Advertisement

নবান্ন অভিযান

খুনের চেষ্টা, চুরির মতো মামলা ঝুলছে! বীরভূমের কাজল শেখ কত সম্পত্তির মালিক?

পেশায় মাছচাষি। হাসনের তৃণমূল প্রার্থী ৫১ বছরের কাজলের আসল নাম কিন্তু অনেকেই জানেন না। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে মোট ছ’টি। তার মধ্যে দু’টি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জও গঠন করা হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:০৪
বীরভূমের হাসনের তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখ।

বীরভূমের হাসনের তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বীরভূমের হাসন থেকে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে কাজল শেখকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। দীর্ঘ দিন এই দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কাজল এর আগে কখনও বিধানসভা ভোটে লড়েননি। তাঁর দাদা শেখ শাহনাওয়েজ অবশ্য কেতুগ্রামের তিন বারের বিধায়ক। শুক্রবার সংশ্লিষ্ট দফতরে গিয়ে কাজল প্রার্থী হিসাবে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। হলফনামায় দেখা যাচ্ছে, কাজলের বিরুদ্ধে গুচ্ছ গুচ্ছ অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। মামলা চলছে মোট ছ’টি। তার মধ্যে দু’টি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জও গঠন করা হয়েছে। মামলাগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে হলফনামায় দাবি করেছেন কাজল।

হাসনের তৃণমূল প্রার্থী ৫১ বছরের কাজলের আসল নাম কিন্তু অনেকেই জানেন না। নির্বাচন কমিশনের খাতায় তিনি ফয়েজ়ুল হক, পেশায় মাছচাষি। তাঁর স্ত্রী নাহিদা খাতুন ঘরের কাজ সামলান। কাজলের দুই কন্যা— অহনা পরভিন এবং অনয়া পরভিন। রাজনীতির সঙ্গে তাঁদের সরাসরি কোনও যোগ না থাকলেও কাজল নিজে ছোট থেকে রাজনীতি দেখে এসেছেন। রাজনীতির ছায়াতেই বড় হয়েছেন। অভিযোগ, বাম জমানায় তাঁকে অনেক মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। অধিকাংশ অভিযোগই ‘মিথ্যা’ বলে অতীতে বিভিন্ন জায়গায় তিনি দাবি করেছেন।

বীরভূমের রাজনীতিতে কাজল পরিচিত নাম। অনুব্রত মণ্ডলের পরেই বীরভূমে তৃণমূলের মুখ হিসাবে তিনি উঠে এসেছিলেন। বিশেষত, অনুব্রত যখন গরু পাচার মামলায় জেল খাটছেন, সেই সময় দলকে সাফল্য এনে দিয়েছিলেন কাজল। তখন থেকে বীরভূমের সংগঠনে তাঁর গুরুত্বও অনেক বেড়ে গিয়েছে। ২০২৬ সালে হাসনের টিকিট কাজলের ‘পুরস্কার’ বলেও ঘনিষ্ঠ মহলে তৃণমূলের অনেকে দাবি করেন। অনুব্রতের সঙ্গে তাঁর ‘মধুর’ সম্পর্কের কথা কারও অজানা নয়। অনুব্রত যে মঞ্চে থাকেন, সেখানে কাজলকে দেখা যায় না। আবার কাজল থাকলে ব্রাত্য হয়ে পড়েন কেষ্ট! এ হেন কাজলের হলফনামাও কম চমকপ্রদ নয়।

সম্পত্তি ও অর্থ

হলফনামায় কাজল জানিয়েছেন, তিনি ১ লক্ষ ১৭ হাজার ২৫৬ টাকা নগদ হাতে নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামছেন। তাঁর স্ত্রীর হাতে আছে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৯৯ টাকা। কাজলের মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৫৪ লক্ষ ১১ হাজার ৯০০ টাকা। এ ছাড়া, তাঁর স্ত্রী ২৭ লক্ষ ৯০ হাজার ২২৮ টাকার অস্থাবর সম্পত্তির মালিক। কাজলের নামে মোট ১ কোটি ৫৩ লক্ষ ৮৫ হাজার ৬৭০ টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৯৩ লক্ষ টাকা। স্থাবর ও অস্থারর মিলিয়ে হাসনের তৃণমূল প্রার্থী মোট ২ কোটি ৭ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫৭০ টাকার সম্পত্তির মালিক।

অপরাধের রেকর্ড

কাজলের নামে মোট ছ’টি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে পাঁচটি নানুর থানায় এবং একটি বোলপুর থানায়। ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারার পাশাপাশি অস্ত্র আইনেও অভিযোগ রয়েছে কাজলের বিরুদ্ধে। নানুর থানার দু’টি মামলায় ২০১২ এবং ২০১৬ সালে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে। কাজল নিজে তার বিরুদ্ধে আবেদনও করেছেন। অন্য মামলাগুলির ক্ষেত্রে এখনও চার্জ গঠন হয়নি। কোনও মামলাতেই কাজল দোষী সাব্যস্ত নন। হলফনামা অনুযায়ী, কাজলের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, চুরি, ইচ্ছাকৃত ভাবে আঘাত করা, সাম্প্রদায়িক অশান্তি সৃষ্টি, ষড়যন্ত্র, বিপজ্জনক অস্ত্র প্রয়োগ করে জখম করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন মামলায় সংশ্লিষ্ট ধারা যোগ করা হয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

২০১২ সালে মেঘালয়ের সিএমজে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক পাশ করেছেন কাজল। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে হলফনামায় আর কিছু জানাননি। মাছ চাষের ব্যবসা রয়েছে কাজলদের। সঙ্গে অন্য চাষবাস থেকেও উপার্জন হয়।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Kajal Sheikh Hansan Birbhum TMC Candidate Affidavit Candidate Assets
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy