সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের ঘটনায় এ বার নির্বাচন কমিশনকে রিপোর্ট পাঠালেন কলকাতা দক্ষিণের জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও)। বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে কী কী ঘটেছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে গিয়ে কী কী করলেন, সেই সব বিষয় ওই লিখিত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
বৃহস্পতিবার রাতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা। তাঁর আসন ভবানীপুরের ‘স্ট্রংরুম’ করা হয়েছে এখানেই। গত রাতে প্রায় চার ঘণ্টা সেখানে ছিলেন মমতা। নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনও বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী, তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট সংশ্লিষ্ট আসনের ‘স্ট্রংরুমে’ যেতেই পারেন। মমতাও সেইমতোই নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরের ‘স্ট্রংরুমে’ গিয়েছিলেন। কমিশনের একটি সূত্রের বক্তব্য, তাঁর সেখানে যাওয়ার ভুল কিছু নেই। তবে সেখানে গত রাতে কী কী ঘটেছে, গোটা বিষয়টি উল্লেখ করে রিপোর্টটি পাঠানো হয়েছে।
গতরাতের ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূলনেত্রীর দাবি, স্ট্রংরুম ‘পাহারা’ দিয়েছেন তিনি। তবে সেখান থেকে বেরিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেন। মমতা জানিয়েছিলেন, মানুষের দেওয়া ভোট লুট করার চেষ্টা হলে তিনি ‘জান দিয়ে’ লড়বেন।
সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের বাইরে বেরিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মমতা বলেন, ‘‘এখানে আমার কেন্দ্রের ইভিএম রয়েছে। নেতাজি ইন্ডোর-সহ অনেক জায়গায় ইভিএম কারচুপির ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। বাইরের লোক এসে পোস্টাল ব্যালট এ দিক-ও দিক করছে। তাই এখানে এসেছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘অভিযোগ পেয়ে ছুটে এসেছি। তিন-চার ঘণ্টা থেকে গেলাম। এক জনকে বসিয়ে গিয়েছি।’’
আরও পড়ুন:
বস্তুত, বৃহস্পতিবার সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের ‘স্ট্রংরুমে’ মমতা একাই নন, উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট সূর্যনীল দাসও। শুভেন্দু নিজেই সেই ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। তাঁর দাবি, মমতা যত ক্ষণ সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রংরুমের কাছে হাজির ছিলেন, বিজেপির নির্বাচনী এজেন্ট সূর্যনীলও নিজে উপস্থিত থেকে তৃণমূলনেত্রীকে ‘কড়া নজরদারির’ মধ্যে রেখেছিলেন।
সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের একটি ছবিও পোস্ট করেন শুভেন্দু। তাতে দেখা যাচ্ছে, একটি করিডরের এক পাশে চেয়ার পেতে বসে রয়েছেন মমতা। তাঁর উল্টো দিকে পাতা চেয়ারে বসে রয়েছেন শুভেন্দুর নির্বাচনী এজেন্ট।
গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভবানীপুরে ভোটগ্রহণ হয়েছে। গণনা হবে ৪ মে। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ভবানীপুর। কারণ, সেখানে মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী শুভেন্দু। এ অবস্থায় ভবানীপুর আসনের ফল নিয়ে গোটা রাজ্যেই কৌতূহল বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৫:৪৮
স্ট্রংরুমের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ ধারা জারি! রাতের ঘটনার পর বিক্ষোভ, জমায়েত নিষিদ্ধ কলকাতার সাতটি জায়গায় -
১৫:০৩
ভোট গণনাপর্বে কোনও খামতি রাখতে চায় না তৃণমূল! শনিবার সব কাউন্টিং এজেন্টকে নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে অভিষেক -
১৩:৫৮
স্ট্রংরুমে মমতার অবস্থানের পর সতর্ক শুভেন্দু! বৈঠকে ডাকলেন কর্মীদের, ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী নিজেও যাবেন গণনাকেন্দ্রে -
১২:০৪
উদয়নারায়ণপুরে কী ঘটেছিল? কী ভাবে মৃত্যু বৃদ্ধের? ভিডিয়ো দেখিয়ে অভিষেকের অভিযোগ ‘ভুল’ বলে দাবি করল কমিশন -
১১:১১
রাজ্যে ‘শান্তিপূর্ণ’ ভাবে মিটেছে ভোট! কালীগঞ্জ উপনির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়েই পরিকল্পনা সেরেছিলেন সিইও মনোজ