অবসর মানেই একাকিত্ব নয়। কর্মজীবন থেকে নেওয়া দীর্ঘ বিরতির সময়টা হতাশায় কাটবে না তো! এই ভয় গ্রাস করে অনেককে। অবসর যাপনে নতুন করে কাজ করার ইচ্ছা অনেকেরই থাকে না। তাই কেউ সময় কাটান পরিবার-পরিজনকে নিয়ে, কেউ আবার ডুবে যান মোবাইল বা ল্যাপটপের ডিজিটাল জগতে। ঘুম থেকেই উঠে মোবাইলে খুটখাট, ফোন আঁকড়েই রাত জাগা— প্রবীণদের অনেকেরই দৈনন্দিন রুটিন এখন এমনই। সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটিয়েও যে মনে শান্তি বা আনন্দ থাকে তা নয়। বরং এতে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ আরও প্রবল হয়। ডিজিটাল জগত থেকে অনেকটা সরে এসে কী ভাবে অবসরের দিনগুলি আরও রঙিন করে তোলা যায়, তা নিয়ে প্রবীণদেরই পরামর্শ দিয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোনের বাবা ভারতের প্রাক্তন ব্যাডমিন্টন তারকা প্রকাশ পাড়ুকোন।
সমাজমাধ্যম তো দূর অস্ত, মোবাইল বা ল্যাপটপের ভার্চুয়াল জগত থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে রেখেছেন প্রকাশ। জানিয়েছেন, এই বয়সে এসে সমাজমাধ্যমে সময় নষ্ট করার কোনও মানে হয় না। এর চেয়ে একরত্তি নাতনি দুয়ার সঙ্গে সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করেন তিনি। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা, নাতনির সঙ্গে খেলা, তাকে গল্প শুনিয়েই আনন্দ পান তিনি। বয়সকালের যে কোনও রকম মানসিক চাপ, উদ্বেগ কাটিয়ে উঠেছেন এ ভাবেই। কখনও নিজেকে একা মনে হয়নি।
আরও পড়ুন:
মোবাইল থেকে দূরে কী ভাবে কাটাবেন অবসর?
অবসর নিয়ে একাকিত্ব কাটাতে অনেকেই ল্যাপটপ বা মোবাইলের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে যান। কিন্তু এই ডিজিটাল আসক্তি মন ও শরীর দুইয়েরই ক্ষতি করে। তাই বাড়িতেই তৈরি করুন ‘ডিজিটাল ডিটক্স জ়োন’। বাড়ির একটি নির্দিষ্ট অংশ যেমন শোয়ার ঘর, বসার ঘর বা খাওয়ার ঘরটিকে মোবাইলমুক্ত ঘোষণা করুন। সেই জায়গায় মোবাইল নিয়ে যাবেনই না।
খুব বেশি দরকার না হলে অবসরের দিনগুলিতে স্মার্টফোনের বদলে একটি সাধারণ ফোন ব্যবহার করতে পারেন, যাতে কেবল ফোন করা ও মেসেজ পাঠানো যায়।
অপ্রয়োজনীয় সব অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করে রাখুন। শব্দ না হলে বারবার ফোন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা কমে যাবে।
সকালে উঠে হালকা শারীরচর্চা করে নিন। রোজ সকালে হাঁটার অভ্যাস করতে পারেন। জমিয়ে দোকানবাজার করুন। খাওয়া-দাওয়া ঘড়ি ধরে করার চেষ্টা করুন। বিকেলের দিকটা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে হাঁটাহাঁটি ও গল্প করতে পারেন। এরই মধ্যে কিছুটা সময় রাখুন পছন্দের কাজের জন্য। বই পড়া, রান্না করা, ঘরের ছোটখাটো কাজ করলেই সময় কেটে যাবে।
ঘোরার শখ থাকলে বেরিয়ে পড়ুন। এখন অনেক সংস্থা বয়স্কদের নিয়ে ভ্রমণ করে। একা যেতে ভরসা না হলে, তেমন কোনও ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে ঘুরে আসতে পারেন। এ ছাড়া পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণের পরিকল্পনাও করতে পারেন।
শৈশবের কিছু শখকে ফিরিয়ে আনতে পারেন। কর্মজীবনে ব্যস্ততার কারণে যে কাজগুলো করা হয়ে ওঠেনি— যেমন ছবি আঁকা, গান গাওয়া, কোনও বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা বাগান করা— সেগুলিতে নতুন করে মন দিন। লেখালিখির অভ্যাস থাকলে তা আবার শুরু করতে পারেন।
সমাজমাধ্যমে থাকার চেয়ে বই পড়া অনেক বেশি আনন্দদায়ক হতে পারে। এতে স্মৃতিশক্তিও উন্নত হয়। পছন্দের উপন্যাস, কবিতা বা আত্মজীবনী পড়ার জন্য দিনে একটি নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখুন।
শেখার কোনও বয়স নেই। এই বয়সে এসে নতুন কোনও ভাষা শেখা, নতুন কিছু রান্না করা কিংবা ডায়েরি বা ব্লগ লেখার অভ্যাস তৈরি করা যেতে পারে।
সমবয়সিদের সঙ্গে নিয়ে একটি ছোট ক্লাব তৈরি করতে পারেন। সেখানে সপ্তাহে একদিন আড্ডা, গান-বাজনা কিংবা সমাজকল্যাণমূলক কোনও কাজ করলে অবসরের একেঘেয়েমি কাটবে। হতাশাও গ্রাস করবে না।