ডায়াবিটিস ধরা পড়লেই আতঙ্ক শুরু হয়। মনে হয়, এক লহমায় জীবন থেকে যেন অনেক কিছু বাদ পড়ে গেল। বিশেষ করে যাঁরা খেতে ভালবাসেন, তাঁদের সমস্যা আরও বেশি। চিকিৎসকেরা বলেই দেবেন, কোনটা খাওয়া যাবে, আর কোনটা নয়। তা ছাড়া ডায়াবিটিস তো একা আসে না, আরও নানা শারীরিক সমস্যা সঙ্গে নিয়েই আসে। ক্ষতি হয় হার্ট, লিভার, কিডনির। তাই ওষুধ বা ইনসুলিন, নিয়মিত শারীরচর্চা, নিয়মকানুন ও বিধিনিষেধ মেনে চলার মাধ্যমে ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা ভীষণ জরুরি। এ সবের পাশাপাশি রোজের ডায়েটে কিছু মশলা রাখলেও ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। জেনে নিন, ডায়াবেটিকরা রোজের রান্নায় কোন কোন মশলা ব্যবহার বৃদ্ধি করবেন।
১) দারচিনি: এই মশলা ‘ইনসুলিন সেনসিটিভিটি’ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এতে ভাল মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে, তাই রক্তে গ্লুকোজ়ের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এই মশলা কাজ করে। এই মশলা শরীরে প্রদাহ কমাতেও সাহায্য করে। এ ক্ষেত্রে রোজ সকালে ঈষদুষ্ণ জল বা চায়ের সঙ্গে আধ চা চামচ দারচিনিগুঁড়ো মিশিয়ে খেতে পারেন।
আরও পড়ুন:
২) মেথি: এই মশলায় অনেকটা ফাইবার আছে। ডায়াবেটিকদের জন্য ফাইবার বেশ উপকারী। মেথি সারা রাত জলে ভিজিয়ে রেখে, সকালে উঠে সেই জল ছেঁকে খেয়ে নিতে পারেন। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
৩) হলুদ: এই মশলায় কারকিউমিন যৌগ থাকে যার প্রদাহনাশক ক্ষমতা রয়েছে। ফলে হলুদ খেলে শরীরে প্রদাহ কমবে এবং ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স কমবে। ফলে ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে। রান্নায় হলুদ ব্যবহারের পাশাপাশি কাঁচা হলুদ রোজ চিবিয়ে খেতে পারেন, দুধে হলুদ গুলে খেলেও উপকার পাওয়া যাবে।
৪) জিরে: এই মশলাতেও ভাল মাত্রায় ফাইবার থাকে। হজমের জন্য এই মশলা ভীষণ উপকারী। খিদে নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে। ফলে ডায়াবিটিস রোগীদের মুখরোচক, তেলেভাজা, মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমবে। জিরে বেশ কিছু ক্ষণ জলে ফুটিয়ে চা বানিয়ে খেতে পারেন।
৫) কালোজিরে: এতে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে ভরপুর মাত্রায়। এর ভিতরে থাকা বিভিন্ন যৌগ ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। রোজ সকালে আধ চা চামচ কালোজিরে চিবিয়ে খেয়ে নিলে সুগারের রোগীরা উপকার পাবেন।