Advertisement

নবান্ন অভিযান

মমতার ভবানীপুরে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেল বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা! বিবেচনাধীন তালিকার কত নাম কাটলেন বিচারকেরা

এর আগে ভবানীপুরের ভোটার তালিকা থেকে ৪৭ হাজারের বেশি নাম কাটা হয়েছিল। ওই কেন্দ্রে ১৪ হাজার ১৫৪ জন ভোটারের নাম বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল। সেখান থেকেও বেশ কিছু নাম বাদ পড়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৩০
৫০ হাজারের বেশি নাম বাদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে।

৫০ হাজারের বেশি নাম বাদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ৫০ হাজারের গণ্ডিও ছাড়িয়ে গেল! বিবেচনাধীন তালিকা থেকেও অনেক নাম বাদ পড়েছে বলে খবর। এর আগে ভবানীপুরের ভোটার তালিকা থেকে ৪৭ হাজারের বেশি নাম কাটা হয়েছিল। নতুন করে বিবেচনাধীন তালিকার বাদের হিসাব যোগ হওয়ায় মোট নাম ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে।

ভবানীপুর কেন্দ্রের ১৪ হাজার ১৫৪ জন ভোটারের নাম বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল। এই নামগুলি যাচাই করে নিষ্পত্তি করেন কলকাতা হাই কোর্ট নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। সেখান থেকেই আরও ৩৫০০ নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বিচারকেরা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে তথ্য যাচাই এবং নিষ্পত্তি করে এই নামগুলি বাদ দিয়েছেন। এর আগে খসড়া ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা মিলিয়ে ভবানীপুর থেকে মোট বাদ গিয়েছিল ৪৭ হাজার ১১২ জনের নাম। বিবেচনাধীন তালিকার নিষ্পত্তির পর বাদ পড়া নামের সংখ্যা দাঁড়াল ৫০ হাজার ৬১২।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন যখন এসআইআর-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল, তখনও ৬০ লক্ষাধিক নাম বিবেচনাধীন ছিল। ধাপে ধাপে নিষ্পত্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করে কমিশন। বিবেচনাধীন তালিকা থেকে গোটা রাজ্যে মোট ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনের নাম বাদ পড়েছে। সবচেয়ে বেশি নাম কাটা পড়েছে মুর্শিদাবাদ থেকে। বিবেচনাধীন তালিকার হিসাব প্রকাশ্যে আসার পর দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় সব মিলিয়ে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের (৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫ জন) নাম বাদ গেল।

তথ্যগত অসঙ্গতির নিষ্পত্তি নিয়ে রাজ্য সরকার এবং কমিশনের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট হয়ে কলকাতা হাই কোর্টকে দায়িত্ব দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। হাই কোর্ট নিযুক্ত বিচারক এবং বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরাই বিবেচনাধীন তালিকার নামগুলির নিষ্পত্তি করেন। এই তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে পারছেন। তবে ভোটাধিকার মিলবে কি না, এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি আবেদনে রায় দিয়েছে ট্রাইবুনাল। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাদ পড়া নাম ভোটার তালিকায় ফেরানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তবে এত ভোটারকে বাদ দিয়ে কী ভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটগ্রহণ হতে পারে, প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন হবে। ভোটের ফলাফল জানা যাবে ৪ মে।

ভবানীপুরে ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। এই কেন্দ্রে প্রার্থী মমতা নিজেই। এ ছাড়া, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের পাশাপাশি এই কেন্দ্র থেকেও লড়ছেন। তাঁদের দ্বৈরথ দেখা যাবে ভবানীপুরে।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Mamata Banerjee Election Commission SIR Bhabanipur
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy