রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা আগামী ৪ মে। কিন্তু ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) জেরে বাদ যাওয়া প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের কী হবে, তার সমাধান হয়নি। প্রশ্ন রয়েছে, ভোট মিটে যাওয়ায় নির্বাচন কমিশনের দায় ফুরোবে। বিষয়টি ফিরবে রাজ্য প্রশাসনের হাতে। তখন কী হবে? ভোট মিটে যাওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলিও এই মানুষদের ব্যাপারে উৎসাহ বজায় রাখবে কি না, সে প্রশ্নও রয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, গণতন্ত্রের বৃহত্তম ‘উৎসব’ থেকে দূরে থাকা মানুষগুলি কি আর কারও কাছে দাম পাবেন? প্রান্তিক মানুষেরা কি আদৌ রোজ ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হতে পারবেন?
সুুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভোটার আবেদন সংক্রান্ত ট্রাইবুনাল গঠন করেছে কলকাতা হাই কোর্ট প্রশাসন। সূত্রের খবর, দৈনিক শুনানি শেষে কমিশনের পাশাপাশি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির দফতরেও রিপোর্ট আসছে। গণনা শেষে কী ভাবে ট্রাইবুনাল চলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। যদিও একটি সূত্রের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই এই ট্রাইবুনাল গঠিত হয়েছে। তাই ভোট মিটে গেলেও ট্রাইবুনালের কাজ চলবে।
এ দিকে কমিশন সূত্রের বক্তব্য, প্রথম দু’টি দফার দু’দিন আগে পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ভোটারদের নাম তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই মতো প্রথম দফায় ১৩৯ এবং দ্বিতীয় দফায় ১৪৬৪ জন তালিকাভুক্ত হন। ভোট শেষ। তাই তালিকাভুক্তি নিয়ে এখনই চাপ নেই ট্রাইবুনালের উপরে। কমিশনের কাছে দৈনিক রিপোর্ট পাঠানোর বিষয়ও নেই। তারা নিবিড় যাচাই করে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাবে। সেই রিপোর্ট, রায় বিবেচনা করে উচ্চ ও শীর্ষ আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।
সূত্রের খবর, জেলা স্তরে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ক্ষেত্রে নিষ্পত্তির কাজ তুলনায় কম সময়সাপেক্ষ ছিল। কিন্তু ট্রাইবুনালে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের পুরো বিষয়টির শুনানি, নথি যাচাই করে রায় লিখতে হচ্ছে। ফলে এক-একটি মামলার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অনেক বেশি সময় লাগছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)