শিলিগুড়িতে এ বারও শঙ্কর ঘোষকে টিকিট দিয়েছে বিজেপি। তৃণমূল নেতা তথা শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের বিরুদ্ধে বিধানসভা ভোটে লড়বেন তিনি। বৃহস্পতিবারই বিজেপি প্রার্থী হিসাবে শিলিগুড়়ি মহকুমা শাসকের দফতরে গিয়ে শঙ্কর মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাঁর সঙ্গে ছিল বিশাল মিছিল। একই দিনে তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ গৌতমও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। দুই যুযুধান প্রার্থীর মনোনয়নকে কেন্দ্র করে মহকুমা শাসকের দফতরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।
২০২১ সালে শিলিগুড়ি থেকেই বিজেপির টিকিটে লড়ে বিধায়ক হয়েছিলেন শঙ্কর। তবে গৌতম ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রে হেরে যান। নির্বাচনী হলফনামায় দেখা যাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে শঙ্করের সম্পত্তির পরিমাণ সামান্য বেড়েছে। তিনি নিজে পেশায় শিক্ষক। তাঁর স্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। হলফনামায় আয়ের উৎস হিসাবে নির্দিষ্ট পেশার বেতন খাতকেই উল্লেখ করেছেন শঙ্কর।
আরও পড়ুন:
সম্পত্তি ও অর্থ
হাতে ৪৬ হাজার ৩২০ টাকা নগদ নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামছেন শঙ্কর। তাঁর স্ত্রীর হাতে রয়েছে নগদ ১০ হাজার ১২০ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী, শঙ্করের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২৮ লক্ষ ৯৫ হাজার ৪০ টাকা। তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২৯ লক্ষ ৭০ হাজার ১৯২ টাকা। এ ছাড়া, ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার স্থাবর সম্পত্তির মালিক শঙ্কর। তাঁর স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৪৯ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। বিভিন্ন জায়গায় প্রায় আট লক্ষ টাকার ঋণ রয়েছে শঙ্করদের। আপাতত স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে শঙ্করের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৬৮ লক্ষ ৯৫ হাজার ৪০ টাকা।
গত পাঁচ বছরে বৃদ্ধি
২০২১ সালে হাতে ১৫ হাজার টাকা নগদ নিয়ে ভোটে নেমেছিলেন শঙ্কর। মোট অস্থাবর সম্পত্তি ছিল ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬৪৮ টাকার। তাঁর স্ত্রীর হাতে ছিল আট হাজার টাকা নগদ। শঙ্করের স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ছিল ৫ লক্ষ ৬২৯ টাকা। এ ছাড়া, ১ কোটি ২ লক্ষ টাকার স্থাবর সম্পত্তির মালিক ছিলেন শঙ্কর। তাঁর স্ত্রীর নামে ৩৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পত্তি ছিল। ঋণ ছিল ১২ লক্ষ টাকার। ঋণের পরিমাণ কমলেও শঙ্করের সম্পত্তির পরিমাণ আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। ২০২১ সালে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে শঙ্করের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৫ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬৪৮ টাকা। যা বর্তমানের চেয়ে ৬৩ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯২ টাকা কম।
অপরাধের রেকর্ড
শঙ্করের বিরুদ্ধে বর্তমানে শিলিগুড়ি থানায় তিনটি এফআইআর রয়েছে। সেখানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনটিই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে হলফনামায় দাবি করেছেন শঙ্কর। কোনও মামলাতেই এখনও চার্জ গঠন করা হয়নি। কোনও অপরাধে তাঁকে দোষী সাব্যস্তও করা হয়নি। ২০২১ সালে শঙ্করের নামে শিলিগুড়ি থানাতেই দু’টি মামলা ছিল। ভারতীয় দণ্ডবিধির মোট ১০টি ধারায় এফআইআর হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সে ক্ষেত্রেও দু’টি মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল বলে হলফনামায় দাবি করেন শঙ্কর।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
২০১৩ সালে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিদ্যায় ডক্টর অফ ফিলোজফি (সায়েন্স) ডিগ্রি লাভ করেছেন শঙ্কর। হলফনামায় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার আর কোনও বিবরণ তিনি প্রকাশ করেননি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত