ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। এ বার তা স্পষ্ট হল। পরের বার থেকে যে আইপিএলের সময়ে বদল হতে পারে সেই ইঙ্গিত আগেই পাওয়া গিয়েছিল। তেমনটাই হতে চলেছে। জানিয়ে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তবে এখনও সরকারি ভাবে কোনও ঘোষণা হয়নি।
সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, আগামী মরসুমে আইপিএল শুরু হতে পারে ২০২৭ সালের ১০ মার্চ। সাধারণত মার্চ মাসের শেষ দিকে আইপিএল শুরু হয়। তা অনেকটাই এগিয়ে আনা হয়েছে। প্রতিযোগিতা শেষ হতে পারে ১৫ মে।
আইপিএলের আগেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ় (বর্ডার-গাওস্কর ট্রফি) খেলবে ভারত। সেই সিরিজ় শেষ হবে ৩ মার্চ। অর্থাৎ, লাল বলের ক্রিকেট শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই আইপিএলে নেমে পড়তে হবে ক্রিকেটারদের। দু’দলের যে ক্রিকেটারেরা আইপিএলের পাশাপাশি এই টেস্ট সিরিজ়েও খেলবেন, তাঁরা প্রস্তুতির বেশি সময় পাবেন না।
প্রতি বছর আইপিএলের সময় এক বা একাধিক ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যায়। আবার অত্যধিক গরমে সমস্যা হয় ক্রিকেটারদের। ফলে আইপিএল শুরুর সময় বদলের কথা ভাবছিল বোর্ড। ২০২৬ সালের আইপিএল শুরু হয়েছিল ২৮ মার্চ। ইডেনে কেকেআর বনাম পঞ্জাব কিংস ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যায়। আরও কয়েকটি ম্যাচে প্রভাব ফেলে বৃষ্টি। বাকি সময়ে গরমে সমস্যা হয়েছে ক্রিকেটারদের। বিশেষ করে দুপুরের খেলায় ক্রিকেটারদের পায়ে টান ধরেছে। শরীরে জলশূন্যতা দেখা গিয়েছে। গরমে সমস্যা হয়েছে দর্শকদেরও।
আরও পড়ুন:
ফলে আইপিএল শুরুর সময় বদলের কথা ভাবছিল বোর্ড। ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে বোর্ডের সচিব দেবজিৎ শইকীয়া বলেছিলেন, “মাঝে বিরতির জন্য গত বছর আইপিএল এক সপ্তাহ বাড়াতে হয়েছিল। এ বারও প্রতিযোগিতা ৩১ মে পর্যন্ত চলল। কয়েকটা জায়গায় অত্যধিক গরম ও বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। তাই ভাবছি, যদি আরও ১৫ দিন আগে প্রতিযোগিতা শুরু করা যায়।”
শইকীয়া জানিয়েছিলেন, আগে শুরু করলে আগে প্রতিযোগিতা শেষ হবে। তাতে গরম ও বৃষ্টির প্রভাব কিছুটা কমবে। তিনি বলেছিলেন, “এ বার ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। পরের বছর চেষ্টা করব, ১৫ মার্চ শুরু করার। তা হলে ১৫ মে-র মধ্যে আইপিএল শেষ হয়ে যাবে। মে মাসের শেষের দিকে বৃষ্টির আশঙ্কা বেশি থাকে। সেই সময় গরমও বাড়ে। তার প্রভাব ক্রিকেটার ও দর্শকদের উপর পড়ে। সেটা আর পড়বে না। তবে আপাতত সব ভাবনার পর্যায়ে আছে। এখনও কিছু ঠিক হয়নি।” সেই ভাবনাই এ বার সত্যি হওয়ার পথে।
তবে এখনই আইপিএল আরও বড় হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছেন শইকীয়া। তিনি বলেন, “লিগ আরও লম্বা হওয়ার সম্ভাবনা এখন নেই। কারণ, দল বাড়াতে গেলে বা ম্যাচের সংখ্যা ৭৪ থেকে ৯৪ করতে হলে অনেক কিছু মাথায় রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক সূচিও রয়েছে। ফলে আমাদের উপরই পুরোটা নির্ভর করছে না। ২০২৭ সালের পর এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।”