বালি খনন নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই একটা অশান্তি চলছিল। সেই অশান্তি মিটিয়ে নেওয়ার বাহানায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এক বিজেপি নেতা-সহ তিন জনকে। তার পর তাঁদের ফাঁদে ফেলে গাড়িতে আটকে রেখে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তীসগঢ়ের কোরিয়া জেলায়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ওই বিজেপি নেতার নাম ভরত সিংহ। তবে তিনি এলাকায় লল্লা সিংহ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। জনপদ পঞ্চায়েতের সভাপতি ছিলেন লল্লা। বিজেপি নেতার পরিবার সূত্রে খবর, বালি খনন নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই একটি অশান্তি চলছিল। সেটির মীমাংসা করতে মঙ্গলবার রাতে দু’জনকে সঙ্গে নিয়ে নওগাঁই গ্রামে গাড়ি করে গিয়েছিলেন বিজেপি নেতা ভরত। কিন্তু অভিযোগ, মীমাংসার বাহানায় বিজেপি নেতাকে ফাঁদে ফেলার চক্রান্ত করেছিল বালি মাফিয়ারা।
পুলিশ জানিয়েছে, বিজেপি নেতা ওই গ্রামে পৌঁছোতেই দু’টি ট্রাক তাঁর গাড়ির সামনে এবং পিছনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। তার পর বেশ কয়েক জন দুষ্কৃতী এসে ঘিরে ধরেন বিজেপি নেতার গাড়ি। অভিযোগ, গাড়িতে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গাড়ির ভিতরেই ঝলসে মৃত্যু হয় বিজেপি নেতা ও তাঁর দুই সঙ্গীর। এই ঘটনায় আকাশ ত্রিপাঠী, বিশাল ত্রিপাঠী, সত্যপ্রকাশ এবং মন্নু নামে চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ন’জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
বিজেপি নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই কোরিয়া জেলায় বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় জায়গায় জায়গায় পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বালি খননের চুক্তি নিয়ে একটা টানাপড়েন চলছিল ভরত সিংহের সঙ্গে। স্থানীয়দের দাবি, সোনহাট, কৈলাসপুর, তেলুমিড়া, বেলিয়া এবং ছিঙ্গুরায় বালি খননের রাশ কার হাতে থাকবে তা নিয়েই দুই বিজেপি নেতা ভরত এবং মনোজ ত্রিপাঠীর পরিবারের গন্ডগোলের সূত্রপাত। সেই গন্ডগোলের জেরেই কি ভরতের উপর হামলা চালানো হয়েছে? এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপি নেতা মনোজের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।