে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে বদলে ‘চমক’ ছিল। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশেও রদবদল করে কমিশন। কলকাতার নগরপাল বদলের নির্দেশ দেয় কমিশন। গত ৩১ জানুয়ারি কলকাতা পুলিশের কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সুপ্রতিম। ১৬ মার্চ তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেয় কমিশন। তাঁর জায়গায় আনা হয় অজয় কুমার নন্দকে। সুপ্রতিম সরকারকে এডিজি (সিআইডি)-র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সুপ্রতিমের সঙ্গে ওই দিনই রাজ্যের ডিজি পীযূষ পাণ্ডেকেও সরানো হয়। ১৫ মার্চ ভোট ঘোষণার পর ৩১ জন আইপিএস অফিসারকে সরিয়ে দেয় কমিশন। তাঁদের মধ্যে সুপ্রতিমও ছিলেন।
ঘটনাচক্রে, মালদহে বিচারকদের উপরে যে হামলা ঘটনা ঘটেছিল বুধবার, সেই ঘটনায় সুপ্রতিমের নেতৃত্বে সিআইডি শুক্রবার গ্রেফতার করে মূলচক্রীকে। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মালদহের এক সভা থেকে জানিয়েছিলেন যে, এই হামলার মূল চক্রীকে গ্রেফতারের কৃতিত্ব সিআইডির। স্থানীয় পুলিশের নয়। উল্লেখ্য পুলিশ এখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে। মুখ্যমন্ত্রী ওই সভা থেকে বলেন, ‘‘মালদহের ঘটনায় অভিযুক্তকে কারা গ্রেফতার করল? সিআইডি-ই ধরেছে। সিআইডি কিন্তু নির্বাচন কমিশনের অধীনে নয়।’’
সুপ্রতিমের আগে পশ্চিমবঙ্গের আরও ছয় আইএএস অফিসারকে সরিয়ে দিয়ে তামিলনাড়ুতে ভোটে কাজে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাঁদের মধ্যে রাজ্য সরকারের দু’জন সচিবও ছিলেন। পরে রাজ্যের ১৫ আইপিএস অফিসারকে তামিলনাড়ু এবং কেরলে ভোটের কাজে পাঠানোর কথা জানিয়েছিল কমিশন। যদিও পাঁচ জনের ক্ষেত্রে সেই নির্দেশ কার্যকর করেনি তারা। কিন্তু বাতি ১০ আইপিএস-এর ক্ষেত্রে সেই নির্দেশ বহাল রাখে কমিশন।