ফলতায় ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার ঘটনায় আরও বিপাকে পড়লেন তাঁর স্ত্রী। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক-সহ একাধিক ধারায় নতুন করে মামলা রুজু করেছে ফলতা থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, জাহাঙ্গিরকে থানা থেকে মুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার আগের দিন জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ফলতা থানা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সমর্থকদের জড়ো করা হবে। এর পর সেখান থেকে সংগঠিত ভাবে থানায় হামলা চালিয়ে জাহাঙ্গির খানকে ছাড়িয়ে আনার ছক কষা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই আরও ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে থানা হামলার ঘটনায় গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫। পুরো ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা ছিল এবং পরিকল্পনায় আর কারা জড়িত, তা ধৃতদের জেরা করে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্ত এগোলে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বুধবার ফলতায় জনকল্যাণ শিবিরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে গিয়ে তিনি এই প্রসঙ্গ তোলেন। সঙ্গে হুঁশিয়ারিও দেন, কেউ যেন নিজের হাতে আইন না তুলে নেন। কোনও গুন্ডামি, জঙ্গিপনা বরদাস্ত করা হবে না। তার পরই পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন, থানায় হামলা চালানোর ঘটনায় ভিডিয়োতে যাঁদের গিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা রুজু করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র এবং বিস্ফোরক আইনে নতুন করে মামলা রুজু করা হল ফলতা থানায়।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার জাহাঙ্গিরকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় নিয়ে বার হয়েছিল পুলিশ। অভিযোগ, জাহাঙ্গিরকে কেন এ ভাবে কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানো হচ্ছে, এমন প্রশ্ন তুলে আপত্তি তোলেন কয়েক জন। অবিলম্বে তাঁর মুক্তির দাবিও জানানো হয়। সেই দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় পথ অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। অভিযোগ, থানা ঘেরাওয়ের পরিকল্পনাও ছিল বিক্ষোভকারীদের। জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর নেতৃত্বে ঘেরাও কর্মসূচির প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তাঁরা। তবে পরিস্থিতি হাতের নাগালের বাইরে যাওয়ার আগেই পদক্ষেপ করে পুলিশ। নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও।