অন্য বাদামের চেয়ে গুণ কোনও অংশে কম নয় আখরোটের। এতে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। রয়েছে প্রোটিন, ম্যাগনেশিয়ামের মতো আরও নানা খনিজ পদার্থ। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টও রয়েছে ভরপুর মাত্রায়। অর্থাৎ, আখরোট খেলে শরীরে নানা ধরনের পুষ্টিগুণ যায়। আখরোট দিয়ে তৈরি কেক, মাফিন, ব্রাউনি খেতে অনেকেই ভালবাসেন। তবে রোজের ডায়েটে কেন আখরোট রাখা জরুরি, সে খবর রাখেন কি? চিকিৎসকেরা বলেন, ক্যানসার থেকে হার্টের অসুখ, সবই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে আখরোট। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতেও জুড়ি মেলা ভার এই বাদামের। স্বাস্থ্যকর বলেই মুঠো মুঠো খেয়ে নিলে হবে না, জানতে হবে সঠিক নিয়ম।
চিকিৎসক আলোক চোপড়ার মতে, বয়স্কদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে আখরোট অত্যন্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি খাবার। এটি শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা ক্রনিক ইনফ্ল্যামেশন কমাতে সাহায্য করে। চিকিৎসক আলোক বলেন, ‘‘বিপাকীয় স্বাস্থ্যের অবনতি, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বা চিন্তাশক্তি কমে যাওয়া (ব্রেন ফগ), কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি এবং দ্রুত বার্ধক্যজনিত সমস্যার মতো অনেক সাধারণ স্বাস্থ্যগত জটিলতার মূলে রয়েছে ক্রনিক প্রদাহ। প্রদাহ কমানোর মাধ্যমে আখরোট খুব ভাল। দীর্ঘ মেয়াদে হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যরক্ষা, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, অন্ত্রের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য রোজের ডায়েটে আখরোট রাখা যেতে পারে।’’
আরও পড়ুন:
কতটা খাবেন?
কোনও কিছুই মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। আলোক বলেন, ‘‘মাত্র ২৮ গ্রাম, অর্থাৎ প্রায় এক মুঠো আখরোটে ২.৫ গ্রাম উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। এটি স্বাস্থ্যকর ফ্যাটে সমৃদ্ধ, কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম। তবে, রোজের ডায়েটে এর চেয়ে বেশি আখরোট না রাখাই ভাল।’’
রোজের ডায়েটে রাখার জন্য চিকিৎসক ক্যালিফোর্নিয়ার আখরোটের রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। রোজের ডায়েটে শুধু কাঁচা আখরোট নয়, বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর পদেও আখরোট যোগ করা যেতে পারে। কেক, ব্রাউনি বা মাফিনে দিয়ে খেলে চলবে না। ওটমিল ও স্মুদিতে আখরোট দেওয়া যেতে পারে, দই-ভাতেও মেশানো যেতে পারে, বাড়তি মুচমুচে ভাবের জন্য যে কোনও স্বাস্থ্যকর চাটের উপর ছড়িয়েও খাওয়া যায়। এ ছাড়া আখরোট দিয়ে স্বাস্থ্যকর ডিপও বানানো যায়।