Advertisement
E-Paper

‘ওটা আর আমার অফিস নয়, সরকারি আমলারাও তো আসতেন’, ‘বিতর্কিত’ জিনিস নিয়ে পাল্টা কী দাবি অনন্যার?

তাঁর ঝাঁ চকচকে ওয়ার্ড অফিসের মধ্যে নাকি রয়েছে একটি মেকআপ রুমও! বিষয়টি নিয়ে খবরের জেরে হইচই হতেই অনন্যার বক্তব্য, “আমি যে এত গুরুত্বপূর্ণ, তা ভাবতেও পারিনি।” পাশাপাশি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপর ভরসার কথাও তিনি বলেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ১৬:২৭
বিতর্কে কী বললেন অনন্যা?

বিতর্কে কী বললেন অনন্যা? ছবি: সংগৃহীত।

আলোচনায় মুকুন্দপুরে অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওয়ার্ড অফিস। অভিযোগ, সেখান থেকে পাওয়া গিয়েছে নানা ত্রাণসামগ্রী, এমনকি গর্ভনিরোধকও! ঝাঁ চকচকে ওয়ার্ড অফিসের মধ্যে নাকি রয়েছে একটি মেকআপ রুমও। বিষয়টি নিয়ে খবরের জেরে হইচই হতেই অনন্যার কথা, “আমি যে এত গুরুত্বপূর্ণ, তা ভাবতেও পারিনি।” পাশাপাশি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপর ভরসার কথাও তিনি বলেন।

ওয়ার্ড অফিসের মধ্যে কোনও মেকআপ রুম নেই বলে দাবি অভিনেত্রী-রাজনীতিবিদ অনন্যার। তাঁর কথায়, “কোথাও তো মেকআপ রুম দেখতে পাইনি। প্রত্যেক অফিসেই চেম্বার যেমন থাকে, তেমন অ্যান্টি চেম্বারও থাকে, যেখানে সবাই বসে খাওয়াদাওয়া করে, আলোচনা করে। সেই জায়গাকে অন্য নাম দিলে আমার কিছু করার নেই।”

এই ওয়ার্ড অফিস আর তাঁর নয়, দাবি অনন্যার। ইতিমধ্যেই ভেঙে গিয়েছে বোর্ড অফিস। অনন্যা বলেন, “এটা তো কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বরের ওয়ার্ড অফিস। কোনও দলীয় কার্যালয় নয়। ৮ জুন বোর্ডটাই ভেঙে গিয়েছে। আর এই ওয়ার্ড অফিস শুধু এলাকার জনপ্রতিনিধির নয়। পুরসভায় যে সরকারি আমলারা কাজ করেন, তাঁরাও যান। এটা তাঁদেরও অফিস।”

সোমবার ওয়ার্ড অফিসের তালা ভেঙে প্রবেশ করা হয়। এই প্রসঙ্গে অনন্যার মন্তব্য, “একদল লোক বিনা নোটিসে ওই অফিসে ঢুকে পড়ে এবং অদ্ভূত ভাবে কিছু জিনিস দেখায়। এর দায় ওদেরই নিতে হবে। বোর্ড ভেঙে গিয়েছে, আর আমিও অফিস যাই না। তাই অফিসের দায়িত্ব আমার নয়। আসলে সুন্দর করে একটা চিত্রনাট্য সাজানো হয়েছে। সেখানে কোথাও ভুল হয়ে গিয়েছে।”

মুকুন্দপুরের অফিসে ভেঙে গর্ভনিরোধ-সহ বিভিন্ন জিনিস পাওয়া গিয়েছে, এমন খবর ছড়িয়েছে। অনন্যার পাল্টা দাবি, “যে অফিস আমারই নয়, সেখানে হঠাৎ একদল লোক ঢুকে নিষিদ্ধ জিনিস দেখাচ্ছে। এটা তো সরকারি অফিস। এ তো অসুস্থতা ও নিম্নরুচির পরিচয়।” কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড অফিসে কেন এমন নিষিদ্ধ জিনিস থাকবে, পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন অনন্যা নিজেই। তাঁর বক্তব্য, “একটু বিচার বিবেচনা করলে সকলেই এই প্রশ্ন তুলবেন। এটা ব্যক্তিগত কার্যালয় নয়।” যে জিনিসগুলি পাওয়া গিয়েছে, সেগুলি তা হলে কার? প্রশ্ন করতেই অনন্যার উত্তর, “আমি কেন বলব! যে কোনও সুস্থ মানুষই জানেন, কোনও ওয়ার্ড অফিসে এগুলি থাকা অসম্ভব। এখানে সাধারণ মানুষ আসেন। তাঁদের কাজ হয়। বর্ষায় ত্রিপল, কম্বল দেওয়া থেকে শুরু করে নানা কাজ হয়ে থাকে।”

পুরো বিষয়টিই সাজানো বলে দাবি অনন্যার। “এক দল লোক গেল, আর কিছু নিষিদ্ধ জিনিস খুঁজে পেল। যেন ওদের দেখার জন্যই সেইগুলি রেখে দেওয়া হয়েছিল। ওগুলো ইচ্ছে করেই কেউ রেখে দিয়েছে বলে মনে হয় না কি?” প্রশ্ন তুলেছেন অনন্যা নিজেই। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, “তর্কের খাতিরে যদি ধরে নিই খারাপ কাজ চলত, তা হলেও কি এখন এই নিষিদ্ধ জিনিসগুলি রেখে দেওয়া হত?”

মহিলা বলেই তাঁকে ‘সফ্‌ট টার্গেট’ মনে করা হচ্ছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে, এ-ও মনে করছেন অনন্যা। যদিও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপর তাঁর ভরসা আছে বলে জানান। তাঁর কথায়, “বিজেপি-র কয়েক জন দলীয় নেতার সঙ্গেও কথা হয়েছে। তাঁদের উপরেও আস্থা আছে। তাঁরা হয়তো জানেনই না, এ সব হয়েছে। এটা একদল নিম্নরুচির মানুষের কাজ।”

পুরো ঘটনা থেকে একটি উপলব্ধির কথা জানান অনন্যা। তিনি বলেন, “এক জন মহিলাকে এই ভাবে কটাক্ষ করে নিম্নরুচির পরিচয় দিচ্ছে কিছু মানুষ। তবে সব কিছুর মধ্যে একটিই ইতিবাচক দিক রয়েছে, আমাকে মানুষ এত গুরুত্ব দেয় জানতামই না।” আইনি পরামর্শ নিয়ে পদক্ষেপ করার কথাও জানান তিনি।

Ananya Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy