ভোট মিটলেও অশান্তি থামছে না। বুধবারও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিংসার ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ। কোথাও কোথাও আবার কার্যালয়ের সামনে লাগানো তৃণমূলের পতাকা এবং ব্যানার-বোর্ড খুলে ‘দখল’ নেওয়ারও অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। তবে ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে কড়া পুলিশ। তারা জানিয়েছে, কোনও রকম হিংসার ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। বিজেপির তরফে বিবৃতি দিয়ে অভিযোগ করেছে, তারা ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। হিংসার নেপথ্যে রয়েছে, তৃণমূলের ‘গুন্ডা বাহিনী’!
অশান্ত ক্যানিং!
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পশ্চিমের নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাখালতলা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। বুধবার সকাল থেকেই পঞ্চায়েত দখলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ওই এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পৌঁছোতেই তাঁদের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। পুলিশের একাধিক গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। ইতিমধ্যেই অন্তত ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ, রাতারাতি দল বদলে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন তৃণমূল নেত্রী রহিমা লস্কর ওরফে বেবি। বুধবার তাঁর নেতৃত্বে এলাকায় ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানো হয় বলে অভিযোগ। তৃণমূল নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলারও অভিযোগ উঠেছে। আটক করা হয়েছে বেবিকেও।
খড়্গপুরে তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর!
অশান্তির ছবি দেখা গেল খড়্গপুরেও। খড়্গপুর গ্রামীণ বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, যাঁরা এলাকায় অশান্তি ছড়াচ্ছেন, তাঁরা বিজেপির কেউ নন। আগে তৃণমূলে ছিলেন। রাতারাতি বিজেপির পতাকা হাতে নেমে পড়েছেন। তাঁদের সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।
কড়া পুলিশ
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় ভোট-পরবর্তী অশান্তির অভিযোগ উঠে এসেছে। এ অবস্থায় বুধবার বিকেলে রাজ্য পুলিশের সদর দফতর ভবানী ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে বসেন ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। তিনি জানান, গত কয়েক দিনে কয়েক জায়গায় গোলমাল হয়েছে। সিদ্ধনাথ জানান, ভোট-পরবর্তী সময়ে মোট ২০০টি এফআইআর হয়েছে। তার ভিত্তিতে ৪৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে প্রায় ১১০০ জনকে আটক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর হয়েছে পুলিশ। রাজ্যবাসীকে আইন নিজেদের হাতে না তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ প্রধান সিদ্ধনাথ। রাজ্যের সাধারণ জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতেই পারে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে, সেটি থানায় জানান। আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।”
জেসিবি-উদ্যাপন নয়!
জেসিবি নিয়ে মিছিল করা যাবে না। জানিয়ে দিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। একই সঙ্গে তিনি এ-ও জানান, যে সমস্ত জেসিবি-র মালিক এগুলি ভাড়া দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে। শুধু কলকাতা পুলিশ নয়, গোটা রাজ্য জুড়েও একই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বুলডোজ়ার নিয়ে কাউকে ভয় দেখানোর চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। এর বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে কিছু লোক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যে তাঁদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
জেলায় জেলায় বার্তা পুলিশের!
ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে কড়া পদক্ষেপ করার বার্তা দিয়েছে পুলিশ। বুধবার রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক বৈঠক করেন পুলিশ সুপারেরা। সেখানে রাজনৈতিক রং না-দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করার কথা বলা হয়েছে। কোথাও কোনও বেনিয়ম দেখলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
বিজেপির দাবি!
ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় তাঁদের দলের কোনও হাত নেই! বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই জানান বিজেপি নেতা দেবজিৎ সরকার। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি-কে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আশীর্বাদ করেছে। সেই কারণে এখানে বড় জয় এসেছে। তার পরেই অন্য দলের লোক, প্রধানত তৃণমূলের লোকেরা রাতারাতি বিজেপির নেতা বা কর্মী বলে পরিচয় দিচ্ছেন। বিজেপি এই জিনিস হয় না। বিজেপিতে স্বঘোষিত বিজেপির জায়গা নেই। এ ভাবে কেউ বিজেপিতে যুক্ত হতে পারে না।’’ তিনি আরও জানান, যাঁরা তৃণমূলের জামা পড়ে এত দিন মানুষকে অত্যাচার করেছেন, তাঁদের এ ভাবে বিজেপিতে জায়গা হবে না।