নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী পবিত্র কর। বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। সেই হলফনামা থেকেই জানা গিয়েছে, তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা।
পবিত্র এককালে তৃণমূল করলেও ২০২০ সালে শুভেন্দু বিজেপিতে যাওয়ার কিছু দিন আগে পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। হয়েছিলেন বিজেপির ব্লক সভাপতিও। তাঁর স্ত্রী বিজেপির টিকিটে জিতে পঞ্চায়েত প্রধান হন। নন্দীগ্রামের যে এলাকায় শুভেন্দু গত বিধানসভা ভোটে সবচেয়ে বেশি লিড পেয়েছিলেন, পবিত্র সেই বয়াল এলাকারই নেতা। শুভেন্দুর ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেও পরিচিত ছিলেন নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে। শুধু রাজনীতি নয়, হিন্দুত্ববাদী একাধিক সংগঠনেও নেতৃত্ব দিয়েছেন পবিত্র। গত ১৭ মার্চ সকালে অভিষেকের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা তুলে নেন পবিত্র। তার পরে তাঁকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়। আগামী ২৩ এপ্রিল, প্রথম দফায় ভোট রয়েছে নন্দীগ্রামে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
১৯৯৮ সালে নারায়ণচক হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করেছেন পবিত্র। হলফনামা অনুযায়ী, তিনি মাধ্যমিক পাশ।
সম্পত্তির পরিমাণ
হলফনামা অনুসারে ৪৩ বছরের পবিত্রের ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আয় ছিল ৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ৫৫০ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ৫৯০ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৪ লক্ষ ৩৪ হাজার ৮৪০ টাকা। প্রার্থীর হাতে ৫৪ হাজার ৫৩০ টাকা নগদ রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর হাতে রয়েছে নগদ ২৮ হাজার ২৭৪ টাকা। ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের তেরাপাখিয়া শাখায় ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫৭৬ টাকা সেভিংস অ্যাকাউন্টে রয়েছে। ওই শাখারই অন্য একটি অ্যাকাউন্টে ১০০০ টাকা রয়েছে। তাঁর দু’টি জীবনবিমা রয়েছে। একটির মূল্য ১০ লক্ষ, দ্বিতীয়টির ২৫ লক্ষ টাকা। ব্যক্তিগত কোনও ঋণ নেই। প্রার্থীর কাছে ৫০ গ্রাম সোনা রয়েছে, যার মূল্য এখন ৭ লক্ষ ৩ হাজার ৭৫০ টাকা। তাঁর স্ত্রীর কাছে ৪০০ গ্রাম সোনা রয়েছে। যার মূল্য এখন ৫৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে কেনা একটি ‘হন্ডা সাইন’ বাইক রয়েছে তাঁর। সেই বাইকের মূল্য ৮৬ হাজার টাকা। প্রার্থীর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৪৬ লক্ষ ৭৮ হাজার ৮৫০ টাকা। তাঁর স্ত্রীর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৭০ লক্ষ ৭৩ হাজার ৪১ টাকা। পবিত্রের কাছে ৪.৭৯২৪৪ একর কৃষি জমি রয়েছে, যার মূল্য ৭২ লক্ষ ১৩ হাজার ৬৫ টাকা। বাস্তু জমি তাঁর নেই। তাঁর নামে কোনও বাড়ি বা বাণিজ্যিক ভবনও নেই।
আরও পড়ুন:
অপরাধের রেকর্ড
হলফনামা বলছে, নন্দীগ্রাম থানায় পবিত্রের বিরুদ্ধে চারটি এফআইআর রুজু হয়েছিল— ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ সালের ১৭ মার্চ, ২০২১ সালের ২৭ মার্চ এবং ২০২৩ সালের ২২ জুন। ২০২০ সালে হলদিয়ার এসিজেএম (অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট) আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে তিন মামলা রুজু হয়। ২০২১ সালে হলদিয়ার এডিজে (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত) কোর্টে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু হয়। ওই বছর হলদিয়ার এসিজেএম আদালতেও একটি মামলা রুজু হয়েছে পবিত্রের বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালে হলদিয়ার এসিজেএম আদালতে আরও একটি মামলা রুজু হয় পবিত্রের বিরুদ্ধে। কাউকে আঘাত করা, সম্পত্তি নষ্ট, কারও বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে ওই মামলাগুলি হয়েছিল। ২০২১ সালে হলদিয়ার এডিজে আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে এই ধারাগুলির পাশাপাশি খুনের চেষ্টার মামলাও রুজু হয়েছিল। তবে কোনও মামলাতেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি তাঁকে, এমনটাই তিনি হলফনামায় জানিয়েছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত