E-Paper

তালিকায় নাম বাদ, ডাক ভোটের কাজে

খসড়া ভোটার তালিকাতেই নাম বাদ পড়েছিল মেদিনীপুর শহরের প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক প্রসেনজিৎ চক্রবর্তীর। এ দিন তিনি ভোটকর্মী হিসাবে নিযুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণ শিবিরে যাওয়ার চিঠি পান বলে দাবি।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ০৫:০৬

—প্রতীকী চিত্র।

বাংলার ভোটে নিরাপত্তা দেওয়ার কাজে তাঁকে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই সিআরপিএফ জওয়ানেরই নাম বাদ কমিশনের প্রকাশিত অতিরিক্ত তালিকায়। বীরভূমের সিউড়ি ২ ব্লকের অনন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ নজরুল ইসলাম ১৯৯৪ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী। কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআরপিএফের জওয়ান হিসাবে গত দু’বছর ধরে ছত্তীসগঢ়ে কর্মরত। এই মুহূর্তে ভোটের ডিউটিতে এ রাজ্যের মালদহে রয়েছেন। নজরুল একা নন, ভোটকর্মী হিসাবে প্রশিক্ষণের ডাক পেয়েছেন এমন অনেকে, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বা ‘বিবেচনাধীন’ রয়েছে মঙ্গলবারেও। মেদিনীপুর শহরের এক শিক্ষক তেমন ডাক পেয়ে নির্বাচন কমিশনকে বিঁধে বলেন, ‘‘আমি ভোটের কাজে গেলে, সে ভোটে কি স্বচ্ছতা থাকবে!’’

সিউড়ির জওয়ান নজরুল জানান, তথ্যগত অসঙ্গতির জন্য প্রথমে শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘নিজে সশরীরে হাজিরা না দিলেও ভাইয়ের হাতে যাবতীয় নথি পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারপর বিবেচনাধীন তালিকায় নাম ওঠে। মঙ্গলবার দেখি নামটাই বাদ দিয়ে দিয়েছে।’’ তাঁর ক্ষোভ, ‘‘২০০২-এর তালিকায় আমার নাম ছিল। তিন দশকের বেশি আমি দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছি। সেখানে আমার নামই বাদ!’’

খসড়া ভোটার তালিকাতেই নাম বাদ পড়েছিল মেদিনীপুর শহরের প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক প্রসেনজিৎ চক্রবর্তীর। এ দিন তিনি ভোটকর্মী হিসাবে নিযুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণ শিবিরে যাওয়ার চিঠি পান বলে দাবি। প্রসেনজিৎ বলেন, ‘‘নতুন করে নাম তোলার জন্য ফর্ম-৬ পূরণ করেছি। আবেদন গৃহীত হয়েছে, না নাকচ—জানতে পারিনি।’’ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এ দিন প্রসেনজিৎ জেলা নির্বাচন দফতরে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ‘‘সদুত্তর মেলেনি।’’

ভোটকর্মী হিসাবে ডাক পেলেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে বীরভূমের নলহাটি ২ ব্লকের বাঁধখোলা গ্রামের মহম্মদ এনামুল হকের। নলহাটি পূর্ব চক্রের হামিদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল দেড় দশকে বহু বার ভোটকর্মীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এ বারও ‘ফার্স্ট পোলিং অফিসার’ হিসাবে দায়িত্বে পালনের চিঠি পেয়েছেন তিনি। ২৭ মার্চ প্রশিক্ষণে যেতেও বলা হয়েছে তাঁকে। দাবি, নামের বানানে অসঙ্গতি থাকায় তিনি ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন। সেখানে পাসপোর্ট-সহ নানা নথি জমা দেওয়ার পরেও কমিশনের তালিকায় নাম ‘বিবেচনাধীন’ ছিল। কিন্তু এ দিন সকালে জানতে পারেন, অতিরিক্ত তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়েছে। তাঁর ক্ষোভ, ‘‘এ ভাবে নাম বাদ দেওয়া সামাজিক ভাবে হেনস্থাকরার শামিল!’’

মুর্শিদাবাদের লালগোলার জেলা পরিষদ ডাক বাংলো বুথের ভোটার লস্করপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহম্মদ জাহাঙ্গির আলমও এ দিন ‘প্রিসাইডিং অফিসার’ হিসাবে প্রশিক্ষণের চিঠি পেয়েছেন। তবে তাঁর নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’। তাঁর ক্ষোভ, ‘‘এখনও আমাদের বুথের অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ হল না। আমার নাম ভোটার তালিকায় বিবেচনাধীন। অথচ, আমার নেতৃত্বে বুথে ভোট করতে হবে বলে নির্বাচন কমিশন আমাকে প্রিসাইডিং অফিসার করতে চাইছে। এটা দ্বিচারিতা নয়?’’

ভোটে সিপিএম প্রার্থী, আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এ দিন সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানির পরে জানিয়েছেন, তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ থাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষের অধিকার হরণ হচ্ছে, নানা সমস্যা থাকছে এবং এ অবস্থায় ভোট হওয়া অনুচিত, সে বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আদালতও সময় মতো তালিকার নিষ্পত্তি করার কথা ফের বলেছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

SIR Election Commission

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy