দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচন করা হোক। স্ক্রুটিনির পর নির্বাচন কমিশনের কাছে এমনই প্রস্তাব পাঠালেন নির্বাচনের জন্য নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত।
কমিশন সূত্রে খবর, ফলতায় পুননির্বাচন (রিপোল) সংক্রান্ত স্ক্রুটিনিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য ধরা পড়েছে। ক্যামেরাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ফলতার একাধিক বুথে। নেটওয়ার্কের কারণে কন্ট্রোল রুমে সেই তথ্য আসেনি। তা ছাড়া বেশ কয়েকটি বুথে ইভিএমে টেপ লাগিয়ে বিভিন্ন দলের প্রতীক ঢেকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। প্রিসাইডিং অফিসার দুপুর ১টায় জানান, টেপ তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তত ক্ষণে ওই বুথগুলিতে প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
এই বুথগুলিতেই নজর রেখেছিল কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, টেপ লাগানোর কারণে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোটারদের কাছে একটি মাত্র দল ছাড়া অন্যত্র ভোট দেওয়ার আর কোনও উপায় ছিল না। তাই এই বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার ৪টি এবং মগরহাট পশ্চিমের ১১টা বুথেও পুননির্বাচন করাতে চেয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে মোট বুথের সংখ্যা ২৮৫টি। সেখানকার বেশ কিছু বুথে ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোট মেটার পরেই চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচন করানোর জন্য আর্জি জানানো হয় কমিশনকে। সিইও-র দফতরের তরফে সরকারি ভাবে কিছূ জানানো না-হলেও সূত্রের খবর, পুনর্নির্বাচনের অধিকাংশ অনুরোধই যায় রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির তরফ থেকে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ওই চারটি বিধানসভা আসনই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার। এর মধ্যে তিনটি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের অন্তর্গত।
কোথায় কোথায় উপনির্বাচন হবে, বা আদৌ হবে কি না, তা স্ক্রুটিনি করে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। স্ক্রুটিনি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় সুব্রতকে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে ফোন করে এই নির্দেশ দেন।
সোমবার থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ফলতা। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির কাছে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলের তরফে অজয়ের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ফলতাতেই বুধবার ১৭০ এবং ১৮৯ নম্বর বুথের ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৭:০০
সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে কী কী হল, মমতা কী করলেন? স্ট্রংরুম ঘিরে বিতর্কে এ বার কমিশনের কাছে রিপোর্ট পাঠালেন ডিইও -
১৫:৪৮
স্ট্রংরুমের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ ধারা জারি! রাতের ঘটনার পর বিক্ষোভ, জমায়েত নিষিদ্ধ কলকাতার সাতটি জায়গায় -
১৫:০৩
ভোট গণনাপর্বে কোনও খামতি রাখতে চায় না তৃণমূল! শনিবার সব কাউন্টিং এজেন্টকে নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে অভিষেক -
১৩:৫৮
স্ট্রংরুমে মমতার অবস্থানের পর সতর্ক শুভেন্দু! বৈঠকে ডাকলেন কর্মীদের, ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী নিজেও যাবেন গণনাকেন্দ্রে -
১২:০৪
উদয়নারায়ণপুরে কী ঘটেছিল? কী ভাবে মৃত্যু বৃদ্ধের? ভিডিয়ো দেখিয়ে অভিষেকের অভিযোগ ‘ভুল’ বলে দাবি করল কমিশন