মালদহে বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
‘‘আমাকে ভোট দিন বা না দিন, যায় আসে না। আমি শান্তির পক্ষে। আমি হিংসার পক্ষে নই। আমি বিজেপির সঙ্গে লড়াই করি। যে মানুষ এত লড়াই করছে, তাঁকে আপনারা কংগ্রেসের কথায় অসম্মান করছেন। বিজেপি টাকা দিচ্ছে। কিছু চক্রান্ত তাদের কথায়। এটা ভাবতে কষ্ট হয়। এটা হিন্দু বা মুসলমান ভাইবোনদের কাছে আশা করি না। ধর্ম মানে কর্ম। বিজেপি ভাগ করে ধর্মে-ধর্মে। কেন করতে দেবেন? আপনারা আমার ভাই-বোন নন? আমি সকলকে নিয়ে চলি। যত দিন বাঁচব, এটাই চলবে।’’
‘‘আমি আজ মর্মাহত। একটা ঘটনার জন্য, একটা হঠকারী সিদ্ধান্তের জন্য বাংলা রাজ্যটাকে বদনাম করল। যদিও আইন-শৃঙ্খলা আমার হাতে নেই। ওটা কমিশন নিয়ে নিয়েছে। অমিত শাহ নিয়ে নিয়েছে। শাহ নিলে কমিশনের মুখ চুপ। আমি নির্বাচিত সরকার। সব নিয়ে নিয়েছে। বদলা নেবই। খেলা হবে। গণতান্ত্রিক ভাবে। বাংলা থেকে আগে তাড়াব। তার পর দিল্লি থেকে তাড়াব। এটা অঙ্গীকার। সারা জীবন লড়াই করেছি।’’
‘‘আমায় অনেক জ্বালিয়েছে। কংগ্রেস জ্বালিয়েছিল বলে তৃণমূল তৈরি করেছিলাম। সিপিএমের সঙ্গে ভাব করে অত্যাচার করত। আর এখন কংগ্রেস-সিপিএম-বিজেপি গদাই-মাধাই-জগাই। তৃণমূল এখন দোষী হল, যারা শান্তি দিয়েছে। সবাই ভাল থাকুন। এক সঙ্গে থাকুন। শান্তিতে থাকুন। হাতজোড় করে বলছি, ভেদাভেদ করবেন না। হৃদয় কেটে দিলে কি হৃদয় থাকবে? শরীর দু’টুকরো হলে কি বাঁচবেন?’’
‘‘গান্ধীজি, নেতাজি, স্বামী বিবেকানন্দ দেননি। রবীন্দ্র, নজরুল দেননি ভাগাভাগি করতে। এমন দেশ কোথাও খুঁজে পাবে না কো তুমি! বিজেপি হঠাও। বিজেপির দালালদের হঠাও।’’
‘‘বাচ্চুদা একটা কথা বলি, বিজেপির পরিকল্পনা অনেকের নাম বাদ দেওয়া। এদের অনেক চক্রান্ত। এদের চক্রান্ত রুখতে আমার ছাত্র-যুব, মো-বানদের দরকার। আর নেই দরকার, দিল্লিতে বিজেপির সরকার। বিজেপি দূর হঠো! জয় হিন্দ।’’
‘‘যত কাঁচা বাড়ি আছে, সব পাকা করব। ১ কোটি লোককে জল দিয়েছি। মানুষের ঘরে ঘরে নলবাহিত জল পৌঁছে দেব। বাজেটে থাকবে, বাজেট কৃষি, মুখে হাসি। শিক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে ছেলেমেয়েরা। বয়জ্যেষ্ঠদের যত্ন করব। ’’ মমতা একে একে ‘প্রতিজ্ঞা’-র কথা জানালেন। তিনি জানান, দুয়ারে স্বাস্থ্য পরিষেবা মিলবে।
‘‘মালদহ উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার। গৌড়ে ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। আম, রেশম বিখ্যাত। এখন ড্রাগন ফল হয় মালদহে।’’
‘‘এখানকার প্রার্থী হচ্ছে চন্দনা সরকার। বাংলাবিরোধী বিজেপি-কে সরাতে চন্দনাকে জয়ী করুন। বিজেপি বাংলার বদনাম। বাংলাকে টার্গেট করলে বাংলা মাথানত করে না। দিল্লি দখলের পথ দেখায়। নেতাজি বলেছিলেন।’’
