প্রেম মানেই সুখানুভূতি। প্রেমে পড়লে সব কিছুই সুন্দর হয়ে ওঠে। আবার প্রেম থাকলে মান থাকে, থাকে অভিমানও। সেই অভিমান যখন গলে জল হয়ে যায়, তখন সেই মানুষটি আরও কাছের হয়ে ওঠেন। এগিয়ে যায় সম্পর্ক।
কিন্তু শুরুতে যা অম্ল-মধুর, অনেক সময় বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বদলে যায় সেই রসায়ন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, আবেগের দাস হয়ে পড়েন লোকে। তখন না যায় সেই সম্পর্ক থেকে বেরোনো, না যায় তাকে মন থেকে গ্রহণ করা। চলতে থাকে মানসিক টানাপড়েন।
আজ যা মধুর কাল তা-ই হয়ে উঠতে পারে বিষাক্ত। পরিস্থিতি এমনটাও হতে পারে, যখন সেই সম্পর্ক গলার ফাঁস হয়ে যাবে। সময় থাকতে বুঝবেন কী করে, নীরবেই কেউ আপনাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন? অন্য মানুষটি সঠিক নন?
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কর্মরত মুম্বই নিবাসী কাউন্সিলর করিনা মেহতা বলছেন, সঙ্গীর কোন আচরণ নিয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি।
আপনার অনুভূতি কি অন্যের কাছে বাড়াবাড়ি?
আপনার ভাবনাচিন্তা, প্রশ্নগুলিকে অন্য জন কি দুঃখবিলাস বা বেশি ভাবা বলে দাগিয়ে দিতে চাইছেন? বলছেন, আপনি বেশি সংবেদনশীল। হতেই পারে, কেউ হয়তো সামান্য বিষয় নিয়ে বেশি ভাবেন। কিন্তু সেই ভাবনার নেপথ্যে যুক্তি আছে কি? যদি তা-ই হয়, তা হলে অন্য পক্ষের মানসিকতা ভাল করে বোঝা দরকার।
নিজের সুবিধা অনুযায়ী পাশে থাকেন
কখনও মেসেজের বন্যা, প্রেম দেখানো চলছে। আবার কখনও সব চুপ। প্রেমের সম্পর্ক দ্বিপাক্ষিক। এক পক্ষ যদি তাঁর সুবিধামতোই দেখা করেন, কথা বলেন, শুধু নিজেরটুকুই গুরুত্ব পায়, তা হলে সতর্ক হওয়া জরুরি। সম্পর্কে অন্যের প্রয়োজনেও পাশে থাকা প্রয়োজন।
কথা বলতে না চাইলেই অপরাধী চিহ্নিত করা
প্রত্যেকটি মানুষের নিজস্ব পছন্দ, রুচি, সময় আছে। হতেই পারে কারও একটি নির্দিষ্ট সময় কথা বলতে ইচ্ছা করছে না। মনখারাপ। সঙ্গী যদি তা না বুঝে আচমকা নীরব হয়ে যান, সম্পর্কের গুরত্ব নিয়ে অন্য পক্ষকে দোষারোপ করেন বা কথা বলা সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেন, তা হলে বুঝতে হবে, ভবিষ্যতে এ নিয়ে সমস্যা বাড়তে চলেছে। এটা কোনও কাজের কথা নয়। অন্যের অনুভূতিকে মান্যতা দেওয়া জরুরি।
রসিকতার ছলে আঘাত
প্রেমের সম্পর্কে ঠাট্টা-তামাশা থাকতেই পারে, তবে তার মাত্রাবোধ থাকা উচিত। কেউ যদি সর্বসমক্ষে অন্যের দুর্বলতা নিয়ে হাসেন, মজা করেন, তা প্রকৃত সঙ্গীর উপযোগী আচরণ হতে পারে না। মজার ছলেই বা বিঁধিয়ে কথা বলে অন্য পক্ষকে দায়ী করার স্বভাবটি সম্পর্ককে নষ্ট করতে পারে।
নিয়মে বেঁধে ফেলা
এটা করা ঠিক নয়, এ ভাবে কথা বলা যাবে না— এ রকম বিধিনিষেধ কোনও কোনও সম্পর্কে কেউ কাউকে চাপিয়ে দেন। কিছুটা ভালর জন্য হলেও, সবটা নয়। কথা বলতে গিয়ে, কোনও কাজ করতে গিয়ে যদি নিজের উপর বিশ্বাস হারিয়ে যায়, তা হলে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।