২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর সংগঠনকে চাঙ্গা করতে বৈঠকে বসতে চলেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী শুক্রবার কালীঘাটের বাসভবনে জেলার শীর্ষ নেতাদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছেন তিনি। ভোটে পরাজয়ের পর তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রণকৌশল নির্ধারণ এবং বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। কালীঘাটের দফতর থেকে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার সভাপতিদের কাছে লিখিত বার্তা পাঠানো হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের। তৃণমূলের এক জেলার নেতা জানিয়েছেন, বৈঠকের বার্তা তিনি পেয়েছেন, তবে কী বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে, তা জানানো হয়নি।
দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এই প্রথম বার এত বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে তৃণমূল। সূত্রের খবর, সংগঠনকে পুনর্গঠন করে কী ভাবে দ্রুত জনসংযোগ বাড়ানো যায়, সেই বিষয়েই বিশেষ জোর দিতে চলেছেন মমতা। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে পর্যুদস্ত হয়েছে তৃণমূল। ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ভবানীপুরে নিজের আসনে পরাজিত হয়েছেন মমতা। তাঁকে হারিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলকে থামতে হয়েছে মাত্র ৮০টি আসনে। ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে, কী ভাবে এত বড় ধাক্কার পর দলকে ফের ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা শুরু করবেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
দলীয় সূত্রের খবর, বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রথমত, সাংগঠনিক দুর্বলতা কোথায় ছিল তার পর্যালোচনা। দ্বিতীয়ত, বুথ স্তরে নতুন করে সংগঠনকে সক্রিয় করা। তৃতীয়ত, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে কী ভাবে লাগাতার আন্দোলন গড়ে তোলা যায়, সেই পরিকল্পনা। পাশাপাশি, দলের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও নেতৃত্বের অভাব নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ, ভোটে পরাজয়ের পর দলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের নতুন বার্তা দিয়ে আবার লড়াইয়ের ময়দানে ফেরানোর চেষ্টা করবেন মমতা।