Advertisement

নবান্ন অভিযান

সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে কী কী হল, মমতা কী করলেন? স্ট্রংরুম ঘিরে বিতর্কে এ বার কমিশনের কাছে লিখিত রিপোর্ট ডিইও-র

বৃহস্পতিবার রাতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে পৌঁছে গিয়েছিলেন মমতা। তাঁর আসন ভবানীপুরের ‘স্ট্রংরুম’ করা হয়েছে এখানেই। প্রায় চার ঘণ্টা সেখানে ছিলেন তৃণমূলনেত্রী।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ১৭:০০
বৃহস্পতিবার রাতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল চত্বরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার রাতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল চত্বরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের ঘটনায় এ বার নির্বাচন কমিশনকে রিপোর্ট পাঠালেন কলকাতা দক্ষিণের জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও)। বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে কী কী ঘটেছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে গিয়ে কী কী করলেন, সেই সব বিষয় ওই লিখিত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

বৃহস্পতিবার রাতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা। তাঁর আসন ভবানীপুরের ‘স্ট্রংরুম’ করা হয়েছে এখানেই। গত রাতে প্রায় চার ঘণ্টা সেখানে ছিলেন মমতা। নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনও বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী, তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট সংশ্লিষ্ট আসনের ‘স্ট্রংরুমে’ যেতেই পারেন। মমতাও সেইমতোই নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরের ‘স্ট্রংরুমে’ গিয়েছিলেন। কমিশনের একটি সূত্রের বক্তব্য, তাঁর সেখানে যাওয়ার ভুল কিছু নেই। তবে সেখানে গত রাতে কী কী ঘটেছে, গোটা বিষয়টি উল্লেখ করে রিপোর্টটি পাঠানো হয়েছে।

গতরাতের ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূলনেত্রীর দাবি, স্ট্রংরুম ‘পাহারা’ দিয়েছেন তিনি। তবে সেখান থেকে বেরিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেন। মমতা জানিয়েছিলেন, মানুষের দেওয়া ভোট লুট করার চেষ্টা হলে তিনি ‘জান দিয়ে’ লড়বেন।

সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের বাইরে বেরিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মমতা বলেন, ‘‘এখানে আমার কেন্দ্রের ইভিএম রয়েছে। নেতাজি ইন্ডোর-সহ অনেক জায়গায় ইভিএম কারচুপির ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। বাইরের লোক এসে পোস্টাল ব্যালট এ দিক-ও দিক করছে। তাই এখানে এসেছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘অভিযোগ পেয়ে ছুটে এসেছি। তিন-চার ঘণ্টা থেকে গেলাম। এক জনকে বসিয়ে গিয়েছি।’’

বস্তুত, বৃহস্পতিবার সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের ‘স্ট্রংরুমে’ মমতা একাই নন, উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট সূর্যনীল দাসও। শুভেন্দু নিজেই সেই ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। তাঁর দাবি, মমতা যত ক্ষণ সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রংরুমের কাছে হাজির ছিলেন, বিজেপির নির্বাচনী এজেন্ট সূর্যনীলও নিজে উপস্থিত থেকে তৃণমূলনেত্রীকে ‘কড়া নজরদারির’ মধ্যে রেখেছিলেন।

সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের একটি ছবিও পোস্ট করেন শুভেন্দু। তাতে দেখা যাচ্ছে, একটি করিডরের এক পাশে চেয়ার পেতে বসে রয়েছেন মমতা। তাঁর উল্টো দিকে পাতা চেয়ারে বসে রয়েছেন শুভেন্দুর নির্বাচনী এজেন্ট।

গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভবানীপুরে ভোটগ্রহণ হয়েছে। গণনা হবে ৪ মে। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ভবানীপুর। কারণ, সেখানে মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী শুভেন্দু। এ অবস্থায় ভবানীপুর আসনের ফল নিয়ে গোটা রাজ্যেই কৌতূহল বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Mamata Banerjee TMC Election Commission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy