Advertisement

নবান্ন অভিযান

হিংসা রুখতে রাজনীতির রং না দেখে কঠোর পদক্ষেপ করুন! মুখ্যসচিবকে বার্তা শমীকের, বিধাননগরে বৈঠকে বিজেপি

সোমবার রাজ্যের ২৯৩টি আসনের ভোটগণনা হয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করতে চলেছে। ভোটের ফলাফলের পরের দিনই হিংসার বিরুদ্ধে বার্তা দিলেন শমীক।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ১৫:১৯
ভোট-পরবর্তী হিংসার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

ভোট-পরবর্তী হিংসার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা এই ধরনের কাজ করবেন, তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। এমনটাই জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্য প্রশাসনের দায়িত্বে এখন রয়েছেন মুখ্যসচিব। তাঁকেও এ বিষয়ে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন শমীক। ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে মঙ্গলবার বিজেপির শীর্ষনেতৃত্ব বিধাননগরের দফতরে বৈঠকও করেছেন। হিংসা রুখতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দলের তরফে কী পদক্ষেপ করা উচিত, তা নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

সোমবার রাজ্যের ২৯৩টি আসনের ভোটগণনা হয়েছে। ২০৭টিতে জিতেছে বিজেপি। তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করতে চলেছে। গণনার পরের দিন সকালে শমীক রাজ্যবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। যাঁরা বাইরে থেকে এসে ভোট দিয়েছেন, তাঁদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে ভোট-পরবর্তী হিংসার বিষয়ে সতর্ক থাকার আর্জিও জানিয়েছেন দলের কর্মীদের কাছে। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপির পতাকা নিয়ে অনেক জায়গায় ভাঙচুর করা হচ্ছে বলে শুনেছি। এর বিরোধিতা করছি। কেউ এমন করলে আমরা তাঁকে দল থেকে বার করে দিতে বাধ্য হব।’’

মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার কাছেও হিংসা রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আর্জি জানান শমীক। তিনি বলেন, ‘‘প্রশাসনকেও বলতে চাই, কোথাও এমন কোনও হিংসার ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নিন। কারণ, এই জন্যই বাংলার মানুষ বিজেপিকে বেছে নিয়েছেন। গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত আমাদের অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের যে স্বপ্ন ছিল, তা পূরণ হয়েছে। এখন আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দলের কর্মীদের বলতে চাই, শান্তিতে থাকুন। খুশি থাকুন। দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, পালন করুন। কিন্তু জয়ের আনন্দে কাউকে আঘাত করবেন না। কারও ভাবাবেগে আঘাত দেবেন না।’’

শমীক আরও বলেছেন, ‘‘পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাঁরা এত দূর থেকে নিজের গাঁটের কড়ি খরচ করে এসেছেন এবং ভোট দিয়েছেন।’’

সূত্রের খবর, ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে মঙ্গলবার বিধাননগরের দফতরে যে বৈঠক হয়েছে, সেখানে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকেরাও ছিলেন। হিংসা কী ভাবে আটকানো যায়, দলের কী করা উচিত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে ধরনের হিংসার অভিযোগ উঠেছিল, বিজেপির হাতে তার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সব স্তরেই হিংসার বিরুদ্ধে বার্তা পাঠানো হয়েছে। রাজনীতির রং না দেখে হিংসার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আর্জি প্রশাসনের কাছে রেখেছেন শমীক। সকল রাজ্যবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলেছেন তিনি।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Samik Bhattacharya BJP Post Poll Violence
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy