Advertisement
E-Paper

বাদ যাবে ‘সিরাপ’ শব্দটি, কাশির ওষুধ কেনা নিয়ে নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রের, কেন এত কড়া পদক্ষেপ?

কাশির সিরাপ খাওয়া নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। চাইলেই দোকানে গিয়ে কাশির সিরাপ কেনা যাবে না। নির্দেশিকায় আর কী কী বলা হল?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ১৫:৪৫
According to the ministry of health, Cough syrups will no longer be available without a doctor’s prescription

কাশির ওষুধ কেনায় কড়া নিয়ম জারি। কী বলা হল কেন্দ্রের নির্দেশিকায়? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

কাশি হলেই আর দোকান থেকে প্রেসক্রিপশন ছাড়া কাশির সিরাপ কিনে খাওয়া যাবে না। এই ব্যাপারে আরও কড়া ব্যবস্থা নিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। সম্প্রতি কেন্দ্রের তরফে এক নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে যে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কাশির ওষুধ দোকান থেকে কেনা যাবে না। দেশের যে কোনও জায়গায় যে কোনও ব্র্যান্ডের কাশির ওষুধ কিনতে গেলেই প্রেসক্রিপশন দেখানো বাধ্যতামূলক।

সাধারণ সর্দি-কাশি বা বুকে কফ জমলেই দোকান থেকে কাশির সিরাপ কিনে আনেন অনেকেই। তা ছোটদেরও খাওয়ান। ওষুধটির লেবেলও হয়তো তাঁরা দেখেন না। অনেকেই জানেন না, কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা আগেই চার বছরের কমবয়সিদের জন্য বিশেষ অ্যান্টি-কোল্ড ড্রাগ কম্বিনেশন এ দেশে নিষিদ্ধ করেছে। এ বার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক প্রেসক্রিপশন ছাড়া এই ওষুধ খাওয়া ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করল।

১৯৪৫-এর ‘ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক অ্যাক্ট’-এর অধীনে ‘শিডিউল কে’ তালিকা থেকে ‘সিরাপ’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ‘শিডিউল কে’-র তালিকায় এমন কিছু ওষুধের নাম থাকে, যা কেনার জন্য কোনও প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয় না। এই জাতীয় ওষুধকে বলে ‘ওভার দ্য কাউন্টার’ বা ওটিসি। সিরাপ জাতীয় ওষুধকে এ বার সেই তালিকার বাইরেই রাখা হল। অর্থাৎ, কাশির সিরাপ হোক বা যে কোনও সিরাপ-জাতীয় ওষুধকে আর ওটিসি বলা যাবে না। কাজেই সেগুলি কিনতে গেলে নথিভুক্ত চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন দেখাতেই হবে।

কেন এত কড়াকড়ি?

কাশির ওষুধ বিক্রি নিয়ে বিতর্ক বহু দিন ধরেই চলছে। গোটা বিষয়টির নেপথ্যে রয়েছে ২০২৫-এ মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে পর পর শিশুমৃত্যুর ঘটনা। অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট কাফ সিরাপ খেয়েই দুই রাজ্যে ১২ জন শিশুর মৃত্যু ঘটে। অধিকাংশ শিশুই কিডনি বিকল হয়ে মারা যায়। এর পর ওষুধটি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়, সেই রিপোর্টে আশঙ্কাজনক কিছু পাওয়া না গেলেও তদন্ত চলছে। একাধিক রাজ্য ওই নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের কাফ সিরাপটি বাতিল করেছে। শুধু ওই ব্র্যান্ড নয়, আরও নানা ব্র্যান্ডের কাশির সিরাপ পরীক্ষা করে ডাইইথিলিন গ্লাইকল (ডিইজি), ইথিলিন গ্লাইকল (ইজি) বা কোডেইনের মতো উপাদান পাওয়া গিয়েছে, যা শিল্প-কারখানায় ব্যবহার করা হয়। সেগুলি রক্তে মিশলে লিভার-কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে।

এই বিষয়ে ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেল্‌থ-এর শিশুরোগ চিকিৎসক প্রিয়ঙ্কর পাল জানিয়েছেন, বাজারে প্রচুর কাশির ওষুধ পাওয়া যায়। সেগুলি কী ধরনের ওষুধ বা সেগুলিতে কী কী উপাদান আছে, তা না দেখেই কিনে ফেলেন অনেকে। যদি সে সব ওষুধে ক্লোরফেনিরামিন ম্যালিয়েট ও ফিনাইলেফ্রিন কম্বিনেশন থাকে, তা হলে সেগুলি ছোটদের জন্য ক্ষতিকারক। এর নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তন্দ্রাচ্ছন্নতা, ঘুমের অভ্যাস পাল্টে যাওয়া ছাড়াও এগুলি মস্তিষ্কের কার্যকারিতার উপরে প্রভাব ফেলতে পারে।

কাশি কেন হচ্ছে, সেই বুঝে চিকিৎসা

কাশির সিরাপ খেলেই যে কাশি নির্মূল হবে, বিজ্ঞানসম্মত ভাবে এর কোনও প্রমাণ নেই। চিকিৎসক জানাচ্ছেন, শুধু কাফ সিরাপ খাইয়ে কাশির উপশম সম্ভব নয়। বরং আসল রোগ নির্ণয় করতে হবে। ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে শ্বাসনালিতে মিউকাস জমে কাশি হতে পারে। আবার ব্রঙ্কোস্প্যাজ়ম থাকলে ফুসফুসের শ্বাসনালিগুলি সরু হয়ে যায়, ফলে তীব্র শ্বাসকষ্ট, কাশি, হাঁপানির টান উঠতে দেখা যায়। অ্যালার্জিজনিত কারণেও কাশি হতে পারে। তাই কাশি কেন হচ্ছে, সেই গোড়ার কারণটি বুঝে তবেই চিকিৎসা করা শ্রেয়।

Cough Syrup Cough
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy