রাজ্যে ভোট ঘোষণার পরে কোচবিহারে প্রথম প্রচার-সভা থেকে অনুপ্রবেশ, জনবিন্যাস বদলে যাওয়ার মতো নানা অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ফের রাজ্যে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, পয়লা বৈশাখের আগে রাজ্যের নানা প্রান্তে আরও একগুচ্ছ কর্মসূচি করতে পারেন তিনি। ভোট যত এগিয়ে আসছে, পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে ঝড় তুলতে চাইছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তারই অংশ হিসাবে মোদীকে আরও বেশি করে সামনে রেখে দলের প্রচার-ভাষ্য জোরদার করার চেষ্টা চলছে।
বিজেপি সূত্রে খবর, ৯ তারিখ বীরভূমের সিউড়িতে সভা করতে পারেন মোদী। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল ও পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়াতেও সভা হতে পারে ওই দিন। এর পরে ১১ তারিখ ফের রাজ্যে এসে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে তিনটি সভা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। ওই দিন রাতে শিলিগুড়িতে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। পরের দিন সেখানে হতে পারে রোড-শো।
অসম, কেরল ও পুদুচেরিতে ৭ তারিখ প্রচার শেষ এবং ৯ তারিখ ভোট গ্রহণ। ফলে এর পরে পড়ে থাকবে তামিলনাড়ু (২৩ এপ্রিল) এবং পশ্চিমবঙ্গের (২৩ ও ২৯ এপ্রিল) ভোট। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে মোদীকে দিয়ে আরও বেশি প্রচার করতে চাইছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে মোদী ১৪-১৫টি কর্মসূচি করতে পারেন, যার সূচনা হয়ে গিয়েছে উত্তরবঙ্গ থেকে। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, কলকাতায় ব্রিগেড ময়দানের পরে কোচবিহারে মোদীর সভায় ‘ইতিবাচক সাড়া’ পাওয়া গিয়েছে। সেই সুরকে কাজে লাগিয়েই দল ভোটে যেতে চাইছে।
পাশাপাশি, প্রতি ভোটের মতো এই বারেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গকে ‘পাখির চোখ’ করে প্রচার চালাবেন। ইতিমধ্যেই যার ইঙ্গিত দেখা গিয়েছে, ভবানীপুরের দলীয় প্রার্থী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নে শাহের উপস্থিতিতে। এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে দলের প্রচারের জন্য মোদী, শাহ, রাজনাথ সিংহ, নিতিন নবীন, জগৎপ্রকাশ নড্ডা, ধর্মেন্দ্র প্রধান, সুনীল বনসল, নিতিন গডকঢ়ী-সহ ৪০ জন ‘তারকা প্রচারকে’র তালিকা দিয়েছে বিজেপি। তালিকায় রয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, দেবেন্দ্র ফডণবীস, মোহনচরণ মাঝি, মানিক সাহা-সহ বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও। রয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু, দিলীপ ঘোষ-সহ রাজ্য নেতৃত্বও। আছেন রাজবংশী নেতা অনন্ত মহারাজও।
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রচারে আসা নিয়ে ইতিমধ্যেই কটাক্ষ করছে তৃণমূল। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেছেন, “ভোট এলে বিজেপি নেতারা পরিযায়ী পাখির মতো বাংলায় আসেন। প্রচারে এসে বাংলাকে কালিমালিপ্ত করবেন। মানুষের রায় দিয়ে দিলে তাঁরা ফিরে যান। আবার বাংলার কপালে থাকবে বঞ্চনা ও অত্যাচার!”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)