ব্রিগেড থেকে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে গিয়েছিলেন। ভোট ঘোষণার পর বিজেপির ‘শক্ত মাটি’ ওই উত্তরবঙ্গ দিয়ে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ৫ এপ্রিল, রবিবার কোচবিহারের ঐতিহাসিক রাসমেলা ময়দানে তাঁর ‘বিজয় সংকল্প সভা’ রয়েছে। তার পর আগামী ৬ এপ্রিল সকাল ৯টায় পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি কার্যকর্তাদের ব্রিজ়কলে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী।
গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘জনতার চার্জশিট’ পেশ করেছেন। তার রেশ ধরে ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’-এর রূপরেখা তুলে ধরতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। আবার এসআইআর আবহে বার বার উত্তেজনা ছড়ানো জেলায় প্রধানমন্ত্রী কী বার্তা দেন, সেটাও দেখার। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘ভয় নয়, ভরসা। ভিক্ষা নয়, কর্মসংস্থান। মেধার প্রতারণা নয়, পশ্চিমবঙ্গকে ‘ওল্ড এজ হোম’ বানানো নয়, ‘সুজলাং সুফলাং’ পশ্চিমবঙ্গের চেহারা ফেরাতে, অবহেলিত এবং বঞ্চিত উত্তরবঙ্গে উন্নয়নের স্পষ্ট বার্তা নিয়ে আগামিকাল (রবিবার) কোচবিহারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।’’
মোদীর সভাস্থল হিসাবে রাসমেলা ময়দান বেছে নেওয়া ‘তাৎপর্যপূর্ণ’। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ওই রাসমেলার ময়দানেই জনসভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে, গত লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গে সামগ্রিক ভাবে ভাল ফল করলেও কোচবিহারের আসনে বিজেপিকে হারতে হয়েছে।
স্বাধীনতা ইস্তক টানা ছ’টি লোকসভা ভোটে কোচবিহার কেন্দ্রে জিতেছে কংগ্রেস। আবার ১৯৭৭ থেকে টানা ১০ বার ওই লোকসভায় জয়ী হয় ফরওয়ার্ড ব্লক। ২০১৯ সালে কোচবিহারে থাবা বসায় বিজেপি। তৃণমূলত্যাগী নিশীথ প্রামাণিক জয়ী হয়ে স্থান পান মোদীর মন্ত্রিসভায়। কিন্তু ’২৪-এর লোকসভা ভোটে সেই নিশীথকেই তৃণমূল প্রার্থী জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার কাছে পরাজিত হতে হয়। অন্য দিকে, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে কোচবিহারে ন’টির মধ্যে সাতটি আসনে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। পরে নিশীথ বিধায়ক পথ থেকে ইস্তফা দিয়ে আবার সংসদে চলে যান। উপনির্বাচনে দিনহাটায় জয়লাভ করেন উদয়ন গুহ।
’২৬-এর ভোটে কোচবিহার-সহ উত্তরবঙ্গে আবার বাড়তি নজর দিচ্ছে বিজেপি। মোদীর সভা ঘিরে নয়া উদ্দীপনায় পদ্মশিবির। জেলার মেখলিগঞ্জ বিধানসভাটি সাংগঠনিক ভাবে জলপাইগুড়ি জেলার মধ্যে ধরে বিজেপি। ওই কেন্দ্র বাদ দিয়ে কোচবিহারের জেলার আটটি এবং আলিপুরদুয়ারের পাঁচটি মিলিয়ে মোট ১৩টি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। সে ক্ষেত্রে রাসমেলার বিশাল ময়দান ভরানোও বিজেপির কাছে ‘চ্যালেঞ্জ’। জেলা বিজেপির সভাপতি অভিজিৎ বর্মণের কথায়, ‘‘কোচবিহার দিয়েই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী জনসভা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী। এখান থেকেই তৃণমূলকে রাজ্য থেকে উৎখাত করার আওয়াজ উঠবে। তিন লক্ষেরও বেশি জনসমাগম হবে এই জনসভায়।’’
আরও পড়ুন:
রাসমেলা ময়দানে মোট তিন ধাপে মঞ্চ করা হয়েছে। মাঝখানের মূল মঞ্চ থেকে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি সূত্রে খবর, রবিবার দুপুর ২টো নাগাদ কোচবিহার বিমানবন্দরে বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে অবতরণ করবে। বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে রাসমেলা ময়দানে পৌঁছোবেন মোদী। যে সড়কপথে তিনি সভামঞ্চে পৌঁছোবেন, তার দু’ধারে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সভার নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী, জেলা পুলিশ প্রশাসন থেকে এসপিজি সভাস্থল এবং আশেপাশের এলাকায় কড়া নজরদারি চালিয়েছে। আবার সম্ভাব্য ভিড়ের কথা মাথায় রেখে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য বিকল্প রাস্তাও তৈরি করে রাখা হচ্ছে।