‘আমার মামলা’, বলছেন মমতা, খোঁচা শুভেন্দুর

এ বারের নির্বাচনে ভোটাধিকারের প্রশ্নই সব থেকে বড় আলোচ্য হয়ে উঠেছে। সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে ‘বিচারাধীন’ (আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন) পর্যায়ে বাদ পড়া ভোটারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি খুশি।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৩৬
(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

বিচারাধীন পর্বে (আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন) বাদ পড়া ২৭ লক্ষ ভোটারের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ায় খুশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশের পরে মমতা এ-ও মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি যে এই মামলা তিনি করেছিলেন এবং এই আদেশকে নিজের জয় বলে দাবি করেছেন তৃণমূল নেত্রী। অন্য দিকে, সর্বোচ্চ আদালতের এই আদেশে বিজেপিরও আপত্তির কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও।

এ বারের নির্বাচনে ভোটাধিকারের প্রশ্নই সব থেকে বড় আলোচ্য হয়ে উঠেছে। সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে ‘বিচারাধীন’ (আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন) পর্যায়ে বাদ পড়া ভোটারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি খুশি।’’ উত্তরবঙ্গে প্রচারের মধ্যে এই আদেশের কথা জেনে তিনি বলেন, ‘‘আমি বারবার সবাইকে বলছিলাম, ধৈর্য রাখুন, ট্রাইবুনালে আবেদন করুন। আজ হোক বা কাল, নিশ্চয়ই (সুযোগ) পাবেন।’’ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশেও তিনি বলেন, ‘‘ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্তে প্রথম দফার ভোটের আগে ২১ তারিখ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফার আগে ২৭ তারিখ পর্যন্ত যাঁদের নাম তালিকায় উঠবে, তাঁদের প্রত্যেকের কাছে ‘ভোটার স্লিপ’ পৌঁছে দিতে হবে। তাঁরা যেন ভোটটা দিতে পারেন।’’ সেই সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘‘এই রায় আমার মামলার উপরে। নিজে এই মামলা করেছিলাম।’’ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘তৃণমূল কোর্টে জেতে, মানুষের ভোটেও জেতে।’’ নাম না করে বিজেপি ও কমিশনের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, ‘‘ভোকাট্টা!’’

ট্রাইবুনালে বিচারাধীন আবেদন নিয়ে এ দিনের আদেশ সম্পর্কে শুভেন্দু বলেন, ‘‘যদি ট্রাইবুনাল শুনানি প্রক্রিয়ার নিষ্পত্তি করতে পারে এবং তার ভিত্তিতে দু’দিন আগে অতিরিক্ত তালিকা আসে, তা হলে আপত্তির কী আছে?’’ সেই সঙ্গে তিনিও মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘‘ট্রাইব্যুনাল থেকে কিন্তু শুধু যোগ হবে না, আগে উঠে যাওয়া যে সব নামে আপত্তি আছে, সেখান থেকে বাদও যেতে পারে।’’ তবে মুখ্যমন্ত্রী যে কৃতিত্ব দাবি করছেন, সে সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য, ‘‘উনি আনন্দে থাকুন, বেশি করে খাওয়াদাওয়া করুন। একটু বেশি ঘুমোন। বিশ্রামে থাকুন।’’

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের শাসক শিবিরকে একযোগে আক্রমণ করেছে সিপিএম। এ দিনের আদেশের পরেও বাদ পড়া মানুষের নাম অন্তর্ভূক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এখন কারও নাম উঠবে কি না সন্দেহ আছে। আর উঠলে শেষ লগ্নে কোথায়, কী ভাবে উঠবে পরিষ্কার নয়। ভোটার বাদ দিয়ে ভোট করে বিজেপি আর তৃণমূল জিততে চায়। এটা কখনও বৈধ ভোট হতে পারে না।’’ সেই সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রীর দাবি খারিজ করে নাম বাদ পড়ার জন্য তাঁকেই দায়ী করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এত মানুষের নাম বাদ যাওয়ার দায় যেমন কমিশনের, তেমনই মুখ্যমন্ত্রীরও। রাজ্য সরকারের অপদার্থতায় তালগোল পাকিয়েছে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী থাকলে এটা হতো না।’’

এই নতুন আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করলেও এ দিনের প্রচারেও আগাগোড়া কেন্দ্রীয় সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে নিশানা করেছেন মমতা ও অভিষেক। উত্তরবঙ্গে একাধিক সভায় এসআইআর সহ নির্বাচনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। সেই সূত্রেই মমতা বলেন, ‘‘যে অত্যাচার বাংলার উপরে করছে, ভোটে তার বদলা হবে, কী না?’’ পূর্ব মেদিনীপুরের সভায় অভিষেক বলেন, ‘‘যারা মানুষের উপর অত্যাচার করেছে, রোহিঙ্গা বলেছে, তারা যে ভাষা বোঝে সেই ভাষায় জবাব দেব। ডিজে বাজবে। কে, কত বড় নেতা, তালিকা তৈরি করেছি। সুদ সমেত হিসেব হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Mamata Banerjee Suvendu Adhikari

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy