২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার থেকে জয়ী হয়ে সংসদে গিয়েছিলেন নিশীথ প্রামাণিক। পরে হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ডেপুটি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেই কোচবিহার আসনেই হেরে গিয়েছিলেন নিশীথ। সেই নিয়ে কারচুপির অভিযোগ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থও হয়েছিলেন। এ বার কোচবিহারের মাথাভাঙা বিধানসভা আসনে বিজেপির প্রার্থী হয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তাঁর সম্পত্তি কত? কত দূর পড়াশোনা করেছেন? সে সবই তিনি জানিয়েছেন হলফনামায়।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারের দিনহাটা আসন থেকে বিজেপির টিকিটে লড়েছিলেন নিশীথ। জিতে বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। পরে নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় জায়গা পান। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে কোচবিহার কেন্দ্রে তৃণমূলের জগদীশচন্দ্র বসুনিয়ার কাছে নিশীথ হেরেছিলেন প্রায় ৪০ হাজার ভোটে। ‘ইলেকশন পিটিশন’ দায়ের করে নিশীথ জানান, কোচবিহারের ভোটে কারচুপি হয়েছে। গণনাকেন্দ্রে শতাধিক ইভিএম বদল করা হয়েছে। এ বার মাথাভাঙা বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন নিশীথ।
সম্পত্তি ও অর্থ
২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে যখন মনোনয়ন জমা করেছিলেন নিশীথ, তখন হলফনামায় জানিয়েছিলেন তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ। সেই সময় তাঁর মোট ঘোষিত সম্পত্তি ছিল ১,০৫,১২,৬৯৯ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ১২ লক্ষ ৩৪ হাজার ৫৭৪ টাকা। লোকসভা ভোট যে বছর হয়, সেই ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ১০ লক্ষ ৩৯ হাজার ৬৮০ টাকা। হলফনামা অনুসারে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে নিশীথের আয় ২ লক্ষ ৯৬ হাজার ৯১০ টাকা। তাঁর স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা প্রামাণিক, দুই নাবালক পুত্রের আয়ের তথ্য দাখিল করা হয়নি হলফনামায়। নিশীথের হাতে এখন নগদ রয়েছে ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা। তাঁর স্ত্রীর হাতে নগদ রয়েছে ২৫ হাজার ৬৫০ টাকা। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার তিনটি অ্যাকাউন্টে তাঁর নামে যথাক্রমে ৪,৭৪৯ টাকা, ৯০০ টাকা এবং ১ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকা রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ১৬,৫০০ টাকা রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর নামে ৫ লক্ষ টাকার একটি বিমা রয়েছে।
নিশীথের হাতে ৬১.০৫ গ্রাম সোনা, রুপোর গয়না রয়েছে, যার বাজারমূল্য ৯ লক্ষ ১৫ হাজার ৭৫০ টাকা। তাঁর স্ত্রীর কাছে ১১৮.৫৪ গ্রাম ওজনের সোনা, রুপোর গয়না রয়েছে। তার মূল্য ১৭ লক্ষ ৭৮ হাজার ১০০ টাকা।
আরও পড়ুন:
নিশীথের নামে ২০ লক্ষ ৪১ হাজার ৮৭৫ টাকার বাস্তু জমি রয়েছে। তাঁর স্ত্রী ৭০ হাজার ৪৫৬ টাকা সম্পত্তি উপহার হিসাবে পেয়েছেন। জমিতে নিশীথ বিনিয়োগ করেছেন ৩৩ লক্ষ টাকা। কলকাতায় তাঁর একটি ৫৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে। তার মূল্য এখন ২২ লক্ষ টাকা। তাঁর স্ত্রীর কাছে আড়াই লক্ষ টাকা মূল্যে স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে।
অপরাধের রেকর্ড
হলফনামা অনুসারে, নিশীথের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত মোট ১৬টি এফআইআর রুজু হয়েছে দিনহাটা, মাথাভাঙা, কোতোয়ালি, আলিপুরদুয়ারের বিভিন্ন থানায়। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ১৬টি ফৌজদারি মামলা হয়েছে। দিলহাটা, আলিপুরদুয়ার, মাথাভাঙা, কোচবিহারের সিজেএম (মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট) আদালতে সেই মামলাগুলি এখনও ঝুলছে। পাঁচটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হয় আদালতে। তবে কোনও মামলাতেই তাঁকে এখনও পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত করেনি আদালত। হলফনামা বলছে, ডাকাতির প্রস্তুতি, সেই উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়া, প্রতারণা, বেআইনি ভাবে জমায়েত করা, বিস্ফোরক রাখা বা তৈরি করা, সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে বিজেপির জেলাশাসক অফিস ঘেরাও অভিযান থেকে গ্রেফতারও হয়েছিলেন তিনি।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
কোচবিহারের দিনহাটার ভেতাগুড়ি লাল বাহাদুর শাস্ত্রী বিদ্যাপীঠ থেকে মাধ্যমিক পাশ করেছেন নিশীথ। হলফনামা বলছে, তিনি মাধ্যমিক পাশ। তবে কোন বছরে পাশ করেছেন, তা উল্লেখ করা নেই।