WBState_Assembly_Elections_Lead0_03-05-26

ফের নির্বাচনে ভোট দিতে পারলেন না বহু পরিযায়ী

মগরাহাট পশ্চিমের উত্তর ইয়ারপুরের প্রৌঢ়া মানোয়ারা বিবি জানান, তাঁর ছেলে সাব্বির হোসেন মোল্লা কেরলে শ্রমিকের কাজ করেন। বুধবার ভোট দিয়ে শুক্রবার কাজের জায়গায় ফিরে যান। এ দিন ভোট দেওয়া হয়নি তাঁর।

সমীরণ দাস , সৈকত ঘোষ

শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ ০৭:১৭

—প্রতীকী চিত্র।

ফের ভোট হল। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভার ১১টি এবং ডায়মন্ড হারবারের চারটি বুথে শনিবারের সেই পুনর্নির্বাচনে ভোট দিতে পারলেন না বহু পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁরা গত বুধবার ভোট দিয়ে ভিন্-রাজ্যের কর্মস্থলে ফিরে গিয়েছেন। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মগরাহাট পশ্চিমে ৯২.১৭% এবং ডায়মন্ড হারবারে ৯১.৭৭% ভোট পড়েছে।

ভোট-যন্ত্র বিকল হওয়ায় ডায়মন্ড হারবারের রায়নগরের ২৪৩ নম্বর বুথে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে হয় ভোটারদের। যন্ত্র বদলে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ওই বিধানসভারই চাঁদা গ্রামের ১৭৯ নম্বর বুথে এক প্রতিবন্ধী ভোটার তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে গেলে, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী বাধা দেয় বলে অভিযোগ। মা-ছেলেকে আটক করে পুলিশ। বুথের কাছে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। কেন্দ্রীয় বাহিনী জমায়েত সরায়। মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভার নাজরা এফপি স্কুলের ১২৭ নম্বর বুথের কাছে তৃণমূলের ক্যাম্প অফিস ভাঙচুর, কয়েক জনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে৷ মগরাহাটের বাহিরপুয়া কুরকুরিয়া প্রাথমিক স্কুলের ভোটকেন্দ্রের বাইরে বিজেপি প্রার্থীকে দেখে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ সামাল দেয়।

মগরাহাট পশ্চিমের উত্তর ইয়ারপুরের প্রৌঢ়া মানোয়ারা বিবি জানান, তাঁর ছেলে সাব্বির হোসেন মোল্লা কেরলে শ্রমিকের কাজ করেন। বুধবার ভোট দিয়ে শুক্রবার কাজের জায়গায় ফিরে যান। এ দিন ভোট দেওয়া হয়নি তাঁর। মানোয়ারা বলেন, ‘‘এত দূর থেকে এসে ভোট দিয়েছিল ছেলে। সে ভোট গ্রাহ্য হল না!’’ ওই বিধানসভারই একতারা-মলয়া অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২১৪ নম্বর বুথের ভোটার সুকেশ হালদার ও প্রসেনজিৎ হালদারও পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁরাও ভিন্‌-রাজ্যের কর্মস্থলে ফিরে গিয়েছেন। ভোট দিতে পারেননি। তাঁদের আত্মীয় তথা পড়শি মোহন হালদারের ক্ষোভ, ‘‘পাড়ার অনেকেই বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করে। সবাই ভোট দিতে এসেছিল, কিন্তু ফিরে গিয়েছে৷ হঠাৎ পুনর্নির্বাচন হচ্ছে। ওদের ফেরার উপায় নেই। ভোটও দিতে পারল না!’’

মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী শামিম আহমেদ বলেন, ‘‘ভোটের পরে, স্ক্রুটিনিতে কেউ আপত্তি করেনি। হঠাৎই পুনর্নির্বাচনের নোটিস জারি হল। কেন নির্বাচন হচ্ছে, জানি না। গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করছে কমিশন।’’ বিজেপি প্রার্থী গৌরসুন্দর ঘোষের দাবি, ‘‘এই বিধানসভায় নানা অনিয়ম হয়েছে। তাই কমিশন ফের ভোট করাচ্ছে। আমাদের অনেক সমর্থকও ভোট দিতে পারেননি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Migrant Labours Re Election

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy