রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বৃহস্পতিবার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে নিজের মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে মনোনয়নের মিছিলে ছিলেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। হলফনামায় দেখা যাচ্ছে, ২০২১ সালের চেয়ে তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৯.৬৫ লক্ষ টাকা কমে গিয়েছে। স্থাবর সম্পত্তি কিছুটা বাড়লেও অনেকটা কমে গিয়েছে অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যাও এ বার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে তিনি যখন ভোটে লড়েছিলেন, একটি মামলাও তাঁর নামে ছিল না। এ বারের হলফনামায় তাঁর নামের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে ২৯টি মামলা।
২০২১ সালে নন্দীগ্রাম থেকে বিজেপির টিকিটে ভোটে লড়েছিলেন শুভেন্দু। হারিয়ে দিয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এ বার আর মমতা নন্দীগ্রামে ভোটে দাঁড়াননি। নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেই তিনি লড়বেন। তবে শুভেন্দুকে এ বার বিজেপি নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর থেকেও প্রার্থী করেছে। ফলে ফের মমতা-শুভেন্দু দ্বৈরথ দেখবে রাজ্য। নন্দীগ্রামে প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিলই ভোটগ্রহণ হয়ে যাবে। ভবানীপুরে ভোট রয়েছে ২৯ এপ্রিল। শুভেন্দু গত সোমবার নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসাবে নিজের মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার মনোনয়ন দিলেন ভবানীপুরের প্রার্থী হিসাবে।
আরও পড়ুন:
সম্পত্তি ও অর্থ
বৃহস্পতিবারের মনোনয়নপত্রে শুভেন্দুর দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ১২ হাজার টাকা। বর্তমানে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২৪ লক্ষ ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা। স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৬১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। অর্থাৎ, এখন তিনি মোট ৮৫ লক্ষ ৮৭ হাজার ৬০০ টাকার মালিক। ২০২১ সালে পাঁচ হাজার টাকা নগদ ছিল শুভেন্দুর হাতে। অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৫৯ লক্ষ ৩১ হাজার ৬৪৭ টাকা। স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৪৬ লক্ষ ২১ হাজার ১০২ টাকা। অর্থাৎ, গত পাঁচ বছরে শুভেন্দুর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৩৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ৪৭ টাকা কমেছে। তবে স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে ১৫ লক্ষ ৮ হাজার ৮৯৮ টাকা।
অপরাধের রেকর্ড
২০২১ সালে শুভেন্দু যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন, তাতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলাই ছিল না। অর্থাৎ, কোনও অপরাধের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা হয়নি। তবে ছবিটা আমূল বদলে গিয়েছে ২০২৬ সালে। এখন তাঁর নামে ২৯টি মামলা রয়েছে। গড়বেতা থানা, খড়্গপুর সদর থানা, চাঁচল থানা, মোহনপুর থানা, খড়দহ থানা, লালগড় থানা, সাঁকরাইল থানা, জামবনি থানা, ঝাড়গ্রাম থানায় তাঁর নামে মামলা রয়েছে। কলকাতার বৌবাজার, বেলেঘাটা, হেয়ার স্ট্রিট থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, চার্জ গঠন হয়নি একটিতেও।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
শুভেন্দু স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। ২০১১ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করেন তিনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত