আবেদনপত্রে বিজেপি নেতা সই করলে তবেই মিলবে সরকারি প্রকল্পের অনুদান। এমনই অভিযোগ উঠেছে বর্ধমান ২ ব্লকের নবস্থা পঞ্চায়েতে। বিষয়টি জানাজানি হতেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। পরিবর্তনের বাংলায় ক্ষমতা ভোগের তীব্র আকাঙ্খা থেকে পঞ্চায়েতের কাজে খবরদারি চালাচ্ছে বিজেপি, অভিযোগ কংগ্রেসের।
কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি গৌরব সমাদ্দার সম্প্রতি একটি সমব্যথী প্রকল্পের আবেদনপত্র সামনে এনেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে নবস্থা ২ পঞ্চায়েতের ভৈটা গ্রামের এক বাসিন্দা সমব্যথী প্রকল্পের অর্থ পেতে আবেদন করেছেন। সেই আবেদনপত্রে পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের স্বাক্ষরের পাশাপাশি রয়েছে বিজেপি যুবমোর্চা নেতা রাজকুমার মালিকের সই। রাজকুমারের সঙ্গে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার কোনও সম্পর্ক নেই দাবি করে গৌরবের অভিযোগ, সরকারি পরিষেবা পেতে এখন ওই বিজেপি নেতার অনুমোদন কার্যত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ভৈটা গ্রামে।
তাঁর অভিযোগ, “রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলেও পঞ্চায়েতে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়নি। তা সত্ত্বেও বিজেপি তৃণমূলের পথেই সরকারি ব্যবস্থায় দলীয় নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চাইছে।” এর বিরুদ্ধে কংগ্রেসের কর্মীরা পঞ্চায়েতে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন দাবি করে গৌরব বলেন, ‘‘পঞ্চায়েত প্রধানকে ফোন করে ক্ষোভের কথা জানানো হয়েছে। ব্লক ও জেলা প্রশাসনের কাছেও অভিযোগ জানানো হবে।’’
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতা রাজকুমার মালিক। তাঁর দাবি, ‘‘এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি।’’ এমনকি সইটি তাঁর নয় বলেও দাবি করেন রাজকুমার। বিজেপির স্থানীয় নেতাদের অবশ্য একাংশ জানাচ্ছেন, ক্ষমতার পালাবদলের পরে বহু পঞ্চায়েত সদস্য পঞ্চায়েত কার্যালয়ে আসছেন না। ফলে আবেদনকারীদের পরিচয় যাচাইয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সেই কারণেই এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে কমিটি গড়া হয়েছে। ওই কমিটির সদস্যেরা আবেদনকারীর পরিচয় নিশ্চিত করে সই করলে তবেই পঞ্চায়েত শংসাপত্র দিচ্ছে।
কমিটিতে বিজেপির পাশাপাশি বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন কি? বিজেপির বক্তব্য, এলাকায় বিরোধী বলে কিছু নেই। কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধি রাখা হবে কী করে? তা ছাড়া এই কমিটি গঠনের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই। বিজেপির বর্ধমান-দুর্গাপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা-র বক্তব্য, ‘‘এ রকম কোনও ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। এই ধরনের কোন কমিটি আমরা গঠন করিনি।’’
প্রশ্ন উঠেছে, এমন কমিটি গঠনকে কি আইন মান্যতা দেয়? নবস্থা–২ পঞ্চায়েতের প্রধান, তৃণমূলের নন্দদুলাল গোস্বামী বলেন, “সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য কয়েক জন এই কমিটি করেছে। তার ভিত্তিতেই পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।” কিন্তু কমিটি কে গঠন করেছে, সেই কমিটি গঠনে সরকারের সিলমোহর রয়েছে কিনা, কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত পঞ্চায়েতের বৈঠক ডেকে নেওয়া হয়েছে কি না, সে সব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি প্রধানের কাছ থেকে। এই আবেদনপত্রটি প্রকাশ্যে আসায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের অন্দরেও। কংগ্রেসের দাবি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত প্রশাসনের। না হলে এই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়বে জেলায়। প্রশাসনের কেউ সরাসরি বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। নামপ্রকাশ না করার শর্তে ব্লকের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘বিষয়টি জানা নেই। তবে পঞ্চায়েত স্তরে এমন কোনও কমিটি সরকার গঠন করে দেয়নি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)