‘‘কংগ্রেস একটা কথা বলে না। মুখে কুলুপ দিয়ে বসে থাকে। ভোটের সময়ে প্রার্থী দিয়ে প্রচারে আসবে। বড় বড় কথা বলবে। আজ ওরা সবল হলে বিজেপি আসতে পারত না। আগের বারও আসতে পারত না।’’
‘‘কেন চক্রান্ত করে? তৃণমূলের সব খারাপ? ওরা ভাল? স্বৈরাচারী, দাঙ্গাকারীদের একটিও ভোট নয়? সকাল সকাল ভোট দিন। নিজের ভোট নিজে দিন। কাল জুম্মাবারে ভাল করে প্রার্থনা করুন। খ্রিস্টানরাও প্রার্থনা করে। আমিও করি। সন্তোষী মায়ের পুজোও করি। কেউ কারও প্ররোচনায় দাঙ্গা করতে যাবেন না। আপনার পরিবারকে রেড করাবে এনআইএ, সিবিআই দিয়ে। আমার উপর ভরসা নেই? বিশ্বাস নেই? আমি পাঁচ দিন আপনাদের জন্য বসে থাকলাম রাস্তায়। সুপ্রিম কোর্টে গেলাম। সে জন্য ২২ লক্ষ জনের নাম ঢুকেছে। আরও নাম ঢুকবে ট্রাইবুনালে। যার নাম নেই, ভাল করে আপিল করুন। কোর্ট বলেছে দেখবে। যখন দেখবে বলেছে, জাজেদের আটকে রেখে কী ফল? তাঁরা তো আরও আপনাদের বিরুদ্ধে বলেছে। ভাল করে।’’
‘‘যাঁরা করেছেন আন্দোলন, ছেলেগুলোকে বাঁচাবেন তো? বাংলার সম্মান নিয়ে খেলা করেছেন! একটা জায়গায় জন্য সারা বাংলার নাম বদনাম হয়েছে।’’
‘‘লক্ষ্মীর ভান্ডার যারা পান, পাবেন। যুবসাথী পাচ্ছেন। কৃষকেরা টাকা পাচ্ছেন। যাঁদের নিজের জমি নেই, তাঁরা পাচ্ছেন। চাষ করার জন্য বিদ্যুতের বিল দিতে হত। আমরা মকুব করেছি। অঙ্গীকার ছিল খাদ্যসাথী করব। বিনা পয়সায় রেশন পাচ্ছেন তো? কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী, রূপশ্রী পেয়েছেন? তফসিলি বন্ধু পেয়েছে? কেউ মারা গেলেও শ্মশান বা কবরের জন্য ২০০০ টাকা দেওয়া হয়। আমাদের ১০৫টি প্রকল্প। বিজেপির কী আছে? কাঁচকলা। দেশের শেষ হতে কিছু বাকি নেই? নির্বাচনের পরে দেখবেন, গ্যাসের দাম কোথায় যায়। পাবেন কি না সন্দেহ। ভোটের পরে জ্বালানির দাম বাড়ায়।’’
‘‘মানুষের জীবনের দাম কমিয়েছে। ২২৫ জন মারা গিয়েছেন। ভোট দিতে গিয়ে তাঁদের কথা মনে করবেন না? আগামী দিন যদি তৃণমূল... আসবেই। অন্য কেউ আসবে না। ক্ষমতা নেই। আমি বাংলা খুব ভাল চিনি। কারও কারও অ্যাকাউন্ট নম্বর চাইছে (বিজেপি)। বলছে, অ্যাকাউন্ট নম্বর দিন, টাকা পাঠাব। এর পরে এটা হাপিশ করবে। অ্যাকাউন্ট নম্বর কাউকে দেবেন না না। লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।’’
‘‘মালদহে কংগ্রেসের অত্যাচারে এ সব গন্ডগোলে হল। আমি মানছি, ক্ষোভ রয়েছে। আমারও আছে। তাই সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে ফাইট করেছি। ২২ লক্ষ লোকের তাই নাম উঠেছে। কিন্তু রায় বেরনোর পরে জাজেদের আটকে রাখার কী দরকার ছিল? এটা কাদের পরিকল্পনা? যারা করেছে, তাদের একটাকেও যেন ছাড়া না হয়। সে যেই হোক। একটাকেও যেন ছাড়া না হয়। এটা আমাদের দলের পরিকল্পনা নয়। আমরা শান্তির পক্ষে। লড়ে নেব শান্তিতে। জাজ অ্যাটাক করে কী করলেন? কতগুলো ছেলেকে সিবিআই গ্রেফতার করে নিয়ে যাবে। এনআইএ গ্রেফতার করে নিয়ে যাবে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে। যেটুকু ভোট দিতে পারতেন, সেটুকুও গেল। এ বার জেলে গিয়ে বলবে, নাকখৎ দিয়ে বলবে, বল বিজেপি করবি! তবেই ছাড়বে। মনে রাখবেন, নির্বাচনের সময়ে এ সব করতে নেই।’’
সারা বাংলাকে বদনাম করেছে। অথচ, আমার হাতে আইনশৃঙ্খলা নেই। মুখ্যসচিব বদলে দিয়েছে। আমার সঙ্গে কথা বলে না। আমাকে তথ্য দেয়নি যে কাল এ সব হয়েছে। না মুখ্যসচিব, না স্বরাষ্ট্রসচিব, না ডিজি। উকুন বাছার মতো সব বদলেছে। বিহারে কার ছেলেমেয়ে থাকে, তাকে করেছে ডিএম। দেখে দেখে এসপি করেছে। বাংলায় যারা কাজ করত, তাদের তামিলনাড়ু পাঠিয়েছে।’’
‘‘উন্নয়নের কাজ বন্ধ। রাস্তা বন্ধ, যাতে মানুষ আমায় ভুল বোঝে। এ বারের খেলা হবে দুরন্ত খেলা। দুর্দান্ত খেলা। বাংলা থেকে বিজেপি-কে শূন্য করার খেলা। কংগ্রেসকে শূন্য করার খেলা। গদ্দারদের শূন্য করার খেলা। মাথায় রাখবেন তো!’’
‘‘বাংলার ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে... বিহারের যারা এখানে থাকেন, তাঁদের নিয়ে আপত্তি নেই। যাঁরা ওখানে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের এখানে ভোট দেওয়াচ্ছে। আপনার আমগাছ যদি জোর করে দখল করে, আপনি দেবেন? বাচ্চা কাড়তে এলে দেবেন? জমি দখল করতে এলে দেবেন?’’
‘‘যাঁরা সীমান্তে থাকেন, লক্ষ্য রাখবেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী লোকেরা মহিলাদের তল্লাশি করার নামে বলতে পারে বিজেপি-কে ভোট দিন। শুনবেন না। বর্ডারে গিয়ে ভয় দেখাতে পারে। বিজেপি-কে, র-কে দিয়ে হামলা করিয়ে.. অনেক কথা জানি। সাত বার এমপি ছিলাম। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলাম। পরিষ্কার করে বলি। ইচ্ছা করে আপনাকে ইট মেরে উত্তেজিত করবে। আপনি পাল্টা ইট মারলে হিন্দু-সংখ্যালঘু করবে। এমন কিছু নেই, যে অসভ্যতা ওরা করবে না।’’
‘‘দিল্লিতে গেলে মারছে। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশে পেটাচ্ছে। বাইরে গেলে মাছ, মাংস, ডিম খাওয়া বন্ধ করেছে। বাংলার লোক মাছ-ভাত খেয়ে থাকে। অন্য লোকেরা নিরামিষ খেলে তাদের অধিকার। কী খাবে, মাথা? ভোট কেটেছে কেন জানেন? আপনাদের তাড়াবে বলে। আমার সরকার থাকলে কাউকে তাড়াতে দেব না।’’
‘‘বিজেপি স্বৈরাচারী দল। দুর্নীতি, চোরডাকাতের দল। এজেন্সি দিয়ে সকলের বাড়ি রেড করাচ্ছে। গদ্দারদের বাড়ি রেড করো। যারা কয়লার টাকা তোমাকে দেয়, তাদের বাড়ি রেড করো, যারা স্মাগলিংয়ের টাকা দিল্লি গিয়ে তোমার বাড়ি দিয়ে আসে, তাদের বাড়ি রেড করো। বুকে পাটা নেই?’’
‘‘আপনার মনে ক্ষোভ থাকতে পারে, কারণ, অনেক নাম বাদ দিয়েছে। আমি একমত। তার জন্য চেষ্টা করতে হবে। আমার এলাকাতেও অনেক বাদ দিয়েছে। চেষ্টা করতে হবে বিজেপির খেলা বন্ধ করতে। আজ সব পরিবর্তন করেছে। সকলকে করেছে পরিবর্তন। আমি একা মানুষের সঙ্গে ঘুরছি। আমাকে পরিবর্তন করতে পারবে না। কারণ মা-বোন, ভাইদের প্রতি ভরসা আছে।’’
‘‘মালদহের মানুষ কী চান? সারা বছর কংগ্রেস ঘুমাবে। ভোটের সময় টাকা দিয়ে ভোট কিনবে। এই অভিজ্ঞতা অনেক আছে। ২০১১ সাল থেকে দেখছি। ২০১৬ সালেও দেখেছি। নিল টাকা, ভোটে ফাঁকা। ২টি সিট বিজেপি-কংগ্রেস ভাগাভাগি করে।’’
‘‘দুই দালাল— কংগ্রেস, সিপিএম। সঙ্গে হায়দরাবাদ থেকে পাগড়ি পরে এসেছেন! মোঘল সম্রাটের পাগড়ি পরেছেন। কত বড় সম্রাট! বিজেপির টাকায় বিহারে ভোট ভাগ করে বিজেপি-কে জেতায়। এখানে সর্বনাশের খেলায় নেমেছে। যদি ভাবেন, ভোট কাটাকাটি করবেন, আগামী দিন আপনার ঠিকানা, অধিকার থাকবে না। মাছ, মাংস খেতে দেবে না।’’
‘‘আছে হাঁদা-ভোদা। দেশটাকে সর্বনাশের পথে নিয়ে গেছে। নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ। ওঁদের ক্ষমা করবেন না। হিংসা করে মানুষ মেরে ক্ষমতায় এসেছে। মিথ্যার ফুলঝুড়ি। গ্যাস বেলুনের গ্যাস ফোরায়। কী বলেছিল? সকলের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেবে! ২ কোটি টাকরি দেবে। দিয়েছে? ভোটবন্দি করে ভোটাধিকার কাড়ছে। বিজেপি-কে ক্ষমা নয়। কংগ্রেস, সিপিএম দুই দালাল। ক্ষমা করবেন না।’’
‘‘আমরা ক্ষমতায় এলে মা-বোনদের লক্ষ্মীর ভান্ডার করে দেব বলেছিলাম। ৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়েছে। এখন ১,৭০০ টাকা। পাচ্ছেন, কি পাচ্ছেন না! যুবসাথী পেয়েছেন? যাঁরা পাচ্ছেন না, পাবেন। কমিশন আমার ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। উন্নয়নের কাজ বন্ধ।’’
‘‘কংগ্রেস ভোট আসলে ময়দানে। (মালদহে) লোকসভার তোমাদের ২টো সিট। বিজেপি কংগ্রেস ভাগাভাগি করে। আমাদের নেই। তা সত্ত্বেও এখানকার উন্নয়ন বাদ দিইনি। মালদহে আসব। ’’
‘‘বিজেপির দালাল দল, তাদের টাকায় চলে, হায়দরাবাদ থেকে উড়ে আসে, বিহারে বিজেপির ভোট কাটানোর দল। বিজেপি-কে জেতানোর দল। সংখ্যালঘুদের কানে মন্ত্র দেয়, তোমাদের জন্য লড়ছি। যখন তারা বাইরে মার খায়, তখন কী করো? ঠোঁটে লিকুপ্লাস্টার! এসআইআরে মানুষের নাম বাদ যায়, তখন বিজেপির পাকা কলা খাও!’’
‘‘আমি ধর্নায় বসেছি। কেস করেছি। ফাইট করেছি। ৪২ লক্ষ লোকের নাম বাদ। ২২ লক্ষ লোকের নাম উঠেছএ। কারও কৃতিত্ব নেই। যাদের নাম এখনও ওঠেনি, ডিলিট হয়েছে, দরখাস্ত করুন। অ্যাপিল করুন। পার্টির পক্ষ থেকে জাজেদের কাছে গিয়ে আক্রমণ করবেন না। কড়া ভাবে বলছি। আজ আপনাদের জন্য বাংলার বদনাম হবে!’’
‘‘প্রথমেই বলি, অভিনন্দন জানিয়ে বলব, যখন এসআইআর শুরু হয়, সব মানুষকে লাইনে দাঁড়াতে হয়। তখন তৃণমূলের বিএলএ-১, বিএল-২ ছাড়া কেউ রাস্তায় ছিলেন না। অন্য দল নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন। আজ ভোটে সময় ভোটারকে সামনে রেখে... ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক। অনেকের নাম বাদ দিয়েছে। ভবানীপুরে ৪০ হাজার লোকের নাম বাদ দিয়েছে। এগুলো বিজেপি পরিকল্পনা করে করেছে।’’
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে মালদহে। এ বার পুরাতন মালদহ ব্লকের মঙ্গলবাড়ি এলাকায়। রাতে কয়েক ঘণ্টার জন্য অবরোধমুক্ত হওয়ার পরে ফের অবরুদ্ধ হল ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড করে আটকে দেওয়া হয় রাস্তা। অবরোধস্থলে মোতায়েন রয়েছে মালদহ থানার পুলিশ বাহিনী। মোতায়েন রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও। বুধবার যে দাবিতে কালিয়াচকে বিক্ষোভ হয়েছিল, বৃহস্পতিবারও সেই একই দাবিতে বিক্ষোভ হয় পুরাতন মালদহ ব্লকেও। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁদের অনেকেরই বৈধ নথিপত্র থাকার পরেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে।
সুতির সভায় মমতা বলেন, ‘‘বুধবার মালদহে এটা ঘটনা ঘটেছে। তাই নিয়ে সিবিআই দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এনআইএ দিয়েছে। রাজ্যে যাঁদের শো কজ় করেছে তা নিয়ে কিছু বলার নেই। কিন্তু মালদহের ঘটনা দিয়ে পুরো স্টেটকে বদনাম করা হয়েছে। আন্দোলন করতেই পারেন। জাজেদের গায়ে কেউ হাত দেবেন না।’’
বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর তিনটি জনসভা রয়েছে। প্রথম জনসভা ছিল সাগরদিঘিতে। সেখানে তিনি জানান, মালদহের ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের তরফে তাঁকে কেউ খবর দেয়নি। বৃহস্পতিবার সাগরদিঘির জনসভায় তিনি আরও একবার স্মরণ করিয়ে দেন যে, প্রশাসন এখন নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মালদহের ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে সমর্থন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ঠিক বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।” তার পরেই আদালতের নির্দেশের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তিনি বলেন, “আপনারা কি জানেন না, যাঁরা আন্দোলন করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সিবিআই করেছে, এনআইএ করেছে।”
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy