প্রত্যন্ত নয়, তবুও প্রান্তিক! বিধানসভার ভোট থাকলেও উত্তাপ নেই। নির্বাচনী কোলাহল আছে। অথচ প্রচার নেই! বরাহনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উত্তরতম প্রান্ত যেন নির্বাচনী বাংলার এক ‘বিচ্ছিন্ন’ অংশ।
কলকাতা পুরসভা এবং পুলিশের এলাকা যেখানে শেষ হচ্ছে, সেখান থেকে চার কিলোমিটারও নয়। তস্য গলিও নয় কোনও। যোগাযোগ ব্যবস্থা যথেষ্ট ভাল। আধুনিক জীবনযাপনের জন্য যা যা প্রয়োজন সব কিছুই হাতের কাছে।
ডানলপ মোড় পেরিয়ে বিটি রোড ধরে খানিকটা এগোলে ডান হাতে শুরু নীলগঞ্জ রোড। বেলঘরিয়া থানার পিছন দিয়ে চলে গিয়েছে ওই রাস্তা। দু’স্টপেজ পর বিটি রোডের রথতলা মোড়ের সঙ্গে নীলগঞ্জ রোডকে জুড়েছে ফিডার রোড। ত্রিভুজ আকৃতির এই অংশে জনবসতি কম। বাজার, হাসপাতাল, পেট্রল পাম্প, কারখানা, গোডাউন, গ্যারাজ, দোকান, রেস্তরাঁ, মন্দিরের দখলে ৭৫-৮০ শতাংশ জায়গা। একদম উত্তর-পশ্চিম দিকে ফিডার রোড সংলগ্ন প্রান্তে পাঁচ-ছ’টি বাড়ি এবং দু’টি আবাসন।
ত্রিভুজ আকৃতির অংশটি কামারহাটি পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডেরই বাসিন্দা কামারহাটি বিধানসভার বামফ্রন্ট প্রার্থী সিপিআইএমের মানস মুখোপাধ্যায় এবং কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা। তিনি কাউন্সিলরও। ওয়ার্ডটি বরাহনগর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। স্বাভাবিক ভাবেই কামারহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীরা এই ত্রিভুজাংশের উত্তর-পশ্চিম অংশে নির্বাচনী প্রচারে আসেন না। আসেন না বরাহনগর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীরাও! ভোটার শতাধিক। তা-ও কোনও দলের প্রার্থীই কষ্ট করে ওই পর্যন্ত আসেন না প্রচার করতে। রাজনৈতিক দলের কর্মীরাও অধিকাংশ সময় ভোটার স্লিপ দিতে আসেন না। এ বারও যেমন একটি মাত্র দল স্লিপ দিয়ে গিয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের কোনও চিহ্ন নেই। —নিজস্ব চিত্র।
প্রদীপ মুখোপাধ্যায় এলাকার দীর্ঘ দিনের বাসিন্দা। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আগে বাড়িতে আসতেন প্রার্থীরা। গত ১৪-১৫ বছর তেমন কেউ আসেন না। কেন বলতে পারব না। কখনও কখনও বিটি রোড ধরে মিছিল বা রোড শো হয়।’’ আর এক স্থানীয় বাসিন্দা দিলীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাইরের লোকেদের প্রার্থী করা হয়। তাঁরা হয়তো জানেন না। তবে পুরসভা নির্বাচনের সময় একাধিক প্রার্থী এসেছিলেন।’’
বরাহনগর বিধানসভা কেন্দ্রের এই ত্রিভুজাংশটি একে বারে প্রান্তিক। তিন দিকে কামারহাটি বিধানসভা কেন্দ্র। অনেকটা উপদ্বীপের মত অংশটিতে অল্প কিছু রাজনৈতিক পতাকা দেখা গেলেও ব্যানার, হোর্ডিং, পোস্টার, দেওয়াল লিখন প্রায় নেই। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার নির্বাচনী সজ্জার পাশে বেশ বেমানান। আশপাশে কামারহাটি কেন্দ্রের প্রার্থীদের প্রচার দেখে একটা দৃশ্যবিভ্রম তৈরি হয়। মনে হয়, জায়গাটিও ওই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। বিভ্রম আরও বাড়িয়ে তোলে রথতলা মোড়ের কাছে ছোট রাজনৈতিক প্রচার সভাগুলি। নির্বাচনী কোলাহল থাকে বহাল তবিয়তে।
এ বার কোনও দলের প্রার্থীই এই অংশে ভোট চাইতে আসেননি। শাসক দলের প্রার্থীকে একঝলক দেখেছেন কয়েক জন। ব্যারাকপুরে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ফেরার সময় গাড়ির ‘সান রুফ’ খুলে দাঁড়িয়ে ছিলেন। লোকসভা বা পুরসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্য বঞ্চিত থাকতে হয় না এখানকার ভোটারদের। শুধুই বিধানসভা নির্বাচনে প্রান্তিক।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৯:০৮
৩৬ দিনে ১০০টি কেন্দ্র ছুঁয়েছেন অভিষেক, তবে ‘সেনাপতি’র পা পড়ল না ববি-অরূপদের মতো অনেক নেতা-মন্ত্রীর বিধানসভায় -
১৮:৩১
মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিকর ভিডিয়ো! চোখে পড়তেই পুলিশকে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিল কমিশন -
১৭:৪৪
‘এ যেন আমার এক তীর্থযাত্রা’, পশ্চিমবঙ্গে ভোটপ্রচার শেষে মোদীর অডিয়োবার্তা—‘এ বার পরিবর্তন করেই ছাড়তে হবে’ -
১৭:০৪
১২৭ কোটি টাকার মদ বাজেয়াপ্ত ভোটের মরসুমে! গত কয়েকটি নির্বাচনের নিরিখে রেকর্ড, কত লিটার সুরা উদ্ধার -
১৬:৪৯
তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীতে! রাস্তায় ফেলে লাঠিপেটার অভিযোগ, ভাঙচুর হল বাইক, টোটো