এসআইআর প্রসঙ্গে আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এ বার আধিকারিকদের বদলি বিতর্কেও তৃণমূলনেত্রী মমতার পাশে দাঁড়ালেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তাঁর কথায়, যতই আধিকারিক বদলে ফেলা হোক, জিতবেন মমতাই। ‘ঐতিহাসিক জনমত’ নিয়ে মমতাই ফের ক্ষমতায় আসবেন বলে মনে করছেন তিনি।
লখনউয়ে দলীয় কার্যালয়ে এক পুরস্কার বিতরণ কর্মসূচি থেকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান। অখিলেশ বলেন, “এই লড়াইটা তাঁকে (মমতাকে) একাই লড়তে হচ্ছে। বিজেপির সঙ্গে আঁতাঁত করে নির্বাচন কমিশন যত আধিকারিককেই বদলি করুক না কেন, বিজেপি-কমিশনের মধ্যে যতই আঁতাত থাকুক না কেন, জিতবেন তিনিই।”
ভোট ঘোষণার পর থেকে রাজ্যে একের পর এক আমলা এবং পুলিশকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়েছে কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশপ্রধান-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বদল করা হয়েছে। সেই কথা উল্লেখ করে অখিলেশ জানান, এত বদলির পরেও পশ্চিমবঙ্গবাসী আবার ‘ঐতিহাসিক জনাদেশ’ দিয়ে মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত করবেন। কথা প্রসঙ্গে উত্তরপ্রদেশের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি। অতীতে উত্তরপ্রদেশে ভোটের সময়ে কত জন আধিকারিককে বদলানো হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান।
কমিশনকে বিঁধে অখিলেশ বলেন, “উত্তরপ্রদেশের অতীতের নির্বাচনগুলিই দেখুন। আধিকারিকদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমন একটিও ঘটনার কথা আপনারা বলতে পারবেন? এখন আবার ভোট এগিয়ে আসতেই ‘সেটিং’ শুরু হয়ে গিয়েছে। কোন আধিকারিককে কোথায় পাঠানো হবে, তা আগে ভাগেই ঠিক করে ফেলা হচ্ছে।” উত্তরপ্রদেশে বর্তমানে বিজেপির সরকার রয়েছে। সে ক্ষেত্রে অখিলেশের এই খোঁচা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের পরে বিজেপি তাদের লোকবল এ রাজ্য থেকে উত্তরপ্রদেশে নিয়ে যাবে, এমন সম্ভাবনার কথাও বলছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান। অখিলেশের বক্তব্য, “ওরা (বিজেপি) লক্ষ লক্ষ কর্মীকে একত্রিত করছে। তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। কী ভাবে টাকা পাঠাতে হবে, কী ভাবে বুথ দখল করতে হবে, তার প্রশিক্ষণ হচ্ছে।”
আরও পড়ুন:
এ রাজ্যে এসআইআর শুরুর সময় থেকেই কমিশন এবং বিজেপিকে একযোগে তোপ দেগে আসছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা। সম্প্রতি রাজ্যের আমলা এবং পুলিশকর্তা বদল নিয়েও একাধিক বার নিশানা করেছেন কমিশনকে। বিজেপির সঙ্গে কমিশনের আঁতাঁতের অভিযোগও উস্কে দিয়েছেন। এ বার সেই অভিযোগে মমতা পাশে পেলেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র অন্যতম শরিক নেতা অখিলেশকেও। এর আগে এসআইআর-প্রসঙ্গেও মমতার পাশে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। গত জানুয়ারিতে কলকাতায় এসে তিনি বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গকে নিশানা করেই এসআইআর করা হয়েছে। তৃণমূলনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘‘গোটা দেশে কেউ যদি বিজেপি-কে মোকাবিলা করে থাকেন, তা হলে সেটা করছেন এখানকার (পশ্চিমবঙ্গের) মুখ্যমন্ত্রী।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
১৭:১৭
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ -
দিকে দিকে আক্রান্ত বাম-বিজেপি-তৃণমূল! খাস কলকাতায় চলল বুলডোজ়ার, বসিরহাটে জখম পুলিশ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত
-
সিসিটিভি বন্ধ করে গণনাকেন্দ্রে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ মমতার! ‘অসত্যভাষণ’ বলে ওড়ালেন নির্বাচনী আধিকারিক