Advertisement

নবান্ন অভিযান

কমিশনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ‘ভুল ব্যাখ্যা’ করা হচ্ছে! আর্জি খারিজ হয়নি তৃণমূলের, দাবি কপিল সিব্বলের

তৃণমূলের আইনজীবী কপিল সিব্বলের দাবি, কমিশনের বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি সুপ্রিম কোর্টে। বরং ওই বিজ্ঞপ্তি যাতে সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেই আর্জিই জানানো হয়েছিল আদালতে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ মে ২০২৬ ১৬:৪৮
সুপ্রিম কোর্টের বাইরে তৃণমূলের আইনজীবী কপিল সিব্বল।

সুপ্রিম কোর্টের বাইরে তৃণমূলের আইনজীবী কপিল সিব্বল। —ফাইল চিত্র।

সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হয়ে গিয়েছে কমিশনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে তৃণমূলের আপত্তির মামলা। তবে তৃণমূলের আইনজীবী কপিল সিব্বলের দাবি, আদালতের নির্দেশের ‘ভুল ব্যাখ্যা’ হচ্ছে। তাদের আর্জি খারিজ হয়নি বলেই দাবি করছেন সিব্বল। তৃণমূলের আইনজীবীর বক্তব্য, প্রথমে ওই বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু পরে ওই বিজ্ঞপ্তিরই সঠিক ভাবে বাস্তবায়নের দাবি তুলেছিলেন তাঁরা। সুপ্রিম কোর্টও কমিশনকে সেই নির্দেশই দিয়েছে বলে জানান সিব্বল।

ভোট গণনার কাজে নিযুক্ত কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার এবং কাউন্টিং অ্যাসিসট্যান্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী হতে পারেন। আবার রাজ্য সরকারেরও কর্মী হতে পারেন। কমিশনের বিজ্ঞপ্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শনিবার এই নির্দেশই দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগে এই সংক্রান্ত বিষয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল। সেখানে রাজ্যের শাসকদলের দাবি ছিল, কমিশনের দেওয়া বিজ্ঞপ্তি ত্রুটিপূর্ণ। ওই বিজ্ঞপ্তিটি থাকাই উচিত নয় বলে হাই কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল তারা।

শনিবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানির পরে সিব্বল বলেন, “ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, বিভিন্ন সূত্র থেকে কমিশনের কাছে খবর এসেছে— ভোট চলাকালীন বুথগুলিতে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। সেই কারণে কমিশন প্রত্যেক বুথে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে একজন করে কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক নিয়োগ করবে।” এ বিষয়ে প্রথমে হাই কোর্টে শাসকদলের বক্তব্য ছিল, প্রত্যেক বুথে ইতিমধ্যে একজন করে ‘মাইক্রো অবজ়ার্ভার’ রয়েছেন। তিনি মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি বলেই দাবি তৃণমূলের। পাশাপাশি প্রত্যেক বুথে সব রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্ট এবং নির্বাচনী এজেন্ট থাকেন। এ ছাড়া ‘পোলিং সুপারভাইজ়ার’ও থাকেন।

সিব্বলের বক্তব্য, ওই সময়ে হাই কোর্ট জানিয়েছিল কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং বিজ্ঞপ্তিই সঠিক। সেই নির্দেশের পরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল। রাজ্যের শাসকদলের আইনজীবীর বক্তব্য, ওই সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাঁরা বিজ্ঞপ্তিটিকে চ্যালেঞ্জ করবেন না। বরং, বিজ্ঞপ্তিটি যাতে যথাযথ ভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়, সেই আবেদন জানানোর সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।

কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেই ব্যাখ্যাও দেন সিব্বল। তৃণমূলের আইনজীবীর কথায়, “১৩ এপ্রিল জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভোট প্রক্রিয়া এবং গণনার পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে অনিয়ম বা কারচুপির অভিযোগ এসেছে। এই কারণে ‘মাইক্রো অবজ়ার্ভার’দের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের একজন কর্মী নিযুক্ত করতে চায় কমিশন। এটাই ছিল (কমিশনের) সিদ্ধান্ত।” কিন্তু সিব্বলের বক্তব্য, ওই একই বিজ্ঞপ্তিতে আবার এ-ও বলা হয়েছে যে কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারের উভয়ের প্রতিনিধিই নিয়োগ করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে উভয় প্রতিনিধিই হবেন সরকারি কর্মী।

এই বিষয়টিকেই সুপ্রিম কোর্টের কাছে তুলে ধরা হয় বলে জানান সিব্বল। তাঁরা আদালতকে জানান, কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতেই এ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের নিয়োগ করতে চাইলে, করতেই পারে। কিন্তু একই পদ্ধতিতে রাজ্য সরকারের একজন প্রতিনিধিকেও অবশ্যই নিয়োগ করতে হবে। সিব্বল বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট লক্ষ করে যে আমরা শুরুতে বিজ্ঞপ্তিটির বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলাম এবং সেটিকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। কিন্তু আমরা তখন স্পষ্ট জানিয়ে দিই যে আমরা এখন বিজ্ঞপ্তিটির যথাযথ বাস্তবায়নেরই দাবি জানাচ্ছি। সুপ্রিম কোর্টও সেই নির্দেশই দিয়েছে— কমিশন যাতে নিজেদের বিজ্ঞপ্তি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে এবং সেটির মূল ভাবনা অনুযায়ী চলে। অর্থাৎ, রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার উভয়ের প্রতিনিধিকেই রাখতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট এই নির্দেশটিই দিয়েছে।”

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Supreme Court TMC Election Commission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy