দেশের প্রথম মহিলা সাঁতারু হিসেবে সপ্তসিন্ধু জয়ের স্বপ্ন ছিল কালনার সায়নী দাসের। জাপানের সুগারু চ্যানেল জয় করতে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু মাঝ পথে বুকে তীব্র ব্যথায় তাঁকে নৌকায় তুলে নিতে হয়। লক্ষ্য পূরণে এই প্রথম ব্যর্থ হলেন তিনি।
কালনার বারুইপাড়ার সায়নী ২০১৭ সালে ইংলিশ চ্যানেল জেতেন। একে একে জিব্রাল্টার প্রণালী, নর্থ চ্যানেল, ক্যাটালিনা চ্যানেল, মলোকাই চ্যানেল এবং কুক প্রণালীও অতিক্রম করেন। কখনও শরীর অসাড় হয়ে এসেছে, কখনও জেলিফিশের হামলা-সহ নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। তবুও প্রতি বারই পৌঁছে গিয়েছেন গন্তব্যে। সপ্তসিন্ধুর শেষ ধাপ ছিল জাপানের সুগারু চ্যানেল। দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়ে সম্প্রতি জাপানে যান সায়নী। শনিবার ভারতীয় সময় রাত ১২টা ৪১ মিনিটে জাপানের কোডারমা বন্দর থেকে সাঁতার শুরু করেন। সঙ্গের নৌকায় পাইলট, ক্যাপ্টেনের পাশাপাশি ছিলেন সায়নীর বাবা ও মা। যাত্রার শুরু থেকে মেয়ের অগ্রগতির ছবি সমাজমাধ্যমে তুলে ধরছিলেন বাবা রাধেশ্যাম দাস। কয়েক ঘণ্টা পরে আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করে। রাধেশ্যাম বলেন, “এক সময় ঢেউ দুই মিটারেরও বেশি উঁচু হচ্ছিল। ঢেউ ভেঙে এগোতে অতিরিক্ত চাপ পড়েছিল ওর শরীরে।” সকাল ৯টা নাগাদ সায়নী প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন। তখনও প্রায় ১৬ কিলোমিটার বাকি। সেই সময়েই তাঁর বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। তুলে নেওয়া হয় নৌকায়। পরে সাঁতারুর ক্যাপ্টেন জানান, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় সাঁতার থামাতে হয়েছে। তবে সায়নী সুস্থ আছেন। আগামী বার নিশ্চয়ই সফল হবেন।
কালনার বাসিন্দা রাখাল মণ্ডল বলেন, “রাত জেগে আমাদের এলাকার মেয়ের লড়াই দেখছিলাম। অসুস্থতার খবর শুনে মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছে।” অনেকে সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে কালনার জলকন্যা। এ দিন সকাল ১১টা থেকে জেলার বিভিন্ন স্কুলে সায়নীর সাঁতারের ভিডিয়ো দেখানোর হয়। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, “সায়নী যতটা পথ অতিক্রম করেছে, সেই অংশই দেখানো হয়েছে। যাতে ওর লড়াই ও অধ্যবসায় ছাত্রছাত্রীদের প্রেরণা জোগায়।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)