কখনও কমিশনের পাল্টা রাজ্য, আবার কখনও রাজ্যের পাল্টা কমিশন—চলতি এসআইআর পর্বে দু’পক্ষের দড়ি টানাটানি কার্যত চরমে পৌঁছেছে। যার আঁচ জেলা প্রশাসনগুলির উপর পড়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সফরে। কড়া বার্তায় কমিশন সতর্ক করেছিল জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, আধিকারিকদের। সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনগুলির সঙ্গে হওয়া বৈঠকে ফের অভয়বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের অবস্থানে জেলাকর্তারা যাতে ভয় না পান, তা-ও জানাতে ভোলেননি তিনি।
ইরান-যুদ্ধের আবহে এ দিন জেলা প্রশাসনগুলিকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে তাঁর সাংবাদিক বৈঠকের কথা থাকলেও, পরে তা বাতিল হয়। প্রশাসনিক সূত্র জানাচ্ছে, এ দিন মমতা সকলের উদ্দেশে জানিয়েছেন, ফুল বেঞ্চের বৈঠকে কী হয়েছে, তার সবটাই তিনি শুনেছেন। ধারাবাহিক ভাবে ভয় দেখিয়েছে কমিশন। ভোট আসছে বলে তারা এ সব আরও বেশি করে করবে। জেলাকর্তারা তাঁদের দায়িত্ব পালন করুন। কেউ কিছু করতে পারবে না। ভোটের সময়ে এ রাজ্যে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতেও আগাম সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভোটের সময়ে কোনও সীমানা দিয়ে যাতে বাইরের লোক ঢুকতে না পারে, তার জন্য নাকা-তল্লাশি এবং কড়া নজর রাখতে হবে। হোটেলগুলির উপর রাখতে হবে নজর। তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতি নিষ্পত্তির যে কাজ বিচারকেরা করছেন, তাঁদের সহযোগিতার বার্তাও জেলা-কর্তাদের দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
প্রসঙ্গত, অতীতে মমতা বার বার আধিকারিকদের উদ্দেশে জানিয়েছিলেন, ভোটের সময় কমিশনের মেয়াদ সীমিত সময়ের জন্য। তার পরে তাঁর প্রশাসনই দায়িত্বে থাকবে। ফুল বেঞ্চের গত সফরে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনারদের সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, কমিশন দেড় মাসের জন্য কাজ করবে ধরে নিলে মস্ত ভুল হবে। অসাধু আচরণে কমিশন যে পদক্ষেপ করবে, তার মেয়াদ হবে দীর্ঘস্থায়ী। কমিশনের অবস্থান মমতার বক্তব্যের পাল্টা ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। এমনকি, গত সোমবার রাতে ফুল বেঞ্চের বৈঠকের পরে নবান্নে জেলাশাসকদের ডেকেও পাঠিয়েছিল প্রশাসনের শীর্ষমহল। মঙ্গলবার প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সে ব্যাপারেও নিজেদের কড়া মনোভাব জানায় কমিশন। এ দিন মমতা আবার অভয়বার্তা দিলেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)