জেলার ন’টি বিধানসভা কেন্দ্রেরমধ্যে সাতটিতে প্রার্থী ঘোষণা করে দিল বামফ্রন্ট। সোমবার যে তালিকা বামেরা ঘোষণা করে, তাতে ছ’টি কেন্দ্রে সিপিএম এবং একটিতে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থীর নাম জানানো হয়েছে। আসানসোল উত্তর ও বারাবনি কেন্দ্রে কোনও নাম ঘোষণা করা হয়নি।
বামফ্রন্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালে আসানসোল উত্তরে আইএসএফ এবং কুলটি, বারাবনি ও দুর্গাপুর পশ্চিম আসন কংগ্রেসকে ছাড়া হয়েছিল। এ বার কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা হয়নিবামের। কুলটিতে এ বার ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী দিয়েছে। আসানসোল উত্তর ও বারাবনি কেন্দ্র আইএসএফ-কে ছাড়া হতে পারে বলে সিপিএমের একটি সূত্রের দাবি। ২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ওবামেরা আসন সমঝোতা করে লড়াইয়ে নেমে পশ্চিম বর্ধমানে যথাক্রমে ৮.৭ শতাংশ ও ৮.৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
সিপিএম সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বার শ্রমিক সংগঠন থেকে তিন জন, মহিলা সংগঠন থেকে এক জন, সংখ্যালঘু এক জন এবং দলের সর্বক্ষণের এক কর্মীকে প্রার্থী করা হয়েছে। পাণ্ডবেশ্বরে সিটুর জেলা সম্পাদক প্রবীর মণ্ডল, রানিগঞ্জে ‘সামাজিক ন্যায় মঞ্চ’-এর জেলা সভাপতি তথা নির্মাণকর্মী ও ইটভাটা কর্মচারী ইউনিয়নের নেতা, পুরপ্রতিনিধি নারায়ণ বাউড়িকে প্রার্থী করা হয়েছে। নারায়ণ১৯৮৩ সাল থেকে নানা স্তরে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও পুরসভার কাউন্সিলর ছিলেন।
আসানসোল দক্ষিণের প্রার্থী শিল্পী চক্রবর্তী গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির জেলা সম্পাদক। জামুড়িয়ার প্রার্থী সাব্বির হোসেন পেশায় গৃহশিক্ষক। ২০২২ সালে আসানসোল পুরভোটে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির জন্য দল তাঁকে প্রার্থী করেছে, দাবি সিপিএম সূত্রের। কুলটিতে প্রার্থী হচ্ছেন ফরওয়ার্ড ব্লকের পুরনো নেতা ভবানী আচার্য।
দুর্গাপুর পশ্চিমে গত দু’টি বিধানসভা ভোটে আসন সমঝোতায় কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছিল। দশ বছর পরে এই কেন্দ্রে প্রার্থী দিল সিপিএম। এ বার তাঁদের প্রার্থী, স্থানীয় নেতা প্রভাস সাঁই সমবায় আন্দোলনের কর্মী। দুর্গাপুর পূর্বে প্রার্থী করা হয়েছে শ্রমিক নেতা সীমান্ত চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি সিটুর জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য। মাস ছয়েক আগে দুর্গাপুর স্টিল প্লান্ট (ডিএসপি) থেকে অবসর নিয়েছেন।
সিপিএমের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় জানান, সমস্ত দিক বিবেচনা করে যোগ্যদেরই প্রার্থী করা হয়েছে। তাঁর দাবি,‘‘নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন, জেলায় বিভিন্ন সময়ে যারা অভিযুক্ত হিসাবে চিহ্নিত, এ বার তাদের গ্রেফতার করে জেল হেফাজতে রাখার ব্যবস্থা করা হোক। মাফিয়ারা যাতে নির্বাচনে যুক্ত হতে না পারে, সে দিকে নজর দিক কমিশন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)