‘গুন্ডারাজে’ সরব রাহুল, হামলা অধীরের এলাকাতেও

আসানসোলে কংগ্রেস সমর্থক দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের হত্যার ঘটনাতে এ বার রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলকে তোপ দাগলেন রাহুল গান্ধী।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:৪২
কলকাতা প্রেস ক্লাবে রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌত ও কংগ্রেসের অন্য নেতারা।

কলকাতা প্রেস ক্লাবে রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌত ও কংগ্রেসের অন্য নেতারা। — নিজস্ব চিত্র।

দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচারে রাজ্যে এসে বিজেপির পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন রাহুল গান্ধী। আসানসোলে কংগ্রেস সমর্থক দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের হত্যার ঘটনাতেও এ বার রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলকে তোপ দাগলেন তিনি। নির্বাচনী প্রচার সেরে শনিবার রাতে কলকাতাতেই ছিেন রাহুল। তিনি শহর ছেড়েছেন রবিবার এবং সে দিনই আসানসোলের ঘটনায় সরব হয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ওই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল এ দিন সমাজমাধ্যমে বলেছেন, ‘‘তৃণমূলের গুন্ডাদের হাতে কংগ্রেস কর্মী দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের হত্যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানাই। পশ্চিমবঙ্গে আর গণতন্ত্র নেই। তৃণমূলের গুন্ডাদের রাজত্ব হয়ে গিয়েছে। ভোটের পরে ভীতি প্রদর্শন, খুন ও বিরোধী স্বরকে নিশ্চিহ্ন করা তৃণমূলের আদর্শ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’ রাহুলের কথায়, ‘‘কংগ্রেস কখনও হিংসার রাজনীতি করেনি। করবেও না। আমরা কর্মীদের হারিয়েছি। কিন্তু কখনও অহিংসা ও সংবিধানের পথ ছাড়িনি। এটাই আমাদের ঐতিহ্য, এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে কড়া শাস্তি দিতে হবে।’’

আসানসোলে কংগ্রেস প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ দেবদীপকে (৪২) খুনের ঘটনায় ধৃত তিন জনের মধ্যে এক জন নাবালক। পুলিশ সূত্রের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির যোগ মেলেনি। আসানসোলে স্ত্রী ও নাবালক ছেলেকে নিয়ে শুক্রবার মাঝ রাতে মোটরবাইকে বাড়ি ফেরার সময়ে রাস্তায় কয়েক জনের সঙ্গে বচসায় জড়ান দেবদীপ। কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতন্ডি ও তিনি একই আবাসনের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রের দাবি, রাস্তায় দেবদীপ প্রথমে শুভজিৎ মণ্ডল নামে এক যুবকের সঙ্গে বচসায় জড়ান। পরে রবিউল আলম নামে আর এক জনের সঙ্গে তাঁর বচসা বাধে। সে গোলমাল গড়ায় দেবদীপের আবাসনের গেট পর্যন্ত। মারধরে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিতের দাবি, শুভজিৎ তৃণমূলের স্থানীয় ব্লক সভাপতি অনিমেষ দাসের ঘনিষ্ঠ। অনিমেষের যদিও দাবি, ‘‘শুভজিৎ গোলমাল আটকাতে গিয়েছিল। যে প্রকৃত দোষী, তার শাস্তি হোক।’’

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও এ দিন শ্রীরামপুরে বলেছেন, ‘‘রাহুল গান্ধী শনিবারের সভায় যা যা বলেছিলেন, তা যে ঠিক, তা আমাদের কর্মী খুনে প্রমাণ হল। শুধু কর্মী খুন নয়, আমাদের সভা করতে না দেওয়া, অনুমতি না দেওয়া— কংগ্রেসকে ভয় পেয়ে এ সব করছে। কারণ, মানুষ কংগ্রেসকে গ্রহণ করতে শুরু করেছে। আমরা অভিযোগ জানিয়েও উত্তর পাই না। এ সব নিয়ে নীরব দর্শক নির্বাচন কমিশনার।’’ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) কাছে অভিযোগ জানিয়ে কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। দলের তরফে প্রশান্ত দত্ত, আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, অজিতেশ পাণ্ডেরা লিখিত অভিযোগে বলেছেন, ‘ভোটের পরে এটা পরিকল্পিত হিংসা।’ তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ভি শিবদাসনের বক্তব্য, ‘‘কংগ্রেসের কোনও অস্তিত্ব নেই। তৃণমূলকে বদনাম করার জন্য এমন একটি ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করছে।’’

এই ঘটনার মধ্যেই, মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে শনিবার রাতে এক কংগ্রেস কর্মীকে মারধর, বাড়ি ভাঙচুর ও বাড়ির এক মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় জড়িতেরা তৃণমূলের কর্মী-সমর্থক বলে দাবি কংগ্রেসের। খবর পেয়ে সে রাতেই আহতের বাড়িতে যান বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। পুলিশ জানায়, দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অধীরের বক্তব্য, বৃহস্পতিবার ধীর গতিতে ভোটগ্রহণের খবর পেয়ে তিনি একটি বুথে গিয়েছিলেন। বুথ লাগোয়া একটি জায়গায় বসেছিলেন। অধীরের দাবি, গরমে একটি পরিবার তাঁর জন্য বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা করে। তাঁকে খাওয়াতেও চান। তবে তিনি খাননি। এই কারণেই ওই পরিবারের উপরে হামলা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। ধারালো অস্ত্র ও রডের আঘাতে গুরুতর আহত কংগ্রেস কর্মীকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁকে সেখানে দেখতে যান অধীর। এই ঘটনায় বহরমপুর শহর যুব তৃণমূল সভাপতি পাপাই ঘোষ-সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ হয়েছে। মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপার শচীন মাক্কার বলেন, “দুই অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।” অভিযুক্ত পাপাইয়ের পাল্টা দাবি, ‘‘ভোটের পর দিন থেকে আমি নিজে চিকিৎসা করাতে ভিন্‌ রাজ্যে আছি। শুনেছি, পারিবারিক গোলমাল একটি অশান্তি হয়েছে। এর সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক নেই।’’

কলকাতা প্রেস ক্লাবে এ দিনই রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌত রাহুলের সুরেই বলেছেন, “বিজেপি এবং আরএসএস দেশ জুড়ে বিভাজনের রাজনীতি করছে। আর এখানে শাসন-ব্যবস্থার ব্যর্থতা ও দুর্নীতি বিজেপিকে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। অথচ, এখানে বিজেপির বিভাজনমূলক রাজনীতি ঐতিহাসিক ভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না।” এর পাশাপাশি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে নিশানা করেছেন গহলৌত। বেলেঘাটার প্রার্থী সাহিনা জাভেদের সমর্থনে এ দিন সভা করতে এসেছিলেন কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমার। রাতে শহরে প্রচারে ছিলেন অধীরও।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Rahul Gandhi Congress

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy