Advertisement

নবান্ন অভিযান

রাজ্যের সিইও, প্রশাসন, পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে তড়িঘড়ি বৈঠকে কমিশন! মালদহ কাণ্ডে সুপ্রিম নির্দেশের পরেই দ্রুত পদক্ষেপ

মালদহে অশান্তির ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, সিবিআই কিংবা এনআইএ-র মতো ‘স্বাধীন’ সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে। তার পরেই সক্রিয় হয়েছে কমিশন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:২৯
(বাঁ দিকে) মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

মালদহে অশান্তির ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই বৃহস্পতিবার তড়িঘড়ি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও), পুলিশ এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসল নির্বাচন কমিশন। বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুরু হয় বৈঠক। ওই অশান্তির ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, সিবিআই কিংবা এনআইএ-র মতো ‘স্বাধীন’ সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে। কমিশন সূত্রে খবর, সেই নিয়ে রাজ্যের পুলিশ এবং প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের সিইও মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) অজয় মুকুন্দ রানাডে, কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ, সকল জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও), পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে কমিশন।

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা। এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতর রাত পর্যন্ত আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টকে জানান। তার পরেই বৃহস্পতিবার সকালে এসআইআর মামলাটি শুনতে চায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ।

এসআইআরের কাজে যুক্ত বিচারকদের নিরাপত্তা দিতে না-পারায় রাজ্য প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করেন দেশের প্রধান বিচারপতি। মালদহের ঘটনায় সিবিআই বা এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করানোর কথা কমিশনকে বলেছে শীর্ষ আদালত। সেই সঙ্গে আরও একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে তারা। নির্বাচন কমিশনকে বলা হয়েছে, এসআইআরের কাজে নিযুক্ত বিচারকদের (বা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের) পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে হবে। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে তাঁদের বাসভবনেরও। নিরাপত্তাগত ঝুঁকি থাকলে তা পর্যালোচনা করে বিচারকদের পরিবারকেও সুরক্ষিত রাখার বন্দোবস্ত করতে বলা হয়েছে কমিশনকে। বৃহস্পতিবার মালদহের পাশাপাশি রাজ্যের আরও কিছু জায়গায় সংঘাত শুরু হয়েছে। এর পরেই বৃহস্পতিবার বিকেলে সিইও, রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে কমিশন। সূত্রের খবর, রাজ্যের পরিস্থিতি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে আলোচনা হবে বৈঠকে।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Election Commission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy