শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের স্ত্রীর সঙ্গে মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে গিয়ে দেখা করেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। ডিজি-র কাছে বিহিত চেয়েছেন নিহতের স্ত্রী। স্বামীর খুনিদের এনকাউন্টারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় বুধবার রাতে খুন হয়েছেন শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ। অভিযোগ, তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে পর পর গুলি চালানো হয়। বাইকে করে এসেছিল দুষ্কৃতীরা। খবর পেয়ে রাত ১২টার পর হাসপাতালে পৌঁছোন শুভেন্দু। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও একে একে সেখানে যান। চন্দ্রনাথের স্ত্রী এবং মেয়ের সঙ্গে রয়েছেন তাঁরা। তাঁদের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডিজি জানান, তদন্ত শুরু হয়েছে। অপরাধে ব্যবহৃত একটি চার চাকার গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট অনুযায়ী সেটি শিলিগুড়ির গাড়ি। তবে নম্বরপ্লেটটি ভুয়ো বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া, কিছু গুলি এবং ব্যবহৃত কার্তুজ পাওয়া গিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি কিছু প্রকাশ্যে বলতে চাননি ডিজি।
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চন্দ্রনাথের দেহ যেখানে রাখা হয়েছে, সেখানেই শুভেন্দু, সুকান্তদের সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী এবং কন্যা। ডিজি-কে দেখে চন্দ্রনাথের স্ত্রী বলেছেন, ‘’স্বামীকে তো ফিরে পাব না। কিন্তু কারা এটা করল, আমি জানতে চাই। তাদের এনকাউন্টার চাই।’’ নিহতের স্ত্রী-কন্যাকে সান্ত্বনা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে যান ডিজি। পুলিশ সূত্রে খবর, আপাতত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবিলম্বে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা এবং গ্রেফতারিই পুলিশের লক্ষ্য।
চন্দ্রনাথের খুনের কথা ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালের সামনে উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন গভীর রাতেও। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারি এবং শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে। বিজেপি সমর্থকদের অভিযোগ, মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ এই খুন করিয়েছেন। পরিকল্পিত ভাবে চন্দ্রনাথকে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। তবে রাজ্য বিজেপির নেতারা শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, আইন অনুযায়ী দুষ্কৃতীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। চন্দ্রনাথের দেহ বারাসতের হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তাঁর গাড়ির চালকও গুলিবিদ্ধ। কলকাতার হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে।