Advertisement

নবান্ন অভিযান

মালদহ কাণ্ডে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিল কমিশন! ডিজির বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে জ্ঞানেশ বলেন, ‘আগে ব্যবস্থা হয়নি কেন’

ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কেন অশান্তির অভিযোগ উঠেছে। সেই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:২৯
(বাঁ দিকে) মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ডিজিপি সিদ্ধনাথ গুপ্ত (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ডিজিপি সিদ্ধনাথ গুপ্ত (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

মালদহের ঘটনায় এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। এই ঘটনায় কমিশনকে সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিল। শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, সিবিআই অথবা এনআইএ-র মতো স্বাধীন সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে। এর পরেই এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করানোর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। শুক্রবার রাজ্যে আসার কথা এনআইএ আধিকারিকদের।

মালদহের ঘটনায় রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল এবং পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেখানে তিনি এই ঘটনায় বিরক্তি প্রকাশ করেন বলে খবর। জ্ঞানেশের ক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিংহ। তাঁর প্রশ্ন, শুরুতেই কেন পদক্ষেপ করা হয়নি? সিইও অফিসের সামনে দু’দিন ধরে কেন গন্ডগোল চলছে? সেখানে এত লোক জমা হলেন কী ভাবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন জ্ঞানেশ। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছিল কমিশন। সেখানেই বৈঠকে যোগ দেন তিনি। তাঁর সঙ্গে আলাদা করে কমিশন বৈঠক করবে বলে খবর।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহ কাণ্ডে পুলিশ সুপার অনুপমকে পদক্ষেপ করার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছিল কমিশন। তারা জানিয়েছিল, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার মধ্যে মালদহের মানিকচকে ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। একটা সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পরে যদিও এনআইএ-কে তদন্তভার দেয়। মালদহের পুলিশ সুপারের উদ্দেশে জ্ঞানেশ বৈঠকে বলেন, ‘‘ঘটনাস্থলে যাননি কেন?’’ উত্তরে এসপি জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। পাল্টা কমিশন জানায়, তা হলে তাঁকে এডিজি করে দেওয়া হচ্ছে। মালদহের জেলাশাসকের উদ্দেশে কমিশন বলে, ‘‘আপনাকে ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। বাসভবনে ছিলেন না! কোথায় ছিলেন?’’ রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথকেও বার্তা দিয়েছে কমিশন। তার কথায়, ‘‘আপনি এত সিনিয়র অফিসার। আপনার কাছ থেকে এ সব আশা করা যায় না।’’

ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কেন অশান্তির অভিযোগ উঠেছে, সেই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। অন্য দিকে, সিইও দফতরের সামনেও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এই নিয়ে কমিশনের বক্তব্য, একাধিক জায়গায় কেন জমায়েত করতে দেওয়া হচ্ছে? কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে জ্ঞানেশ বলেন, ‘‘একজন আইপিএস অফিসার হয়ে কলকাতা সামলাতে পারছেন না! আপনাকে কি প্রশিক্ষণ দিতে হবে?’’

মালদহ কাণ্ড এবং সেই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজ্যের সিইও মনোজ, মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ, এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) অজয় মুকুন্দ রানাডে, কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয়, সকল জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও), পুলিশ সুপারের সঙ্গে তড়িঘড়ি বৈঠকে বসেন জ্ঞানেশ। সেখানেই তিনি এ সব কথা বলেছেন বলে খবর।

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা। এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতর রাত পর্যন্ত আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টকে জানান। তার পরেই বৃহস্পতিবার সকালে এসআইআর মামলাটি শুনতে চায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ।

এসআইআরের কাজে যুক্ত বিচারকদের নিরাপত্তা দিতে না-পারায় রাজ্য প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করেন দেশের প্রধান বিচারপতি। মালদহের ঘটনায় সিবিআই বা এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করানোর কথা কমিশনকে বলেছে শীর্ষ আদালত। সেই সঙ্গে আরও একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে তারা। নির্বাচন কমিশনকে বলা হয়েছে, এসআইআরের কাজে নিযুক্ত বিচারকদের (বা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের) পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে হবে। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে তাঁদের বাসভবনেরও। নিরাপত্তাগত ঝুঁকি থাকলে তা পর্যালোচনা করে বিচারকদের পরিবারকেও সুরক্ষিত রাখার বন্দোবস্ত করতে বলা হয়েছে কমিশনকে। বৃহস্পতিবার মালদহের পাশাপাশি রাজ্যের আরও কিছু জায়গায় সংঘাত শুরু হয়েছে। এর পরেই বৃহস্পতিবার বিকেলে সিইও, রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে কমিশন অসন্তোষ প্রকাশ করে।

(সংশোধনী: মালদহের ঘটনায় সিবিআই তদন্ত নয়, এনআইএ তদন্ত করবে। যদিও প্রথমে কলকাতার সিইও দফতর সূত্রে জানানো হয়োছিল, সিবিআই-কে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। রাতে নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, ঘটনার তদন্তভার গিয়েছে এনআইএ-র হাতে। সেই অনুযায়ী আমরা আমাদের খবরে প্রয়োজনীয় সংশোধন করেছি।)

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
১ মিনিট আগে
Election Commission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy