E-Paper

মুখ্যমন্ত্রী হতে চান কি, মমতার তোপে মোদী

এ বারের নির্বাচনে দুই প্রধান প্রতিপক্ষ তৃণমূল কংগ্রেস আর বিজেপির প্রচারে গত দু’সপ্তাহ এই বিষয়ে আবর্তিত হচ্ছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪২
দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের চতুরঙ্গ মাঠে জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী।

দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের চতুরঙ্গ মাঠে জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী। ছবি: বিকাশ মশান।

মুখ্যমন্ত্রী হতে চান— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণে সোমবার এই মন্তব্য করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর পাল্টা আক্রমণ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পাল্টা বললেন— ভাইপোকে ( অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) মুখ্যমন্ত্রী চান মমতা!

এক দিকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, অন্য দিকে অনুপ্রবেশে মদত দিয়ে ভোটব্যাঙ্ক তৈরি। এ বারের নির্বাচনে দুই প্রধান প্রতিপক্ষ তৃণমূল কংগ্রেস আর বিজেপির প্রচারে গত দু’সপ্তাহ এই বিষয়ে আবর্তিত হচ্ছে। রাজ্যে ভোটের প্রচারে এসে রবিবার প্রধানমন্ত্রী মোদী বলে গিয়েছেন, বিজেপির প্রার্থীরা প্রত্যেকেই মোদী। প্রতীকী পরিচয়ে নিজের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চেয়েছেন তিনি। এ দিন তা নিয়েই সরব হয়েছেন মমতা। বীরভূম ও বর্ধমানের তিনটি সভায় তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘‘মোদী বলছেন, এ রাজ্যে উনি ২৯৪ আসনে তিনিই প্রার্থী। তা হলে বলুন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদটা নেবেন! তার আগে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিন।’’ এই সূত্রেই মমতার তোপ, ‘‘আপনি তো বাংলায় বহিরাগত!’’ আর শাহ সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য, ‘‘এক জন এসেছেন, মোটা ভাই। ভাবছেন ওঁর হুমকিতে সব ভোট দিয়ে দেবে!’’

রাজ্যে এ দিন একাধিক কর্মসূচি ছিল শাহেরও। প্রায় প্রতিটিতেই তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূলের কেউ নন, আগামী মুখ্যমন্ত্রী হবেন বাংলাভাষী, বাংলায় জন্ম- নেওয়া বিজেপিরই নেতা।’’ সেই সূত্রেই তাঁর সংযোজন, ‘‘দিদি ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করতে চান। কিন্তু ভাইপো হবেন না।’’ আসানসোলের সভায় মমতা- অভিষেককে এক বন্ধনীতে রেখে শাহের মন্তব্য, ‘‘সবাইকে ভাইপোর সিন্ডিকেটের জন্য ভুগতে হচ্ছে। বালি, কয়লা, পাথরের ‘কাটমানি’ (চক্র) চালাচ্ছে পিসি আর ভাইপো। সব টাকা যাচ্ছে দিদি আর ভাইপোর অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে।’’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাস, ‘‘৪ মে-র পরে এই কমিশন, সিন্ডিকেট বন্ধ করবে বিজেপি।’’ এই সুরেই শিল্প নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করে এ দিন উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের সভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘শিল্প নেই। তোলাবাজি চলছে। তৃণমূল ৬ হাজার ৮৮৮ টি শিল্প তাড়িয়েছে। বেকারত্ব বেড়ে এখন ২ কোটি ১৫ লক্ষ।”

অনুপ্রবেশকারী প্রসঙ্গ টেনে শাহ এ দিন বলেন, ‘‘মমতা আর ভাইপো কী ভাবে অনুপ্রেবশকারী তাড়াবেন? ওঁরাই তো অনুপ্রবেশ করিয়ে ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করেছে!’’ তাঁর কথা, ‘‘বিজেপির সরকার হচ্ছে। অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে বের করা হবে। এসআইআর-এ অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করা হচ্ছে, মমতাদিদি তার বিরোধিতা করছেন।’’ এই প্রশ্নে এসআইআর-এর সমালোচনা করে অভিষেকের বার্তা, ‘‘কেউ সিএএ- তে ( সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন) আবেদন করবেন না। ওই আবেদন করা মানে, আগে থেকে জানিয়ে দেওয়া যে আপনি বাংলাদেশি।’’ তাঁর মন্তব্য, ‘‘বিজেপি মানে ‘ডিটেনশন’। তৃণমূল মানে ‘নো টেনশন।’’ অভিষেক অবশ্য রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে বিজেপির ‘ডাবল ইঞ্জিন’-এর তুলনায় বেশি জোর জোর দিয়েছেন।

দুর্নীতি নিয়ে ‘দিল্লি’র দিকে আঙুল তুলেছেন মমতাও। তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূল চোর, তুমি সাধু! তোমাদের নেতারা কয়লার টাকা তোলে, হলদিয়া বন্দরের কত টাকা তোলে, কত ভাগ নিজেরা নেয় আর কত ভাগ দিল্লিতে যায়? সৌজন্যের খাতিরে নাম নাই বা বললাম। ইশারাই যথেষ্ট, বুঝে নিন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Mamata Banerjee

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy