ভোটের ৪ দিন আগে মদে না, ডিপোও বন্ধ

আবগারি দফতরের ব্যাখ্যা, ভোটের আগে চলতি সময়ে হঠাৎ মদের অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি হয়েছে। যা অন্য সময়ের সঙ্গে মানানসই নয়। পাশাপাশি মদের সরকারি ডিপোগুলিও আজ, সোমবার থেকেই বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:১৭

—প্রতীকী চিত্র।

ইঙ্গিত ছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সফরেই। তা কার্যকর হল রবিবাসরীয় সন্ধ্যায়। রাজ্য আবগারি দফতর জানিয়ে দিল, এ বার ভোটের আগে দু’দিনের বদলে চার দিন ধরে বন্ধ থাকবে মদের দোকান। অর্থাৎ, প্রথম দফায় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের আগে স্থানীয় মদের দোকানগুলি রবিবার থেকেই বন্ধ থাকছে। আবার ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি কেন্দ্রে ভোটের আগেও সেখানকার মদের দোকান ২৫ এপ্রিল থেকে বন্ধ।

আবগারি দফতরের ব্যাখ্যা, ভোটের আগে চলতি সময়ে হঠাৎ মদের অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি হয়েছে। যা অন্য সময়ের সঙ্গে মানানসই নয়। পাশাপাশি মদের সরকারি ডিপোগুলিও আজ, সোমবার থেকেই বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। অর্থাৎ, দোকানগুলিতে মদের বাড়তি জোগানও এর মধ্যে সম্ভব হবে না। আবগারি কর্তাদের একাংশের ধারণা, অসাধু স্বার্থে অবৈধ মজুত ঠেকাতেই আচমকা এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে।

গত মাসে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্য সফরে এসে যে বৈঠক করেছিল, তার অন্যতম বিষয় ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় মদের অতিরিক্ত জোগান। কারণ, ভোটের সময়ে কুমতলবে মদের ব্যবহার হয়ে এসেছে বলে অতীতের নির্বাচনগুলিতে বরাবর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের স্থানীয় স্তরে কোনও ধরনের ‘আতিথেয়তা’ না নিতেও সতর্ক করেছিল কমিশন। কারণ কমিশন-কর্তাদের একাংশের মতে, ‘আতিথেয়তার’ সঙ্গে মদের জোগানের একটা সম্পর্ক থেকে যায়। ঘটনাচক্রে, কিছু দিন আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাত-দশ জন জওয়ানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হয়েছে।

সব জেলাশাসক, কলকাতার নগরপালকে পাঠানো লিখিত বার্তায় আবগারি দফতর জানিয়েছে, ১৯৯৮ সাল থেকেই ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে স্থানীয় মদের দোকান বন্ধ রাখা দস্তুর। এ বার এই সময়সীমা দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। আবগারি দফতরের সমীক্ষা, ভোট ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত মদের বিক্রিতে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে। সরকারি ডিপোগুলি থেকে মদ সংগ্রহ করার প্রবণতাও অস্বাভাবিক বেড়েছে। গত বছর এমন সময়ে এই চাহিদা ছিল না। ফলে সংশ্লিষ্ট দফতরের সন্দেহ, মজুত করার কারণেই এত মদ বিক্রি হচ্ছে। যার ফলে অতিরিক্ত বরাত দিয়ে ডিপোগুলি থেকে মদ সংগ্রহ করতে হচ্ছে মদের খুচরো বিক্রির দোকানগুলিকেও। সব জেলা প্রশাসন এবং পুলিশকে আবগারি দফতর আরও জানিয়েছে, ভোটের আগে এই সময়ে মদের অবৈধ মজুত, সরবরাহ ঠেকাতে নজরদারি এবং হানা দেওয়া হবে। মদের দোকান বন্ধের সুযোগ নিয়ে অবৈধ বা জাল মদের জোগান, ব্যবহার যাতে শুরু না হয়, তার দিকেও নজর রাখতে হবে প্রশাসনকে।

এক কর্তার কথায়, “গত ২৩ মার্চের নির্দেশিকায় ভোট এবং গণনা—দুয়ের আগে মদ বিক্রি নিয়ে কড়াকড়ির কথা জানানো হয়েছিল। নতুন আদেশেও ভোট এবং গণনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে ধরে নেওয়া যায়। তা হলে, ৪ মে ভোট গণনার চার দিন আগে থেকেও মদের দোকানগুলি বন্ধ থাকবে।” তাঁর সংযোজন, “ডিপোগুলি বন্ধ রাখতে হচ্ছে জোগান ঠেকিয়ে রাখার কারণে। আজ (সোমবার) থেকে ডিপোও বন্ধ থাকায় খুচরো বিক্রির দোকানগুলি নতুন সরবরাহ পাবে না।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Alchohol Election Commission

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy